বাংলাদেশের কেজরিওয়াল

বাংলাদেশেও কেজরিওয়াল  বা তার চেয়েও বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন লোক আছে বা থাকতে পারে। কিন্তু ভারতে একজনের ‘কেজরিওয়াল’ হয়ে ওঠা যত সহজ, বাংলাদেশে তত সহজ নহে। ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ‘গনতান্ত্রিক’ দেশ। সর্বোপরি সে দেশের বিচারবিভাগ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী। কেজরিওয়ালের অন্যান্য গুনাবলীর সাথে এই ‘গনতন্ত্র’ তাকে  ‘কেজরিওয়াল’ হতে সাহায্য করেছে। কেজরিওয়াল মেধাবী প্রকৌশলী, কর বিভাগে চাকুরী করতেন।এই চাকুরীর সুবাদে তিনি জেনেছেন কিভাবে ঘুষ দাতা-গ্রহীতা দুর্নীতি করে। গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলে তথ্য অধিকারের সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি অন্য সকল প্রতিষ্ঠানে কিভাবে দুর্নীতি হয় তাও জেনেছেন। তথ্য সংগ্রহের অভিযানে তিনি সফল হয়েছেন এবং এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসেসে পুরষ্কার পেয়েছেন। দুর্নীতিরোধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ক্ষমতা দরকার। তা বুঝে আন্না হাজারের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন।

কেজরিওয়াল ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে সফল হলেও জাতিগত বা রাস্ট্রীয়ভাবে এখনও সফল নহেন। কারন তাঁর উপরে কেন্দ্রীয় সরকারের খড়গ সদা সর্বদা ঝুলে আছে। তবে তিনি(কেজরিওয়াল) জানেন সমস্যা কোথায় ও তা কিভাবে সমাধান করতে হবে। তারপরও যদি তিনি(কেজরিওয়াল) ব্যর্থ হন, তাহলে তা অন্যদের(কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতা, দলের অভ্যন্তরীন কোন্দল ও দুর্নীতি, ইত্যাদি) কারনে হবে, তাঁর নিজের কারনে নহে।

অগনিত উদাহরনের মধ্যে উপরের দুটি দ্বারা আমরা বলতে চাচ্ছি যে, কোন সমস্যার গভীরে প্রবেশ না করলে বা প্রবেশ করতে না পারলে তা সমাধানের পথ সহজ হবেনা বা সমাধানও হবেনা। যেমন গ্রামের কূলবধু থেকে শহরের সাদা মনের মানুষ অধ্যাপক সাহেবও জানেন যে, দেশে পর্বত সমান দুর্নীতি হচ্ছে। কিন্তু তাদের অনেকেই অবৈধ অর্থ লেনদেনকেই ‘দুর্নীতি’ বলে জানেন বা মনে করেন। অবৈধ অর্থ লেনদেনের বাইরে আরও অনেক বড় দুর্নীতি হচ্ছে বা হতে পারে তা তারা জানেননা। এর সমাধান কি বা কিভাবে তাও তারা অনেকে জানেননা। আমরা কিছু সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ধর্ম, রাস্ট্র, ব্যক্তিকে আক্রমন করেনা- সম্মানিত পাঠকের এরূপ মতামতও সাদরে গৃহীত হবে।

Related posts