ভালভাবে বাঁচতে হলে জানতে হবে-২: বিদ্যুতের ওভারলোডেড ও আনব্যালেন্সড ট্রান্সফর্মার সংক্রান্ত সমস্যা।

বিদ্যুতের সমস্যার শেষ নাই। সকল সমস্যার সমাধান অসম্ভব নহে, তবে কঠিন, ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। এত সমস্যার অনেকগুলো খুব সহজে ও কম খরচে বা বিনা খরচেও সমাধান করা যায়।

বিদ্যুতের তূলনায় এর ট্রান্সফর্মার অনেকটা দুর্লভ। একবার নষ্ট হলে নূতন একটি দ্বারা অথবা পূরনোটি মেরামত করে প্রতিস্থাপন করা ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু একটু সচেতন হলে বা সিস্টেম সম্পর্কে জানলে বিদ্যুতের কষ্ট অনেকটা লাঘব করা যায়।

ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়ার অনেক কারনের মধ্যে ওভারলোড ও আনব্যালেন্স অন্যতম প্রধান কারন। ব্যালেন্সড থাকলে ১০% এমনকি ২০% পর্যন্ত ওভারলোডেও ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়না। কিন্তু আনব্যালেন্সড হলে অনেক আন্ডারলোডেও ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়।

আনব্যালেন্সড মানে ট্রান্সফর্মারের সেকেন্ডারীতে যে ফেজগুলো আছে, সেগুলোতে কারেন্টের(এ্যাম্পিয়ার) তারতম্য বা কোন ফেজে বেশী কারেন্ট বা কোন ফেজে কম হওয়া। নিয়ম অনুযায়ী সকল ফেজে সমান কারেন্ট হবে। এখানে এসব বিষয়ে বেশী ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছেনা, যার প্রয়োজনও নাই। কেননা বিদ্যুৎ সরবরাহের লোকেরা এটা জানে। সংক্ষেপে বলছিঃ-যদি একটি ট্রান্সফর্মার ১১/০.৪১৫কেভি হয়(কেভিএ যতই হোকনা কেন), তাহলে এর সেকেন্ডারীতে সাধারনত ৪টি তার বা ফেজ থাকবে, যার ৩টি ফেজ ও একটি নিউট্রাল। প্রত্যেক ফেজে একই পরিমান কারেন্ট(এ্যাম্পিয়ার) থাকতে হবে এবং নিউট্রালে ০(শূন্য) কারেন্ট(এ্যাম্পিয়ার) থাকতে হবে। সিঙ্গেল ফেজ গ্রাহকের(একটি ফেজ ও নিউট্রাল) সংযোগ দিতে গিয়ে সাধারনতঃ ট্রান্সফর্মার কখনও কখনও অস্বাভাবিক আনব্যালেন্সড করে ফেলা হয়। এতে(আনব্যালেন্সড) ট্রান্সফর্মার বেশী নষ্ট হয়।

বিদ্যুৎ সরবরাহের লোকজনের সহায়তায় এলাকাবাসী একটু চেষ্টা করলে আনব্যালেন্সড ট্রান্সফর্মারকে ব্যালেন্স করা যায়। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়া বর্তমানের তূলনায় বহুগুন কমে যাবে।

Related posts