প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভ্যাট  

আমাদের দেশের কতিপয় ব্যক্তি ও সরকারী প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, REHAB, BLDA-এর কতিপয় ব্যক্তি ও কর্মকর্তার মনে হয় রাতে ঘুম হয়না এদেশের, বিশেষ করে ঢাকাবাসীর বাসস্থানের চিন্তায়। তাই তারা খাল বিল নদী নালা প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার, পানি প্রবাহ, বন্যা প্রবাহ এলাকা নির্বিচারে ভরাট করে ফেলছে এবং তা করার জন্য প্রকাশ্য অনুমতি, নিরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যদি ১০% ভূমিও বাসস্থানের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলেও আমরা দেখি যে, DAP তথা রাজউকের ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৮(আট)কোটি লোকের বিলাসবহুলভাবে (with all amenities)বসবাস সম্ভব। এবং নূতন করে আর কোন খাল বিল নদী নালা প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার, পানি প্রবাহ, বন্যা প্রবাহ এলাকা  ভরাট করার প্রয়োজন নাই।(দ্রস্টব্য:-বাসস্থান এবং বাসস্থান নির্মানের ভূমি)।

অনুরূপভাবে প্রাইভেট বিশ্বদ্যিালয়ের কতিপয় মালীক, হবু মালীকেরও এদেশের লোককে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য যারপর নাই চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারাও প্রায় নির্ঘুম রাত কাটান। উভয়েরই(আবাসনের ব্যবস্থাকারী ও প্রাইভেট বিশ্বদ্যিালয়ের মালীক) উদ্দেশ্য মহৎ, কিন্তু কার্য্যপ্রনালী সিংহভাগেরই অসৎ ও দূরভিসন্ধিমূলক।

সিটি এলাকাগুলোতে বর্তমানে সরকারী/আধাসরকারী প্রাইমারী স্কুল নাই বললেই চলে। তারপরও যেগুলো আছে সেগুলো এবং গ্রামেগঞ্জের সরকারী/আধাসরকারী প্রাইমারী স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ কয়েক বিঘা থেকে শুরু করে কয়েক একর জমির উপর স্থাপিত। এসব স্কুল কলেজে পূর্নাঙ্গ ফুটবল/ক্রিকেট মাঠ দীঘি, পুকুরসহ চিত্তবিনোদনের প্রচুর সুযোগ সুবিধা, অবকাঠামো বিদ্যমান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশীরভাগই কয়েকশত একর বা কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে স্থাপিত।

প্রাইভেট কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কি আছে? বহু চাপাচাপির পর কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব বিল্ডিং নির্মান করলেও আর কি আছে? সিংহভাগ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মাছবাজার/কাঁচাবাজারের উপরে স্থাপিত। বনানীর কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এমনভাবে স্থাপিত যে, ক্লাশ আওয়ারে এর সামগ্রিক এলাকা বঙ্গবাজার হকার মার্কেটের রূপ লাভ করে। যারা এসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালীক, তারা অবশ্যই বহু কোটি টাকার মালীক। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে তারা আইন কানুন মেনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করুন। যদি তা করেন তাহলে, নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে, ২-৪-৬ বা ততোধিক আইন অমান্য করে টাকা রোজগার করার প্রয়োজন কি?  আর টাকা রোজগার করতে না পারলে অসুবিধা কি?  এত অনিয়ম করে টাকা রোজগার করার কারন কি?

পরিবেশ, চিত্তবিনোদন, ইত্যাদি বজায় রেখে দেশীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে ন্যুনতম শতকোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানের সিংহভাগ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করেনি। বেশীরভাগ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া বাড়ীতে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে “ব্যবসা” শুরু করলেও শুরুতেই ছাত্রদের কাছ থেকে তার বহুগুন উশূল করে ফেলে। ফলে তারা শতকোটি টাকার স্থলে বিনা পয়সায় “ব্যবসা” শুরু করে। এবং এ “ব্যবসা” মহালাভজনক “ব্যবসা”।

যেহেতু শতকোটি টাকার স্থলে বিনা পয়সায় তারা(প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালীকরা) “ব্যবসাশুরু করেছে, তাই ছাত্রদের কাছ থেকে নহে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালীকদের কাছ থেকে বকেয়াসহ ১৫%-২০% হারে ভ্যাট আদায় করতে হবে।

ভ্যাট আদায় করলেই হবেনা, ভ্যাটের কত টাকা আদায় হয়েছে, কোন খাতে, কিভাবে তা ব্যয় হবে তারও সঠিক দিক নির্দেশনা থাকতে হবে।

Related posts