Total quality management(TQM) এবং আমাদের উন্নয়ন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তুপ থেকে আজকের জাপানের উন্নতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল TQM. এতে তারা কোন সমস্যা সমাধান কিংবা নূতন কোন উদ্ভাবনী কাজে বা দৈনন্দিন যেকোন কাজে বাসার,  সমাজের, অফিসের সর্বনিম্ন পদধারী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ  পদধারী পর্যন্ত সবাইকে সংশ্লিষ্ট করে কি, কেন, কখন, কোথায়, কিভাবে, ইত্যাদি প্রশ্নের সাহায্যে সমস্যা ও সমাধানের পন্থা চিহ্নিত করত। বাংলাদেশের কিছু সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে জাপানী সহায়তায় TQM চালু হয়েছিল এবং বহু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী জাপানে গিয়ে প্রশিক্ষনও গ্রহন করেন। কথিত আছে যে, বুয়েটের মেধাবী ডিগ্রীধারী কোন ছাত্র কোন মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না পেলেও বিবিএ, এমবিএ ডিগ্রীধারী ছাত্র অনেক বেশী বেতনে তথায় চাকুরী পায়। তার কারন খুবই স্পষ্ট। পরিবার, সমাজ, রাস্ট্র, উৎপাদন, বিতরন-সর্বত্র সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। রাস্ট্রীয় ভাষায় যাহা ‘প্রশাসন’ অর্থনীতির ভাষায় তাহা ‘ব্যবস্থাপনা’।

সঠিক ব্যবস্থাপনার আরেকটি  বড় দিক হচ্ছে-একাধিক সমস্যা থাকলে কোনটা আগে, তারপর কোনটা, …. এভাবে priority নির্বাচন করা। আমাদের দেশেও অনেক সমস্যা আছে। দুর্নীতি, জনসংখ্যা, মাদক, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, জননিরাপত্তা, ইত্যাদি ইত্যাদি।

এগুলোর সবগুলোই সমান্তরালভাবে করতে হবে। তবে আমাদের গবেষনামতে বিচার বিভাগকে আরেকটু priority দিতে হবে। এবং এজন্য বেশী টাকার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনার।

কালের কন্ঠের উপসম্পাদকীয়র একটি প্রবন্ধ এরূপ- মাদকে ধ্বংস হচ্ছে তরুণ সমাজ-কারার মাহমুদুল হাসান- সাবেক সচিব, ২০ মে, ২০১৬। তিনি লিখেছেন:- প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেছে এবং এদের ৮০ শতাংশই যুবক, যার ৪৩ শতাংশ বেকার ও ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। দুই মাস আগে ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘দেশে সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু মাদকাসক্ত’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ………….

পেটে ইয়াবা, পেটে স্বর্ন পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসেই বিচারকাজ করে আসামীকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব। আসামীকে শাস্তি দেওয়া হয় কেন? শাস্তি দেওয়া হয় প্রধানতঃ ৩টি কারনে। অপরাধের শাস্তি, অনুরূপ অপরাধ যেন সে আর না করে বা না করতে পারে এবং অন্যরা অপরাধীর শাস্তি  দেখে যেন অপরাধ না করে।(এজন্য বলা হয় “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি”)। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের বিচারকাজ কয়েক বছর বা দশকেও হয়না। তার কারন কোর্টের (বিচারকসহ সবকিছুর) স্বল্পতা।

আমরা ইতিপূর্বে ”অবহেলিত বিচার বিভাগ এবং এডিপি”-তে দেখিয়েছি যে, মাত্র ২হাজার কোটি টাকা হলে, যা প্রতিবছর লাগবেনা, বিচার বিভাগকে অনেক শক্তিশালী ও আধুনিক করা যায়। দেউলিয়া আদালত, অর্থঋন আদালতসহ হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে, বছরেই সরকারের ২হাজার কোটি টাকার বহুগুন রিটার্ন আসবে। দুর্নীতির বিচার হলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। মাদকের ছোবল অনেক কমে যাবে। নারী, শিশু নির্যাতন, খুন ধর্ষন অনেক কমে যাবে।  মানব পাচার বন্ধ হবে।

Related posts