সমশের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও যোগদান

সমশের মবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন, এজন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ চায়ের কাপে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু যখন তিনি বিএনপিতে যোগ দেন তখন ঝড় উঠেনি, যা উঠার কথা ছিল বা উচিৎ ছিল। মেধাবী ও চৌকষ ছাত্ররাই সেনাবাহিনীতে চান্স পায়। সমশের মবিন তাদেরই একজন। তিনি পররাস্ট্র সচিব হিসাবে অত্যন্ত মেধাবী ও সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যখন এসব পদে আসীন থাকেন, তখন সাধারন কোন সরকারী কর্মকর্তাতো দূরের কথা, কোন বিদেশী রাস্ট্রদূতও পূর্বানুমতি ব্যতীত তাহার সাথে(পররাস্ট্র সচিব)  সাক্ষাৎ করতে পারেননা। এসব পদে গোপনে, আড়ালে আবডালে দুর্নীতি আছে বা থাকতে পারে। তবে বাহ্যিকভাবে এপদগুলো অত্যন্ত ধোপদুরস্ত, neat & clean. সেই ধোপদুরস্ত neat & clean পদের একজন কর্মকর্তা তথাকথিত দেশ সেবার নামে, যে দলের ক্ষমতার আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ৪-৫বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, দলের ও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি, যিনি একজন আন্ডার-এইট পাশ, তাহার অধীনে দলে ও রাজনীতিতে যোগ দেন? যেখানে সাধারন কোন সরকারী কর্মকর্তাতো দূরের কথা, কোন বিদেশী রাস্ট্রদূতও পূর্বানুমতি ব্যতীত তাহার সাথে(পররাস্ট্র সচিব) সাক্ষাৎ করতে পারেননা, সেখানে তথাকথিত দেশ সেবার নামে রাস্তায় মিছিল করতে নেমে পুলিশ কনস্টেবলের লাথি গুঁতা খান, রাজনৈতিক কর্মী পরিচয়ে চোর, চোট্টা, চিঁছকে মাস্তান, সন্ত্রাসীর সাথে উঠা বসা করেন। দরকার কি তার এগুলো করার? প্রয়োজন কি? এগুলো না করলে তার অসুবিধা কি?

সমশের মবিন চৌধুরী মেধাবী ও চৌকষ ব্যক্তি ছিলেন, সেনা ও পররাস্ট্র দপ্তরের অভিজ্ঞতা তিনি দেশ সেবা্য় লাগাতে পারেন বা পারতেন। যদি তাই হয়, তাহলে তিনি ভারতের কেজরিয়াল ও গুয়াতেমালার সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেসের মত দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতিতে নামতে পারতেন।

বিকৃতরুচির, ব্যক্তিত্বহীন সামরিক বেসামরিক এরূপ আমলারা তথাকথিত দেশ সেবার নামে কয়েকটি দুর্নীতিবাজ দলকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। যেখানে তাদের এসব দলে যোগ দেওয়ারই কথা নহে, সেখানে পদত্যাগ করলে এত মাতামাতির কি আছে?

Related posts