রাস্ট্রের স্তম্ভ ও মানুষের মস্তিষ্ক।

ক্লাস সেভেনের ছাত্র আরিফের শারীরিক গঠন প্রায় টেন-ইলেভেন ছাত্রের মত এবং শক্ত-সুঠাম দেহ। বন্ধুদের কাছে পরে জানা যায় তার(আরিফ) মাথায় ক্রিকেট বলের আঘাত লাগে। ভয়ে মা-বাপের কাছে বলেনি। একসময় সে নিস্তেজ হয়ে যায়, স্বাভাবিক চলাফেরা কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। মেডিনোভা-এ্যাপোলো হসপিটালে নিয়েও বাঁচানো যায়নি। ওর মস্তিষ্কের একটি ক্ষুদ্র অংশ, প্রায় ৫% ড্যামেজ হয়ে গেছে। অলৌকিক বা কাকতালীয় বিষয় তার কিছুদিন পর আরিফের আপন ভাগ্নে ক্লাশ নাইনের ছাত্র হিরু মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যায়। উভয়েরই শরীরে  আঘাত বা কোন ক্ষত ছিলনা।

রক্তনালীতে চর্বি জমে তা ব্লক হয়ে যায়। এর ফলে হার্ট ফেল, স্ট্রোক করে মানুষ কয়েক মিনিটে মারা যায়।  মস্তিষ্কের ৫% বা পূরো মস্তিষ্ক, রক্তনালী বা পূরো হার্ট দেহের অতি ক্ষুদ্র অংশ। একাধিক হাত-পা বিহীন , পূরো হাত-পা বিহীনভাবে, একটি বা ২টি কিডনীবিহীনভাবে, যা শরীরের প্রায় ৪০-৫০%, মানুষ বেঁচে আছে।

সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ রাস্ট্রের মূল স্তম্ভ। এগুলো ব্রেন, হার্টের মত।  এগুলোর সম্পূর্ন বা বেশীরভাগ নষ্ট বা পঁচনের প্রয়োজন নেই। পূরো দেশ ও জাতির মৃত্যু বা ধ্বংসের জন্য এদের অতি ক্ষুদ্র অংশের পঁচনই যথেষ্ট। সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগের কতটুকু পঁচেছে তা তারা এবং দেশবাসী জানে। তবে যতটুকু বা যত অংশই হোকনা কেন এরা পঁচেছে, এটা নিশ্চিত।

দেশের বা সরকারের অভিভাবক মহামান্য প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী। ন্যায়নীতির অভিভাবক বিচারক। আমাদের দেশের বিচারকদের অতি ক্ষুদ্র অংশ হলেও পঁচেছে। এদের সবার পঁচার দরকার নেই। ব্রেনের মত এদের অতি ক্ষুদ্র অংশ পঁচলেই দেশে অশান্তি বিশৃংখলার জন্য যথেষ্ট। হয়েছেও তাই। নাহলে এদেশ বহু আগেই মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরের মত হয়ে যেত।

অনেকেই বলবেন দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। হ্যাঁ হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন চাচ্ছেন। (যদিও তাাঁহার এ চাওয়াকে পূঁজি করে চাটার দল ৭২-৭৫কেও শত সহস্রগুন হার মানিয়েছে)।

অনেকেই বলবেন দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। হ্যাঁ শান্তিতে আছে। কারন দেশের ন্যুনতম ১৫কোটি লোক চরম ধৈর্য্য-সহ্য করে দিনাতিপাত করছে। কেহ শা.. বললে তাকে দুলাভাই বলে ম্যানেজ করছে, গালি দিলে প্রশংসা করছে, ধর্ষন করলে নীরবে মেনে নিচ্ছে। কেননা সমাজে ও আদালতে বিচার পাবেনা। এভাবে শত সহস্র বিড়ম্বনা সহ্য করে এরা( ন্যুনতম ১৫কোটি লোক) “শান্তিতে(?)” আছে।

Related posts