Murphy’s Law  এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবন।

Murphy’s Law :-Anything that can go wrong, will go wrong. ইহার বহুমাত্রিক ভাবার্থ থাকলেও সাধারন অর্থ এরূপঃ-কোন কিছু ভুলভাবে চলতে পারলে, ভুলভাবে চলতে থাকবে। এই বাক্যটি ১৯৮৪ সালে প্রথম দেখতে পাই কাপ্তাইস্থ কর্নফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দেওয়ালে খোদাই করে লিখা। দ্বিতীয়বার দেখি মৃত্যুর পূর্বে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথিতযশা লেখক অধ্যাপক জনাব হুমায়ুন আহমেদের একটি লিখায়।

সম্ভবত: ইহা একটি বৈজ্ঞানিক উক্তি বা সূত্র। কিন্তু আমাদের, বিশেষ করে বাংলাদেশের, জনজীবনে এই সূত্রের প্রভাব এত ব্যাপক যে, এই বিষয়ে কিছু লিখা প্রয়োজন মনে করি।

অন্য কয়েকটি প্রবন্ধে অসুবিধা কি? প্রয়োজন কি? কারন কি? ইত্যাদি প্রশ্নবোধক বিষয়ে আলোচনা করি। যেমন শতকোটি, হাজারকোটি টাকার মালীক হওয়া সত্বেও অবৈধভাবে নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে, ২-৪-৬ বা ততোধিক আইন অমান্য করে আরও টাকা রোজগার করার প্রয়োজন কি?  আর টাকা রোজগার করতে না পারলে অসুবিধা কি?  এত অনিয়ম করে আরও টাকা রোজগার করার কারন কি? আসলে যাদের বিষয়ে এসব প্রশ্ন তাদের শুরুটাই হয়েছিল ভুল, সীমাহীন লোভ, দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, খুন খরাবী, ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইত্যাদি দিয়ে। দীর্ঘকাল এসব করে তারা চালিয়ে(can go wrong) এসেছে, এখনও চলছে, ভবিষ্যতেও চলবে(will go wrong). Murphy’s Law-এর এই গন্ডী থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য অসম্ভব নহে, তবে বেশ কঠিন।

ধর্মীয় আইন-অনুশাসনের বাইরে পাকভারত উপমহাদেশে সোয়া শ’-দেড় শ’ বছর পূর্বে ব্রিটিশরা প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বহু আইন প্রনয়ন করে। এরপর আরও কিছু আইন প্রণীত হয়, পূর্বের কিছু ধারা বাতিল হয়, কিছু সংশোধিত হয়। আইনের সংখ্যা কয়েক শ’, ধারা কয়েক হাজার হবে। এত আইন ও ধারার পরেও কি সমাজে অপরাধ কমেছে? কমেনি, বরং বেড়েছে। কোর্ট-কাছারি, তহশিল, ট্যাক্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, রেজিস্ট্রি, কর্পোরেশন, পৌরসভা, রোড, এলজিইডি, পূর্ত,………, কোথায় আইন নেই, কোথায় ইতিমধ্যে হাজার হাজার বিলিয়ন টাকা অবৈধ লেনদেন হয়নি? কিন্তু তারপরও যুগের পর যুগ চলেছে তো(can go wrong), এখনও চলছে, ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে(will go wrong).

Murphy বলতে চেয়েছেন যে, কোন জিনিষ ভুলভাবে চলতে পারলে তা চলতে থাকবে, তাই তাকে প্রথম থেকেই ভুলভাবে চলতে দেয়া যাবেনা। আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে, “বিড়াল প্রথম রাতেই মারতে হবে”। নইলে তা একসময় বাঘ অর্থাৎ শক্তিশালী হয়ে যেতে পারে। আরও কথা আছে, যেমন-prevention is better than cure.  খরাপ কিছু প্রথম থেকেই prevention(প্রতিরোধ) করতে হবে। বেড়ে গেলে নির্মূল বা আরোগ্য জটিল এবং কঠিন।

কিছু land developer এত ভয়ানক হয়ে গেছে যে, শুরুতে তাদের অপরাধ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত সহজ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করে ফেলেছে। সে অবৈধভাবে উপার্জনের অতি ক্ষুদ্র অংশ ব্যয় করে তারা আরও শত সহস্রগুন উপার্জন করছে এবং তা অব্যাহত আছে। প্রথমে তারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিল এবং prevention(প্রতিরোধ) সহজ ছিল। বর্তমানে তারা অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে। ফলে cure-তো দুরের কথা prevention (প্রতিরোধ)-ই সম্ভব হচ্ছেনা।

ঘুষ-দুর্নীতি, জনসংখ্যা, মাদক এত ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে যে, আরও বহুপূর্বেই এগুলো প্রতিরোধ করা দরকার ছিল। যেমন একজন লোক দুর্নীতি করল, তাকে দুর্নীতির মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরন করা হল, কোর্টে মামলা নিষ্পত্তি করতে ৬-৭-১০বছর লেগে গেল এবং মামলায় আরও দুর্নীতিবাজের সৃষ্টি হল। এত জটিল আকারে তার দুর্নীতির বিচার করার চাইতে তাকে দুর্নীতি করতে না দেওয়া(prevention) অনেক সহজ ছিল।

১০ জুলাই ১৯৭৫ বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে দুর্নীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কেবল পয়সা খাইলেই দুর্নীতি হয় না। বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করা যেমন দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি দেওয়াও তেমনি দুর্নীতি। একইভাবে নিচের অফিসারদের কাজ না দেখাটাও দুর্নীতি। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫সালের পূর্বেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁহার চারিদিকে থাকা চাটার দলের কারনে তা পারেননি। যদি পারতেন তাহলে তিনি নির্মম নিষ্ঠুরভাবে নিহত হতেননা, দেশও অনেক পূর্বেই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া থেকে অনেক বেশী উন্নত হত।

Related posts