পেনড্রাইভের ভাইরাস ও দুর্নীতির ভাইরাসের আক্রমন।

পেনড্রাইভ থেকে কিছু প্রিন্ট করার আগে সাধারনতঃ দোকানের কর্মীকে জিজ্ঞেস করি তার কম্পিউটারে এ্যান্টি ভাইরাস সিস্টেম চালু আছে কিনা? কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ একদিন পরিচিত এক কম্পিউটার  দোকানে পেনড্রাইভটি ব্যবহার করি, যেটাতে এ্যান্টি ভাইরাস সিস্টেম চালু ছিলনা। ফলস্বরূপ আমার পেনড্রাইভে কয়েক হাজার ভাইরাস ঢুকে যায়। বহুবার স্ক্যান এমনকি formatting(সকল ডকুমেনট বা তথ্য পূরোপূরি delete করে ফেলা) সত্বেও পেনড্রাইভটি এ্যান্টি ভাইরাস সিস্টেমযুক্ত কম্পিউটারে যুক্ত করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার  হাজার হাজার ভাইরাসের সৃষ্টি হয়। এমনকি  এ্যান্টি ভাইরাস সিস্টেমযুক্ত কম্পিউটারেও ভাইরাস আক্রমন করে এবং তা আমার অন্য পেনড্রাইভেও আক্রমন করে। বহু কষ্ট করে বর্তমানে কিছুটা ভাইরাসমুক্ত হলেও ইতিমধ্যে আমার অনেক কষ্টের সৃষ্টি কিছু ডকুমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়।(আমি কিছুদিন পরপর ডকুমেন্ট ব্যাকআপ কপিসহ সিডিতে সংরক্ষন করে রাখি, তবে তা প্রতিদিন, সপ্তাহ মাসে সম্ভব নহে)।

নিয়মিত ধর্মকর্ম সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি, যা আশাকরি মহান আল্লাহ ক্ষমা করবেন। এছাড়া শিক্ষাজীবন শেষ করা পর্যন্ত একজন মানুষের যতটুকু ভালো হওয়া বা থাকা সম্ভব, আমি তাই ছিলাম। এটা সম্ভব হয়েছে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এবং আমার দেখা জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ সর্বোচ্চ সৎ আমার মহান শিক্ষকদের কারনে।

প্রাথমিক জীবন কেটেছে দেশের সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রায় ৩২বছরের চাকুরীজীবনও সরকারী প্রতিষ্ঠানে।  দুটি অঙ্গনই(শিক্ষা-চাকুরী) সরকারী এবং দেশের নামকরা। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্নীতির ভাইরাসমুক্ত(তৎকালে) ছিল বিধায় আমার জীবন বা দেহ দুর্নীতির ভাইরাসমুক্ত ছিল। চাকুরীজীবনে  প্রবেশের প্রক্কালে বা পরে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ময়লাভর্তি ডাস্টবিন বা ড্রেন, যেখানে অগনিত রোগজীবানু যেমন খালি চোখে দেখা যায়, সেখানে(সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে) অগনিত দুর্নীতির ভাইরাসও খালি চোখে দেখা যায়।

যে কাপড় যত শুকনো সে কাপড় পানি বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে ততবেশী পানি বা আর্দ্রতা শোষন করে। যে কাপড় যত পরিষ্কার সে কাপড় ময়লার সংস্পর্শে তত দ্রুত বা বেশী ময়লাযুক্ত হয়। শিক্ষাজীবনে মেধাবী ছাত্র ছিলামনা, তবে অত্যন্ত ভাল ও ভদ্র ছিলাম, প্রিয় শিক্ষকদের প্রিয় ছাত্র ছিলাম। ফলে শুকনো এবং  পরিষ্কার কাপড়ের মত দুর্নীতি ও দুর্নীতির ভাইরাসমুক্ত ছিলাম। যখনই চাকুরী জীবনে প্রবেশের চেষ্টা করি এবং চাকুরী শুরু করি তখনই ভাইরাসমুক্ত পেনড্রাইভে অসংখ্য দুর্দমনীয় ভাইরাসের আক্রমনের মত আমার জীবনে ও দেহে দুর্নীতির ভাইরাসের আক্রমন হতে থাকে যা শত চেষ্টা করেও মুক্ত হতে পারছিনা। পেনড্রাইভ ফেলে দিলে ভাইরাসের আর কার্য্যকারীতা থাকেনা। কিন্তু মৃত্যু বা আত্মহত্যা ছাড়া আমার জীবনে আক্রান্ত দুর্নীতির ভাইরাস থেক মুক্ত হওয়ার আর কোন পথ আমি দেখিনা।

Related posts