রাজউকঃ সততা ও অসততার ফসল

আমাদের দৃষ্টিতে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জনাব মুহম্মদ নুরুল হুদা এবং বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জনাব মুহম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূ্ঁইয়া (ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত) উভয়েই সৎ। কিন্তু বসুন্ধরা ও যমুনা গ্রুপের মালীকানাধীন কয়েকটি পত্রিকায় যেভাবে প্রথম জনের(জনাব  হুদা) দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখালেখি করে, তাতে তাদের মতে তিনি(জনাব হুদা) চরম অসৎ তথা দুর্নীতিবাজ। জনাব হুদা আইন অনুসরন করে তার স্ত্রীর নামে একটি প্লট নিয়েছেন, যেটা অনিয়ম হতে পারে, দুর্নীতি নহে। অনিয়ম আর দুর্নীতি এক নহে। তার পরও ইহা যদি দুর্নীতি হয় তাহলে তার(জনাব  হুদা)  শাস্তি হওয়া উচিৎ। মাননীয় আদালত তা নির্ধারন করবেন। এটা ছাড়া রাজউক চেয়ারম্যান হিসাবে প্রকৌশলী জনাব মুহম্মদ নুরুল হুদার সততা প্রশ্নাতীত।

বসুন্ধরা ও যমুনা গ্রুপের মালীকানাধীন পত্রিকাগুলো এখনও দ্বিতীয় জনের বিরুদ্ধে বা তাহার অসততা/দুর্নীতির বিষয়ে কিছু লিখেনি। এতে মনে হচ্ছে তাদের দৃষ্টিতে জনাব হুদা অসৎ এবং জনাব ভূইয়া সৎ। যদিও মাননীয় সুপ্রীমকোর্ট কর্তৃক সর্বশেষ রায় না দেওয়া পর্যন্ত কেহ অসৎ বা অপরাধী নহে এবং যেকোন স্তরের যেকোন বিচারক ব্যতীত অন্য কাহারও কাউকেই অপরাধী বলার আইনগত অধিকার নেই।

যদি ধরেই নিই যে জনাব হুদা অসৎ, তাহলে তিনি সরকারী মূল্যে ২৫-৩০লাখ (বাজার মূল্যে ২-৩কোটি) টাকার সম্পদ (একটি প্লট) নিয়েছেন, আত্মসাৎ করেননি। দুর্নীতি বা আত্মসাৎ এবং অনিয়ম এক নহে। কিন্তু তাহার এই তথাকথিত অসততা সত্বেও তিনি(জনাব হুদা) শুধু বসুন্ধরা বারিধারা আবাসিক প্রকল্প ও ইস্টার্ন হাউজিং-বনশ্রী, আফতাবনগরে বাজার মূল্যে ২৫-৩০হাজারকোটি টাকা (বসুন্ধরা ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের মূল্য তালীকা মোতাবেক) মূল্যের গভীর জলাভূমি, পানি প্রবাহ, বন্যা প্রবাহ এলাকা ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করেন। ১৯৮৭সালে ৩০৫একরের অনুমোদন নিয়ে ২০১৩সাল পর্যন্ত বসুন্ধরা বারিধারা প্রকল্পে কয়েক হাজার একর বিক্রী করে ফেললেও ১০০০একরের বেশী ভরাট করতে পারেনি। কিন্তু জনাব হুদার ক্ষমতা ত্যাগের ২-৩মাস পর থেকে শুরু করে বসুন্ধরা বারিধারা ও ইস্টার্ন হাউজিং আফতাবনগরে ২০-২৫বছরে যা পারেনি, ১-দেড় বছরে তার কয়েকগুন গভীর জলাভূমি, পানি প্রবাহ, বন্যা প্রবাহ এলাকা প্রায় ১০০০%(একহাজর ভাগ) অবৈধভাবে ভরাট করে ফেলে। প্রায় ১০০০% বলা হয়েছে এজন্য যে, এটা করতে তারা শুধূ DAP(Detailed area plan) লংঘন করেনি, হাউজিং আইন, পরিবেশ আইন, প্রকৃতিক জলাধার আইন লংঘন, কম মূল্য দেখিয়ে রেজিস্ট্রেসন, ক্রেতা-বিক্রেতার আয়কর ফাঁকি, কালো টাকা আড়াল করার সুযোগ, ইত্যাদি, ইত্যাদি অবৈধ কাজগুলো  করেছে।  একই সময়ে (২০১৩সালের পরে ১-দেড়বছরে) অনুরূপ অবৈধ কাজ ইস্টার্ন হাউজিংও করেছে।

সততা এবং অসততার পার্থক্য আমাদের দৃষ্টিতেঃ- বর্তমান চেয়ারম্যানের(ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত) সততার ফলে দেশের অমূল্য পরিবেশের ক্ষতি, সাথে ২৫-৩০হাজার কোটি টাকার কয়েকহাজার একর জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলাধার, বন্যাপ্রবাহ/পানি প্রবাহ এলাকার ভূমি দুর্নীতির সাহায্যে ভরাট করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যানের অসততার ফলে ২৫-৩০লাখ টাকার(একটি প্লট) ক্ষতির বিপরীতে দেশের অমূল্য পরিবেশ রক্ষা, সাথে ২৫-৩০হাজার কোটি টাকার কয়েকহাজার একর জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলাধার, বন্যাপ্রবাহ/পানি প্রবাহ এলাকার ভূমি ভরাট হতে রক্ষা পেয়েছিল। কোনটা ভাল?

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত জনৈক বাংলাদেশী অধ্যাপক প্রথম আলোর সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, (বাংলাদেশে)দুর্নীতি কোন সমস্যা নহে, প্রয়োজন উন্নয়নমুখী প্রশাসন। স্থপতি ইকবাল হাবিবও প্রায় অনুরূপ কথা বলেছেন। তাঁরা বুঝাতে চেয়েছেন যে, ২৫-৩০লাখ টাকার (উদাহরনস্বরূপ) ক্ষতি স্বীকার করে যদি ২৫-৩০হাজারকোটি টাকা রক্ষা করা যায় তাহলে তাই করা উচিৎ।

Related posts