বাঙ্গালীর আত্মপরিচয়, বিবর্তিত মূল্যবোধ, এবং ……….

প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক, যাদের কেহ কেহ সাবেক ও বর্তমান পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, কলেজ অধ্যক্ষ, ব্যারিস্টার তাদের লিখা দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয়/উপসম্পাদকীয়তে ৩১-১২-২০১৫ তারিখে ছাপা হয়। তার কয়েকটি এরূপ-বাঙ্গালীর আত্মপরিচয়:আতাউর রহমান, রম্যলেখক৷ ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক৷ বিবর্তিত মূল্যবোধ-অমিত রায় চৌধুরী: অধ্যক্ষ, ফকিরহাট ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, বাগেরহাট।বিভ্রান্তির কীট পচন ধরিয়েছে আমাদের তথ্য সম্পদেঃ ড. সা’দত হুসাইন,  সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।জনসংখ্যা বাড়ছে, কমছে মানুষ : ডক্টর তুহিন মালিক, সুপ্রিমকোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ। ঘুষ দেব না, খাব না এবং ভোগান্তি:মোস্তাফিজুর রহমান, ব্রিসবেন (অস্ট্রেলিয়া) থেকে ।

বাঙ্গালীর আত্মপরিচয়ের, অবনমিত মূল্যবোধ জানতে বেশী লিখাপড়ার, গবেষনার প্রয়োজন নেই। ১৭৫৭সালের মীরজাফর, ১৯৭২সাল ও তার পরবর্তী কয়েকবছরে রেশন, রিলিফ লুটপাটকারীই যথেষ্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাল ঘোড়া দাবায়া দেয়ার কথা কেন কার বিরুদ্ধে বলেছিলেন? যাদের বিরুদ্ধে বলেছিলেন, তারা পাকিস্তানী নহে। স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্ট কেন কার বিরুদ্ধে প্রনয়ন করেছিলেন? যাদের বিরুদ্ধে করেছিলেন, তারা পাকিস্তানী নহে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যেরূপ লুটপাট, খুন, ধর্ষন, ইত্যাদির প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তাতে ইহাই প্রমানিত “তোরা পাকিস্তানীরা কে”? আমাদের সম্পদ আমরা লুটপাট, খুন, ধর্ষন করব; তোরা পাকিস্তানীরা কে? স্বাধীনতার পর লুটপাটে, ক্ষমতারোহনে যারা বঞ্চিত হয়েছে, তারা যদি প্রকৃতই জানত যে, তারা লুটপাট ও ক্ষমতারোহন করতে পারবেনা, এবং স্বাধীনতা বিরোধীরা যদি প্রকৃতই জানত যে, তারা লুটপাট ও ক্ষমতারোহন করতে পারবে, তাহলে আজ মুক্তিযোদ্ধা(বা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবীদার) ও রাজাকারের অবস্থানই পাল্টে যেত। আজ যারা মুক্তিযোদ্ধা(বা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবীদার)তারা রাজাকারী করত অথবা নিরপেক্ষ থাকত। আর রাজাকাররা মুক্তিযুদ্ধ করত। অর্থাৎ রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধার(স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবীদার) অবস্থান ও সংজ্ঞাই পাল্টে যেত। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তাঁরা যদি জানতেন যে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এরূপ লুটপাট হবে, রাস্ট্র, সমাজে, চাকুরীতে, ব্যবসায়ে, ইত্যাদিতে পাকিস্তানীরা যেরূপ বঞ্চনা, লাঞ্চনা করেছিল সেরূপ এক বাঙ্গালী আরেক বাঙ্গালীকে অনুরূপ বঞ্চনা, লাঞ্চনা করবে, তাহলে ইহা হলফ করে বলতে পারি যে, তারা(প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা) কখনই জীবনবাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেননা।

আমাদের এ লেখার মূল উদ্দেশ্য জনাব আতাউর রহমান সাহেবের উদ্ধৃত বহু শ্রুত একটি কৌতুকের পূনরাবৃত্তি- … কাঁপনের কি দেখছেন, প্রশ্ন করে দেখেন! বাঙ্গালীর সকল প্রকার অনৈতিকতার(যার মধ্যে দুর্নীতির জন্য নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা অন্তর্ভুক্ত)   কি দেখছেন, কোন সরকারী-বেসরকারী অফিসে সার্বক্ষনিক চাকুরী করে দেখুন, তখন বুঝতে পারবেন বাঙ্গালীর আত্মপরিচয় কাকে বলে, ইহা কত প্রকার ও কি কি?

Related posts