চিঠি নং-২: মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ সংক্রান্ত।

তহশিল/এসিল্যান্ড অফিসের দুর্নীতি দমন করে দেশের কোটি কোটি মানুষকে হয়রানী ও ঘুষ-দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচাতে হলে আগে জানতে হবে মিউটেসন, নামজারী, জমাভাগ, বাদখারিজ, ইত্যাদি কি?  এগুলো হলো সম্পত্তির মালীকানার রেকর্ড হালনাগাদকরন, একাধিক অংশীদার হলে নিজের অংশটুকু অন্যদের কাছ থেকে পৃথক করে রেকর্ড হালনাগাদকরন, ইত্যাদি।

ক্রয়, দান, হেবা, উইল, ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পত্তির(ভূমি/প্লট, ফ্ল্যাট, ইত্যাদি) মালীকানা পরিবর্তনের জন্য সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এতে বর্তমান হারে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ বা তারও বেশী টাকা সরকারী রাজস্ব দিতে হয়। মালীকানা পরিবর্তনের জন্য এটাই(সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রিকরন) সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ন কাজ। একাজে বিক্রেতার/দাতার মালীকানা সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট দলিল লেখক দেখে দলিল লিখে তৈরী করে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেন। এগুলো অফিসের ১-২জন কর্মচারী যাচাই-বাছাই করে লাল-সবুজ-কালো কালি দিয়ে টিক মার্ক দিয়ে স্বাক্ষর/অনুস্বাক্ষর করে সাবরেজিস্ট্রার সাহেবের টেবিলে উপস্থাপন করেন। সাবরেজিস্ট্রার সাহেব দাতা-গ্রহীতার সাথে ২-১মিনিট কথা বলে রেজিস্ট্রি ওকে(ok) করেন।

দলিল লেখক দলিল(deed) লিখার কাজটি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের বাইরে করেন। সাবরেজিস্ট্রার ও তাহার স্টাফরা মূল কাজটি(রেজিস্ট্রেসন) সাধারনতঃ কয়েক মিনিট বা ২-১ঘন্টায় করে থাকেন। ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের বাইরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেসনই হচ্ছে মালীকানা হস্তান্তরের সবচেয়ে বড় দলিল। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে সাধারনতঃ সিংহভাগ কাজ এ পদ্ধতিতেই হয়ে থাকে।

মিউটেসন/নামজারী হচ্ছে পূর্বের মালীকের নামের পরিবর্তে রেজিস্ট্রি দলিল দেখে নূতন মালীকের নামে রেকর্ড হালনাগাদকরন। জমাভাগ/বাদখারিজ হচ্ছে একাধিক অংশীদার হতে আলাদা করা বা হওয়া এবং ওয়ারিশান সার্টিফিকেটমূলে অন্যান্য ওয়ারিশ হতে আলাদা করা বা হওয়া এবং তা রেকর্ড হালনাগাদকরন। মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ কোন অবস্থাতেই কোন ব্যক্তির মালীকানা নিশ্চিত করেনা, যদি রেজিস্টার্ড দলিল বা ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সঠিক না হয়ে থাকে।

সাবরেজিস্ট্রি অফিস দাতার দলিলাদির মূল কপি দেখেন। সেসব দলিলাদি সঠিক কি ভূয়া তা দেখেননা এবং তা দেখার দায়িত্বও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নহে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, দলিল রেজিস্ট্রির পূর্বেই সরকারী স্টাম্পে দাতার প্রদেয় তথ্যাদি সঠিক বলে হলফনামায় (affidavit) স্বাক্ষর/টিপসহি নেওয়া হয় এবং স্বাক্ষীর স্বাক্ষর/টিপসহি নেওয়া হয়।  মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ-এর আবেদনেও অনুরূপ হলফনামা (affidavit) প্রদান করতে হয়। এই হলফনামা(affidavit)-ই সাবরেজিস্ট্রার ও এসিল্যান্ডের রক্ষাকবচ। সাবরেজিস্ট্রার ও এসিল্যান্ডের অফিসে অর্পিত/খাস সম্পত্তির তালীকা থাকে। অস্বাভাবিক  ঘুষ বা অন্য কোন কারন ব্যতীত তারা কখনই অর্পিত/খাস সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ করবেননা।

উপরের আলোচনা থেকে এটা সুষ্পস্ট যে, দলিল রেজিস্ট্রি অনেক মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ন কাজ, যা কয়েক মিনিট/ঘন্টায় হয়ে থাকে। অপরদিকে মিউটেসন/নামজারী/জমাভাগ/বাদখারিজ অনেক সহজ কাজ, যা দীর্ঘসময় লাগানো হয়, ঘুষ খাওয়া হয়, হয়রানী করা হয়।

এ সহজ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে সহজে বুঝাতে পারবেননা। কারন টপ-টু- বটম(সবাই নহে) ঘুষ ও হয়রানীর বেনিফিসিয়ারী। এসব নির্মূলে মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রী জনাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাহেব বহু চেষ্টা করেছেন, বহু বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি অনেকটা সফল হয়েছেন। তবে আরও সফল হতে হলে তরুনদেরকে নিয়ে তাঁহার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

http://corruptionwatchbd.com/      https://www.facebook.com/corruptionwatchbd16/

Related posts