নুরুল ইসলামের পাওনা টাকা,  আমাদের কতিপয় রাজনীতিবিদ এবং সরকারী কর্মকর্তা।

নুরুল ইসলাম  এক লোকের কাছে বেশ কিছু টাকা পেতেন(সত্য ঘটনা)। কিন্তু আদায় করতে পারছিলেন না। সরল বিশ্বাসে দেওয়া টাকার কোন স্বাক্ষ্য প্রমানও নেই যে মামলা করে আদায় করবেন। তো কারো পরামর্শে তিনি টাকা আদায়ের জন্য এক প্রভাবশালী লোকের(আমাদের দৃষ্টিতে মাস্তান) স্মরনাপন্ন হলেন। সেই প্রভাবশালী লোক দেনাদারের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বাকী টাকা মাফ করে দিয়ে এসেছে। হতে পারত সে(প্রভাবশালী লোক) সুদ-মুনাফার কিছু টাকা খেয়ে, সুদ-মুনাফার আর কিছু টাকা অথবা সুদ-মুনাফার সব টাকা মাফ করে পাওনাদারের পূরো আসল টাকা আদায় করে দিতে পারত। সে(প্রভাবশালী লোক) এটাও করতে পারত যে, পাওনাদারকে বুঝিয়ে আসল টাকার কিছু অংশ মাফ করে দিয়ে বাকী টাকা আদায় করে দিত। তা না করে সে(প্রভাবশালী লোক) কিছু টাকা নিয়ে বাকী টাকা মাফ করে দিয়েছে মানে দেনাদারকে আর কোন টাকাই দিতে হবেনা এবং দিতে হয়ওনি।

আশুগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে মহানগর ট্রেনের প্রথম শেনীতে ভাড়া দিয়ে ভ্রমন করতে গিয়ে দেখি যে, আমার মত ২-৩জন ব্যতীত বাকী সবাই বিনা টিকেটের যাত্রী এবং তারা ২৫০টাকা ভাড়ার যায়গায় মাত্র ২০-৩০টাকা টিটিই-কে দিয়ে দিব্যি সীট দখল করে ভ্রমন করছে। এবং এত অল্প টাকায় প্রথম শ্রেনীতে ভ্রমন করতে পারলে বেশী টাকা দিয়ে শোভন/সুলভ শ্রেনীতে ভ্রমন করবে কেন? শোভন/সুলভ শ্রেনীর তৎকালীন(২০০৩-৪সাল) ভাড়া সম্ভবত ৬০-৭০ টাকা ছিল। তাজ্জবের বিষয় হচ্ছে যে, শোভন/সুলভ শ্রেনীতে তেমন কোন ভীড় ছিল না বা দাঁড়ানো যাত্রী ছিলনা। কারন শোভন/সুলভ শ্রেনীর চেয়ে কম টাকায় দাাঁড়িয়েও যদি প্রথম শ্রেনীতে দাাঁড়িয়ে বা বসে আরামে ভ্রমন করা যায়, তাহলে বেশী টাকায় শোভন/সুলভ শ্রেনীতে মানুষ যাবে কেন?

নুরুল ইসলাম  যেমন সব টাকা মার যায়, তেমনি প্রভাবশালী লোকের কারনে (দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ- যারা দুর্নীতি করে)  সরকারের সব টাকা মার যায়। নিজেরা কিছু খেয়ে  বাকীটা মাফ করে দেয়।

Related posts