পদ্মা সেতু, বিদ্যুৎ ও দুর্নীতি

দেশে বিদ্যুতের প্রচুর চাহিদা, জনসংখ্যার তূলনায় অবকাঠামোর প্রচুর অভাব। নির্বাচনী ইশতেহারে থাকুক বা না থাকুক, জনগনের সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করা রাস্ট্র/সরকার প্রধানের দায়িত্ব। ভোটের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে পৃথিবীর সকল দেশেই বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যতিক্রম নহেন।

সাবেক সাংসদ জনাব গোলাম মাওলা রনি “তারা পারেন, অথচ অন্যরা করেন না ” শিরোনামে একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, “…কিছু মানুষ ভালো কাজ করেন মূলত দুটি কারণে। প্রথমটি হলো— নিজের ব্যক্তিগত সুনাম, সমৃদ্ধি, প্রচার, প্রপাগান্ডা এবং লাভের চিন্তা।…”  প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক অজয় দাশগুপ্ত “এ জগতে হায় সেই বেশি চায়…” প্রবন্ধে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লিখেছেন, “…  কিন্তু তিনি কাস্টমস অফিসারকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পণ্যটি ছাড়িয়ে আনলেন। এতে তার ব্যয় কম পড়ল ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা তিনি পণ্যটি বিক্রি করে নিজের পকেটে ভরবেন। তাহলে কে বেশি দুর্নীতিবাজ? আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যায়। একজন বিদ্যুৎ মিটার রিডারের কথা ধরা যাক। এক কারখানার বিদ্যুৎ বিল হয় মাসে দুই লাখ টাকা। মিটারে কারচুপি করে তিনি এ বিল করে দিলেন এক লাখ টাকা। এ বাবদ মালিকের ব্যয় কম পড়ল এক লাখ টাকা। এ থেকে তিনি মিটার রিডারকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিলেন। তা হলে কে বেশি দুর্নীতিবাজ?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন আকাংখাকে কাজে লাগিয়ে তথাকথিত কিছু “ভালো ব্যক্তি/কর্মকর্তা” শুভাকাংখী সেজে নিজের ব্যক্তিগত সুনাম, সমৃদ্ধি, প্রচার, প্রপাগান্ডা এবং লাভের চিন্তায় তাঁহাকে(শেখ হাসিনা) দিয়ে তথাকথিত “অনেক ভাল কাজ” করিয়ে নিচ্ছে। এদের উভয়ের “ভালো কাজের” সুযোগ নিচ্ছে অজয় দাশগুপ্ত বর্নিত দেশী/বিদেশী ব্যবসায়ীরা।

পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মাসেতু এবং এর উপর রেল লাইন, বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার ইত্যাদিতে যে ৩(তিন) লাখ কোটি টাকা(যা কালক্রমে কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে) ব্যয় ধরা হয়েছে, তা দেশের টাকায় প্রকৃত সৎ কর্মকর্তা দ্বারা করাতে পারলে এক তৃতীয়াংশ বা সর্বোচ্চ অর্ধেক টাকায় করা যাবে বা যেত।

Related posts