লাজ লজ্জা ও নৈতিক অবক্ষয়

বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ০৯-৩-২০১৬তাং ”বাঘের সামনে রাজনীতি ও সমাজ” শিরোনামে একটি বিশেষ সম্পাদকীয় লিখেন। পাদটীকায় তিনি যা লিখেন তার আংশিক এখানে উদ্ধৃত করা হল।

”ঘুষ, দুর্নীতি, সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিক অবক্ষয় আগেও ছিল। এখনো আছে। কিন্তু এখন কেন এত ভয়াবহ। কেন বাড়ছে এর মাত্রা। আগে সবার মাঝে লাজ লজ্জা ছিল। এখন তাও নেই।  ….  … … মীর নাছিরের সময়ে কর্মকর্তার  চক্ষুলজ্জা ছিল। দরজা বন্ধ করেছিলেন। এখন এত রাখঢাক নেই। যার যা খুশী করছে। কেউ কাউকে মানেনা। কারও প্রতি কারও শ্রদ্ধা নেই। দয়ামায়া নেই। একটা ভয়ঙ্কর সময় পার করছি আমরা। এসময় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”

কিন্তু কিভাবে বের হব?

”আগে সবার মাঝে লাজ লজ্জা ছিল। এখন তাও নেই। ” এ বাক্য দুটির মধ্যেই অনেক তথ্য ও প্রশ্নের উত্তর নিহিত।  লাজ লজ্জা থাকা না থাকার কারন জানতে হলে “জারজ তত্ব(bastard theory)“ পড়তে হবে। জারজ আগেও ছিল এখনও আছে। তবে এখন তা(জারজের সংখ্যা) বেড়ে গেছে।

মদ বা মাদক খেয়ে মানুষ মাতাল হয় কেন? এগুলো মানুষের মস্তিষ্ক, স্নায়ুকে বিকৃত, দুর্বল করে ফেলে। যখনই মস্তিষ্ক, স্নায়ু বিকৃত, দুর্বল হয় তখন তাদের(মানুষের বা যেকোন প্রানীর) স্বাভাবিক বোধশক্তি/জ্ঞানশক্তি থাকেনা। যখনই তার(মানুষের) স্বাভাবিক বোধশক্তি/জ্ঞানশক্তি লোপ পায়, তখনই সে মাতাল হয় বা অস্বাভাবিক আচরন করে। রেলের মহাপরিচালক জানোয়ার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা উচ্চশিক্ষিত দোয়েল চৌধুরী নীতিবাক্য বলতে অজ্ঞান (সত্য ঘটনা কিন্তু দুজনের নামের আদ্যক্ষর পরিবর্তিত)। যখনই তারা মাতাল হয় দুজনই জানোয়ারে পরিনত হয়(ঘটনা গুলো আমাদের স্বচক্ষে দেখা)।

মানুষ থেকে জানোয়ারে পরিনত হওয়ার কারন মাদক। ৩০-৪০বছর পূর্ব হতে হেরোইন ছিল আমাদের দেশে অন্যতম প্রধান মাদক। কিন্তু উচ্চমূল্যের কারনে এটা অনেকের নাগালের বাইরে ছিল। তার পরে আসে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা, যা  হেরোইনের তূলনায় অনেক সস্তা ও সহজলভ্য। ফলে বস্তির শিশুসহ শহর/গ্রামের নানাবয়সী মানুষ এমনকি গ্রামের কূলবধূও এগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়ে।

ইয়াবার প্রধান দিক হচ্ছে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করা। এটা নেশারও সৃষ্টি করে। ফলে যৌনদুর্বল যুবক থেকে বিগতযৌবন বৃদ্ধও এতে আসক্ত হয় ও স্বাভাবিক বোধশক্তি/জ্ঞানশক্তি  হারিয়ে ফেলে। নারী পুরুষ ইয়াবার ছোবলে যৌন উত্তেজনায়  স্বাভাবিক বোধশক্তি/জ্ঞানশক্তি  হারিয়ে অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়। পুরুষরা উত্তেজিত হয়ে ধর্ষন-বলাৎকার করে।

যমজ বাচ্চার একটি অন্য পুরুষের বলে ভিয়েতনাম ও আমেরিকায় প্রমানিত হয়েছে। এটা প্রমানের কারন তাদের বাহ্যিক দৈহিক গঠন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষনায় প্রমানিত যে সন্তান ছেলে হবে কি মেয়ে হবে তা নির্ভর করে পিতার (জন্মদাতার) ‘Y’ ক্রোমোজমের উপর। আর পিতামাতার সাথে সন্তানের চেহারা, দৈহিক গঠনের সাজুয্যতো বৈজ্ঞানিকভাবে বহু পূবেই প্রমানিত। অর্থাৎ পিতা-মাতার গুনাবলীসমুহ সন্তানের মধ্যে থাকা inherent(স্বাভাবিক বা স্থায়ী অংশ বা গুনরূপে বিদ্যমান, সহজ, স্বাভাবিক, সাংসিদ্ধিক, অন্তঃস্থায়ী, অন্তঃশায়ী, আনুষঙ্গিক)।

নারী-পুরুষের লজ্জাস্থান তাহাদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে সংরক্ষিত ও গোপন স্থান। এটা যখন সে পর নারী-পুরুষের কাছে স্বেচ্ছায় উম্মুক্ত করে দেয় তখন  সে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্লজ্জ হয়ে যায়। নির্লজ্জরা নির্মম নিষ্ঠুর হয়। এ নির্লজ্জতা নির্মমতা নিষ্ঠুরতা জারজ সন্তানের মধ্যে inherently চলে আসে।

এজন্য আগে সবার মাঝে লাজ লজ্জা ছিল। এখন তাও নেই।

Related posts