ভাড়ায় খাটে বিচারক ও দুদক।

সিলেট, কুমারগাঁও, পিডিবির ভান্ডার(গুদাম বা স্টোর) থেকে একটি ট্রান্সফর্মার  ভান্ডার রক্ষক অবৈধভাবে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে ছাড়পত্রের (গেইটপাশ) মাধ্যমে প্রদান করে। কয়েক মিনিট সময়ে প্রকৃত দোষী-নির্দোষ প্রমানের জন্য ছাড়পত্রটিই যথেষ্ট। চাহিদাপত্র manipulation, fabrication করে আরেকটি ট্রান্সফর্মার  ভান্ডার রক্ষক অবৈধভাবে একই উপসহকারী প্রকৌশলীকে প্রদান করে। এক্ষেত্রেও  কয়েক মিনিট সময়ে প্রকৃত দোষী-নির্দোষ প্রমানের জন্য চাহিদাপত্রটিই যথেষ্ট। ভান্ডারের physical custodian ভান্ডার রক্ষক, stores manual, job description ও দপ্তরাদেশ মোতাবেক overall custodian ভান্ডার কর্মকর্তা।

উভয় ট্রান্সফর্মারের ক্ষেত্রে দুদক ২(দুই)টি মামলা করে। ভান্ডার রক্ষক,  উপসহকারী প্রকৌশলীকে মামলার আসামী করে। Stores manual, job description ও দপ্তরাদেশ মোতাবেক overall custodian ভান্ডার কর্মকর্তা হলেও, তার(ভান্ডার কর্মকর্তা) দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা থাকা সত্বেও তাকে(ভান্ডার কর্মকর্তা) আসামী করা হয়নি, এমনকি স্বাক্ষীও করা হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলীর সরাসরি কোন দায়িত্ব না থাকলেও এবং ছাড়পত্র ও চাহিদাপত্র manipulation, fabrication-এ কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্বেও, দায়িত্ব কর্তব্যে কোন অবহেলা না থাকা সত্বেও তাকে(নির্বাহী প্রকৌশলী) প্রধান(১নং) আসামী করা হয়। দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা থাকলে তা ফৌজদারী অপরাধ নহে, দেওয়ানী অপরাধ। দেওয়ানী অপরাধ থাকলে তা বিভাগীয় মামলায় সংশোধনযোগ্য। বিভাগীয় মামলায় ১নং আসামীকে(নির্বাহী প্রকৌশলী) দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অর্থাৎ নির্বাহী প্রকৌশলীর কোন দেওয়ানী অপরাধও নেই, অথচ সে ফৌজদারী মামলার ১নং আসামী।

২০০৯সালের ফেব্রুয়ারীতে থানায় করা মামলা ২টির চার্জশীট দেয়া হয় এবং ২০০৯সালের সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে সিলেটের বিভাগীয় স্পেশালজজ আমলে নেয় ও চার্জ গঠন করে। সূত্রঃ- স্পেশাল মামলা নং-২১/০৯, ২৩/০৯। সিলেটের বিভাগীয় স্পেশালজজ কোর্টে তৎকালে দুর্নীতির প্রায় ১৫০(একশত পঞ্চাশ)টি মামলা বিচারাধীন ছিল। দুর্নীতির মামলার স্বাক্ষীরা যেহেতু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, যেহেতু এদেরকে দুদকের কোর্ট-ইন্সপেক্টর-সহকারীর মাধ্যমে এবং ফৌজদারী কার্য্যবিধির ৭২ধারার সাহায্যে অতিসহজে হাজির করানো যায়, যেহেতু কন্টিনিউয়াস হিয়ারিংয়ের(একবার স্বাক্ষ্য শুরু হলে বিরতি বা মুলতবী ছাড়া তা অব্যাহত রাখা) বিধান আছে, যেহেতু বিভাগীয় স্পেশালজজ কোর্টগুলো মূলতঃ দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত, যেহেতু আসামী বা আসামী পক্ষের উকিলের মামলা নিষ্পত্তিতে প্রচন্ড আগ্রহ ছিল এবং তারা কোর্টে বহুবার জজকে মামলা নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ করেন, যেহেতু অন্যান্য কোর্টের সৎ, দক্ষ ও ন্যায়পরায়ন বিচারকগন স্বাক্ষ্যগ্রহন করে মাসে ২০-৫০টি মূল মামলা নিষ্পত্তি করেছেন(দ্রস্টব্য বিভিন্ন বিচারকের মামলা নিষ্পত্তির মাসিক সংখ্যা বা হার- http://corruptionwatchbd.com/48-2/  ), সেহেতু একোর্টের সকল মামলা ৬মাস-১(এক)বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি হত, সাথে এ মামলা ২টিও ২০১০-২০১১সালের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যেত। কিন্তু পরবর্তী তারিখ বিবেচনায়(২৮-১১-২০১৬) এ দুটি মামলা ২০১৬সালেও নিষ্পত্তি হবেনা।

শত্রুতা উদ্ধারে অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন দুদক ভাড়া খেটেছে(দ্রস্টব্যঃ- ভাড়া খাটল দুদক! –http://www.jugantor.com/old/last-page/2014/11/26/179601  ,) এক্ষেত্রেও তাই করেছে। বিচারকের ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ভাড়া খাটার কোন অভিযোগ এপর্যন্ত পাওয়া না গেলেও এ মামলা ২টিতে বিচারকের ঘুষ-দুর্নীতির ও ভাড়া খাটার  অভিযোগ প্রমানিত। নতুবা বর্তমানে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটে বিচারাধীন এদুটো মামলার(স্পেশাল মামলা নং-২১/০৯, ২৩/০৯) স্বাক্ষ্য যথাক্রমে ৩১-৮-২০১৫ ও ০৬-১০-২০১৫তে বিচারক কর্তৃক শেষ ঘোষনার পরও এখনও নিষ্পত্তি হচ্ছেনা কেন?

Related posts