সর্বজনাব তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রতি কতিপয় খোলা চিঠি। চিঠি নং-১।

জনাব,

আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ূ ও সফলতা কামনা করি।

আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই যে, আপনারা মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবেন বলে পত্র-পত্রিকা-ফেসবুকের মাধ্যমে জানা যায়। এজন্য আপনাদেরকে স্বাগতম ও ধন্যবাদ।

প্রথমে দুর্নীতির কথা ধরা যাক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে হলে এর সংজ্ঞা ও স্বরূপ জানতে হবে, বুঝতে হবে। আপনারা কতটুকু জানেন বা বুঝেন তা আমরা জানিনা।

বছরে এত হাজার/লাখ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, বা দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এত নীচে বা উপরে বা অমুকে বা অমুক অফিসে বা প্রতিষ্ঠানে এত দুর্নীতি করছে বা হচ্ছে বা প্রতিদিন কয়েক লাখ সংখ্যক দুর্নীতির ঘটনার মধ্যে ২-৪টি ট্র্যাপ কেইস, ইত্যাদি ধারনা বা কাজ দ্বারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মোটেও সফল হওয়া যাবেনা। যদি সফল হওয়া যেত, তাহলে বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) প্রশাসন যেরূপ কঠোর ও আন্তরিক, তা দ্বারা দারিদ্র বিমোচন ও স্বাক্ষরতা ব্যতীত অন্যান্য খাতে অন্ততঃ ২০২০ সালের মধ্যে দেশের ৫০% এর বেশী SDG-অর্জিত হয়ে যেত।

তাই আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, যেহেতু আপনাদের বিরাট ইমেজ আছে এবং আপনারা দুর্নীতিমুক্ত, তাই দুর্নীতির সংজ্ঞা ও স্বরূপ জানতে পারলে আমরা নিশ্চিত যে, আপনারা ইনশা আল্লাহ সফল হবেন।

যেমন ধরুন, দেশে তহশিল/এসিল্যান্ড অফিসগুলোতে প্রতিদিন কয়েক হাজার বা মাসে কয়েক লাখ দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। এগুলোর সিংহভাগ মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ সংক্রান্ত। এগুলোতে দেশের কোটি কোটি মানুষ জড়িত। একাজগুলো সম্পন্ন করতে (মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ) সরকার কর্তৃক ৪৫দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদিও কখনও কখনও ৪৫সপ্তাহেও সম্পন্ন করা হয়না অথবা ঘুষ না দিলে কিংবা সঙ্গত কারনে আবেদন তাৎক্ষনিক বাতিল করে দেওয়া হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে তহশিল/এসিল্যান্ড অফিস প্রয়োজনের তূলনায় অনেক কম এবং যেগুলো আছে সেগুলোর লজিস্টিক সাপোর্ট আরো কম। তাই এগুলো বাদে দেশের প্রায় ৪৫০-৫০০ এসিল্যান্ড সৎ এবং দক্ষ হলে এবং উপরস্থ কর্মকর্তার সহযোগিতা থাকলে, ৪৫দিনে নহে, ৪৫ কর্মঘন্টা তথা ৬-৭কর্মদিবসে ঘুষ ও হয়রানী ব্যতীত, দেশের ৯০-৯৫% মিউটেসন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব। বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরবর্তী চিঠিতে দেওয়া হবে।

কিভাবে সম্ভব তার জন্য বেশী লেখাপড়া বা গবেষনার প্রয়োজন নাই। তবে আমরা বাস্তব উদাহরনসহ আপনাদেরকে পরযায়ক্রমে জানাব(যদি আপনারা জানতে চান)। আমাদের জানামতে অতি ছোট্ট দুর্নীতি, কিন্তু ভুক্তভোগী কয়েক কোটি লোকের একটি উদাহরন দিলাম।

আনুমানিক শ’খানেক সরকারী কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায়, ভূমিখেকোরা ঢাকা ও তার আশেপাশে সরকার ও জনগনের কয়েক লাখ কোটি টাকার ভূমি বিক্রী করে ফেলেছে। এরূপ দুর্নীতির সুনির্দিস্ট বহু তথ্য প্রমান আমাদের কাছে আছে। এগুলো প্রকাশ করলে গুম-খুন হয়ে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা আছে। তাই আপাততঃ প্রকাশ করছিনা।   ধন্যবাদ।

http://corruptionwatchbd.com/      https://www.facebook.com/corruptionwatchbd16/

Related posts