কালীদাস পন্ডিতের ১০১স্ত্রী এবং “মানুষ”।

প্রায় ৪৫-৫০বছর পূর্বে ছোটবেলায় দাদীর কাছে গল্প(কিসসা) শুনেছিলাম যে, রাজ পন্ডিত কালীদাসের ১০১জন স্ত্রী ছিল। গরীব বা সাধারন পরিবারের মেয়ে ছিল ছোট, সর্বশেষ বা ১০১তম স্ত্রী, যিনি খুব বুদ্ধিমতী, শিক্ষিতা, জ্ঞানী-গুনী ছিলেন। ছোট স্ত্রীকে পেয়ে নাকি কালীদাস পন্ডিত বলেছিলেন যে, এতদিনে তিনি “মানুষ” পেয়েছেন। পূর্বের স্ত্রীদের জন্য রাজদরবার থেকে প্রতিদিন চাল, ডাল থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্য আসত। তারা সেগুলো ১০০ভাগ করে ফেলত। ১০০হাত কাপড় আসলে ১হাত করে ভাগ করে নিত। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিষ আসলেও ১০০ভাগ করে ফেলায় ক্ষুধা নিবারনসহ কোন প্রয়োজনই সঠিকভাবে মিটতনা।

নূতন বউ বা ১০১তম স্ত্রী এসে অতীতের সকল অব্যবস্থাপনা দূর করে ফেলে। সে সকলের প্রয়োজন মিটে এরূপ পরিমান চাল একসাথে রান্না করে, এভাবে ডাল, তরিতরকারীও। দেখা গেল এতে সকলের প্রয়োজন মিটেও আরও উদ্বৃত্ত থাকে। ১০০হাত কাপড় ১০হাত করে ভাগ করে দিত। অন্যদেরকে পরবর্তী ১০০হাত কাপড় আসা পর্যন্ত কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলত। এভাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পন্ডিতের পরিবারে অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তখনই তিনি(কালীদাস পন্ডিত) বলেছিলেন যে, এতদিনে তিনি “মানুষ” পেয়েছেন।

কালীদাস পন্ডিতের ১০১জন স্ত্রী ছিলেন কিনা আমরা নিশ্চিত নহি। তবে গল্পের মধ্যে অনেক বিষয় উঠে আসে, যা সেযুগের-এযুগের সকলের জন্য অনেক শিক্ষনীয় আছে। (গল্পটি অনেক লম্বা ছিল)। গরীব, সাধারন পরিবারেও অনেক জ্ঞানী-গুনী ব্যক্তি থাকতে পারেন। যেমন আজকের অদম্য মেধাবী। “ব্যবস্থাপনা” বিরাট এক বিষয়, যা সবার মধ্যে থাকেনা, এবং সেজন্য প্রাচুর্যের মধ্যেও অভাব থাকে। মানুষ অনেকেই থাকে কিন্তু প্রকৃত “মানুষ” ১০০জন অভিজাতের মধ্যেও থাকেনা।

আমাদের পরিবার, সমাজ, রাস্ট্রে এরূপ প্রকৃত “মানুষের”  ও “ব্যবস্থাপনার” বড়ই অভাব।

আরও পড়ুনঃ- Total quality management(TQM) এবং আমাদের উন্নয়ন।

Related posts