বিচার বিভাগ কেন পৃথক হয়না?

দাঁড়ি-টুপী পরিহিত, পরহেজগার, তাবলিগী মুসলমান। আইন মন্ত্রনালয় থেকে উচ্চ আদালতের সবাই তাকে একবাক্যে সৎ বলে জানেন। অথচ তিনিই দেশের আইন, সুপ্রীম কোর্টের সার্কুলার মোতাবেক ভয়ানক অসৎ।

বছরে ২০০কার্য্যদিবস ধরে প্রতি কার্য্যদিবসে সাড়ে ৬ঘন্টা বিচারিক(এজলাস) সময় হিসাবে দেড় বছরে ৩০০কার্য্যদিবসX৬.৫০ঘন্টা=১৯৫০ঘন্টা।

[দ্রস্টব্যঃ-http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-04/news/98691

সময়সূচি মেনে চলতে বিচারকদের প্রতি প্রধান বিচারপতির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৪১০২০১০

…………….. 
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। তবে বিচারকাজ সাড়ে নয়টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে। তবে দুপুরে আধাঘণ্টা মধ্যাহ্নবিরতি আছে।]

কিন্তু  দেড় বছরে(জুলাই ২০১৫-২০১৬) …………এজলাস করেছেন সর্বোচ্চ ৩০০ঘন্টা। অর্থাৎ তিনি (৩০০÷১৯৫০)×১০০=১৫.৩৯%(ধরি ১৬%, ধরি ২০%) এজলাস করেছেন এবং ন্যুনতম ৮০% কাজ না করে সরকারী বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা আত্মসাৎ করেছেন।

নিজ চোখে দেখা আমাদের এই হিসাব যদি ভূল হয়, তাহলে- জেলাজজ, যদি

(ক) মা-বাপের বৈধ সন্তান হন,

(খ) মুসলমান হন,

(গ) পরহেজগার হন,

(ঘ) সৎ বিচারক হন (আপাতত : এর সবগুলো না হলেও ন্যুনতম যেকোন একটি হলেও চলবে), তাহলে তিনি নিজেই বলুন তিনি কতদিন, কত ঘন্টা এজলাস করেছেন।

এভাবে ন্যুনতম ৮০% কাজ না করে সরকারী বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা আত্মসাৎ করা দুর্নীতি এবং মহাপাপ নহে কি? …. ট্রাইব্যুনাল, সিলেট যে মহাদুর্নীতি, মহাপাপ করছেন তা কি তিনি জানেন, বুঝেন? তাবলীগ আর এজলাসের সময় খাস কামরায় নামাজ পড়লে কি এ পাপ মাফ হবে? আমাদের মনে হয়না।

অনুসন্ধান/তদন্তের সময়ে নির্দোষ লোককে ফাঁসানোর হীন উদ্দেশ্যে কিসসা-কাহিনী বানিয়ে মামলা রুজু করা হয় ও অপ্রয়োজনীয় ২৯জন (অনুসন্ধান/তদন্তকারীসহ ৩৩জন) স্বাক্ষীর সৃষ্টি করা হয়, যাদের কেহই ঘটনা স্বচক্ষে দেখেনি, নিজ কানে শুনেনি, নিজ ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করেনি।(স্বাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০দ্রস্টব্য)। কোর্টেও স্বাক্ষীরা কেহ অনুরূপ বলেনি। বহু তদবীর করে স্পেশাল ২১/০৯নং মামলায় ৩১-৮-২০১৫তাং, স্পেশাল ২৩/০৯নং মামলায় ০৬-১০-২০১৫ইং স্বাক্ষী ক্লোজ করা হয়। আসামীরা ৩৪২ধারায় কোন বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি। ফলে তৎপরবর্তী তারিখসমুহ শুধু ”আর্গুমেন্ট”-এর জন্য নির্ধারিত ছিল।

প্রতিটি মামলাতেই ১টি করে ২টি ডকুমেন্টের উপরই মামলার আর্গুমেন্ট, যাতে মোট ৫(পাঁচ)মিনিট সময়ও লাগবেনা। কিন্তু ০৬-১০-২০১৫ইং তারিখের পর থেকে মামলার তারিখের দিনগুলোতে জজ থাকলে পিপি থাকেনা, পিপি থাকলে জজ থাকেনা। কন্টিনিউয়াস হিয়ারিংয়ের বিধান থাকলেও তা অনুসরন করা হয়নি।  এখানেই শেষ নহে, ৩বছরের অধিক পুরনো মামলায় সংক্ষিপ্ততম বিরতিতে বা এক মাসের কম সময়ের বিরতিতে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারনের মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ থাকলেও বিচারক দেড়-পৌনে দুই-দুই-আড়াই মাসের বিরতিতে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেই ক্ষান্ত হননি, বস্তুত: ০৬-১০-১৫থেকে ২৮-১১-২০১৬ (মামলার সর্বশেষ তাং) পর্যন্ত মামলার কার্য্যক্রম প্রায় zero(শূন্য)। এভাবে বিচারক মাননীয় সুপ্রীমকোর্টের আদেশ লংঘন করেন, যা দুর্নীতির সংজ্ঞা মোতাবেক বিচারকের দুর্নীতি।

৩০-১১-১৬ তারিখে সোয়া দুই ঘন্টায় তিনি দুটি মামলার আর্গুমেন্টের শুনানী করেন। ০১-০১-১৬ থেকে ৩০-১১-১৬ পর্যন্ত তিনি উপরের হিসাবমতে ন্যুনতম ১০৪০ ঘন্টা, ধরি ১০০০(এক হাজার) ঘন্টা ফাঁকি দিয়েছেন। যেহেতু তাহার হাতে কাজ করার মত ন্যুনতম ১০০০ঘন্টা সময় ছিল, যেহেতু এ সময়ে স্বাক্ষী হাজিরের বিষয় ছিলনা, যেহেতু এসময়ে আসামীপক্ষের উকিল শুনানীতে প্রস্তুত/হাজির ছিলেন, সেহেতু, বিচারক ১৫দিনের ব্যবধানে ৩বারে পিপিকে ৪৫দিনে সময় দিয়ে  এবছর(২০১৬) ফেব্রুয়ারী-মার্চেই মামলা ২টি তিনি নিষ্পত্তি করতে পারতেন। এভাবে আরো অনেক মামলা নিষ্পত্তি করতে পারতেন।

দুদকের পিপি প্যানেলে ৪জন উকিল ও বিচারকের কোর্টে মাত্র মূল  প্রায় ১০০মামলা(আপীল, মিস আপীল, রিভিসন-এর মত সংক্ষিপ্ত চলমান মোট ৪০০-৫০০মামলা) হওয়া সত্বেও পিপিদের সময় না পাওয়া এবং বিচারক মাননীয় সুপ্রীমকোর্টের আদেশ লংঘন করা তাদের দুর্নীতি বই আর কিছুই নহে।

কন্টিনিউয়াস হিয়ারিং না করা ও এক মাসের বেশী সময়ের ব্যবধানে তারিখ ফেলা ও সে তারিখেও কোন কাজ না করা বিচারকের ভয়ানক দুর্নীতি। বিচারকের এ দুর্নীতি তদন্তে official formality-তে কিছুদিন সময় লাগলেও  তদন্ত কমিটি কর্তৃক অপরাধ নির্ধারন করতে কয়েক ঘন্টা সময়ই যথেষ্ট। কিন্তু কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিনের কাজ এক যুগেও হয়না। (দ্রস্টব্যঃ- ৪৯ বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত ঝুলে আছে-http://bangla.samakal.net/2016/09/07/236029– ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত এই অভিযোগগুলো মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে)।

………. যা করেছে এবং এখনও করছে তা severe violation of supreme court‘s circular, contempt of courts, insubordination, negligence =corruption. বিচার বিভাগ পৃথক হলে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে  action হত। কিন্তু তা(বিচার বিভাগ পৃথক) না হলে তার বিরুদ্ধে কোন action হবেনা।

শত শত বিচারক আছে যারা এরূপ করাপসন করছে। উপরন্তু অন্ততঃ ১০হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে যারা কেহই কখনও চায়না বিচার বিভাগ পৃথক হোক। তা হলে(বিচার বিভাগ পৃথক) তারা …………. মত বেপরোয়া দুর্নীতি করতে পারবেনা। শত শত বিচারক আছে যারা বিবেকের তাড়নায় সবসময়েই সৎ(বিচার বিভাগ পৃথক হলেও না হলেও)।

এসব  অসৎ বিচারক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আরও কিছু অদৃশ্য হস্তক্ষেপে বিচার বিভাগ পৃথক হচ্ছেনা বা এর আলাদা সচিবালয় হচ্ছেনা।

Related posts