সুশাসন কি ও কেন?

এবিষয়ে লিখতে গিয়ে কৌতুহলবশতঃ শিরোনামটি গুগলে সার্চ দিয়ে পাই About 144,000 results (0.63 seconds) .  সমাজ, রাস্ট্র, রাজনীতি, প্রভৃতি বিষয়ক বিজ্ঞানে এ বিষয়ে(সুশাসন কি ও কেন?) আরও লাখ লাখ  বাক্য বা শব্দ আছে, তা বলাই বাহুল্য। তাই সুশাসন কাকে বলে তার সংজ্ঞা নিয়ে আমরা বেশী কিছু লিখবনা। BANGLA NEWS 24.COM-এ এইচটি ইমামের লিখাটিই আমরা হুবহু তুলে ধরছি। তিনি বলেছেন-

” মূলতঃ আইনের শাসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানাধিকার, জনগণের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা এবং কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের কাঙ্খিত সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই হচ্ছে সুশাসন।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ সুশাসন বাস্তবায়ন বা নিশ্চিত করবে কে? এর উত্তর খুঁজতে গিয়েও আমরা লাখ লাখ results পেয়েছি। তবে এটা বলতে পারি যে, সুশাসন বাস্তবায়ন বা নিশ্চিত করবে তারা, যারা “শাসন” করে। দেশ শাসন করে কে? দেশ শাসন করে সংসদ,বিচার বিভাগ ও প্রশাসন ব্যবস্থা। সংসদ আইন প্রনয়ণ করে, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন ব্যবস্থা তা দ্বারা দেশ শাসন করে। প্রশ্ন উঠতে পারে বিচার বিভাগ কিভাবে শাসন করে? তারাত রায় বা দিক নির্দেশনা দেয়। এক্ষেত্রে clearly বলতে গেলে বলতে হয় যে, আইন প্রনয়ণ ও রায় বা দিক নির্দেশনার পর তা বাস্তবায়ন বা কার্য্য নির্বাহ করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। হাল আমলে সুশাসনের সাথে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। সুশাসন বাস্তবায়ন বা নিশ্চিত করতে হলে এদের কার কি কাজ তা ভালোভাবে জানতে হবে। আমরা “দুর্নীতি দমন, সুশাসন ও দুর্নীতি এবং রাজাকারমুক্ত প্রশাসন/বিচারবিভাগ/দুদক প্রসঙ্গে” প্রবন্ধে প্রকাশিত অংশ টুকু হুবহু আবারও তুলে ধরলাম।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন করতে হলে এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে। দেশের বর্তমান অবস্থায় নির্বাহী বিভাগ সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী। নির্বাহী বিভাগের মধ্যে প্রশাসন বিভাগ সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী। প্রশাসন বিভাগে প্রশাসন ক্যাডার সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে আরেক ক্ষমতাশালী হচ্ছে বিচার বিভাগ। শুধু বলা হয়ে থাকে তা নহে,  রীতিমত দাবী করা হয় যে, বিচার বিভাগ ও দুদক স্বাধীন। কিন্তু তাঁরা কি ধরনের স্বাধীন আমরা কি তা জানি? জানলে কতটুকু জানি? অপরদিকে নির্বাহী বিভাগ কতটুকু অধীন বা পরাধীন, আমরা কি তা জানি? কেহ কি কখনও গবেষনা বা স্টাডি করে দেখেছে?

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকদের, দুদক কর্মকর্তাদের বাস্তব সরকারী কাজ কি?( What is their official routine work?). তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তাঁরা প্লেন, ট্রেন, বাস, ট্রাক, এটম বোম্ব, মিসাইল, রকেট, টর্পেডো, সাবমেরিন, কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র/উপকেন্দ্র, মোবাইল, কম্পুটার, ব্রিজ, রাস্তাঘাট, ইত্যাদি, ইত্যাদি …(এরূপ লক্ষ কোটি কারিগরী বিষয় আছে) বানান না, পরিকল্পনা করেন না, ডিজাইন করেন না, পরিচালন-সংরক্ষন-মেরামত করেন না। তাহলে তারা কি করেন? তাঁরা(প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকরা, দুদক কর্মকর্তারা) কোন আসামী গ্রেফতার করেন না, দাঙ্গা হাঙ্গামায় লাঠি/অস্ত্র চালান না, অজ্ঞাত অপরাধী সনাক্ত করেন না। সেনা, নৌ, বিমান, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সার, কৃষি, ইত্যাদি, ইত্যাদি, ….(এরূপ লক্ষ কোটি ফিল্ড  আছে), যেখানে তাঁরা হাটে, মাঠে, ঘাটে, পাহাড়ে, জঙ্গলে, নদী-সমুদ্রে, আকাশে, বাতাসে,  … যেরূপ কাজ করেন, তাঁরা(প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকরা, দুদক কর্মকর্তারা) সেরূপ কোন কাজ করেন না। মোবাইল কোর্টে, কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেনা, নৌ, বিমান, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসারদের বেস্টনীতে/হেফাজতে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করে ”আদেশ” দেন মাত্র।

ইদানীং দুদক কর্মকর্তারা কিছু আসামী গ্রেফতার করেন। নিম্ন আদালতের বিচারকরা মাঠ পর্য্যায়ে কোন কাজই করেন না। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তাদের মাঠ পর্য্যায়ের জটিল-কঠিন, রিস্কি কাজ অন্যদের(সেনা, নৌ, বিমান, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সার, কৃষি, ইত্যাদি, ইত্যাদি, পেশাজীবিদের) যেকোন একটির দৈনন্দিন কাজের কয়েক কোটি ভাগের এক ভাগও নহে। তাহলে তাদের(প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকদের, দুদক কর্মকর্তাদের) বাস্তব সরকারী কাজ কি?

তাদের কাজ কি-এটা আজ জাতিকে জানতে হবে। তা না জানলে- সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন  অসম্ভব নহে, তবে কঠিন, জানলে খুবই সহজ।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকদের, দুদক কর্মকর্তাদের সিংহভাগ কাজ ভবনের অভ্যন্তরস্থ(Indoor), ডকুমেন্ট/ফাইল/আইন সংশ্লিষ্ট। মাঠ পর্য্যায়ের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা( AC-land, UNO, ADC, DC) ব্যতীত, সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এবং বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকরা, দুদক কর্মকর্তারা অন্যদের তূলনায় বলতে গেলে সরাসরি কোন সরকারী সম্পদের দায়িত্বে থাকেন না বা হেফাজত করেন না। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের-বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচারকরা, দুদক কর্মকর্তারা অনেক মেধাবী হতে পারেন, তবে তাদের official routine work- এ এত বেশী মেধার প্রয়োজন হয়না। আইন বা আইনের বই খুলেই তারা অনেক কিছুর সমাধান দিতে পারেন(Exception ব্যতীত)। Exception can never be an example.

আমাদের উপরের আলোচনাগুলো কোন অবস্থাতেই নির্বাহী বিভাগের প্রশাসন ক্যাডার, বিচার বিভাগ ও দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে খাটো করার উদ্দেশ্যে নহে। আমাদের কথা বা প্রশ্ন হচ্ছে যদি তারা এত সিম্পল কাজ করেন, তাহলে তাদেরকে রাস্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ন, এত মর্যাদার, এত সম্মানের(এবং ভয়ের) আসনে আসীন করা হল কেন?

তাদেরকে এসব আসনে(রাস্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ন, এত মর্যাদার, এত সম্মানের(এবং ভয়ের)) আসনে আসীন করা হয় কারন তারা  সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্ব, সততা, ন্যায়পরায়নতা, নিরপেক্ষতা দ্বারা শাসন করবেন, বিচার করবেন, দুর্নীতি দমন করবেন। কিন্তু তাঁরা কি তা করেন?

ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয় সততা, ন্যায়পরায়নতা, নিরপেক্ষতা দ্বারা। ব্রিটিশ আমলে ইন্ডিয়ানদেরকে আইসিএস অফিসার নিয়োগ করা হত উচ্চ বংশীয় লোকদের থেকে। কারন উচ্চ বংশীয় লোকদের আত্মসম্মানবোধের কারনে তারা অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে, এই উদ্দেশ্যে। তাদের(আইসিএস অফিসার) দেখাদেখি সিএসপি, ইপিসিএস অফিসারগন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন এবং সিএসপি, ইপিসিএস অফিসারগনের সংস্পর্শে থেকে প্রথম পর্য্যায়ের বিসিএস অফিসারগন ও অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন। কিন্তু গত শতকের ৯০-এর দশকে এই ব্যক্তিত্বে ধস নেমে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে

যারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন  করবে, তারাই যদি দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য, অদক্ষ, ব্যক্তিত্বহীন হয় তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে কে? এটাই আজ বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠাকারীদের সম্পর্কে জানতে হলে আমাদেরকে বিসিএস(প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানতে হবে। এজন্য দেখুনঃ- বিসিএস (প্রশাসন) এর প্রশাসন মানে কি?  সহকারী কমিশনার(ভূমি),  UNO, ADC, DC, Div. comm., মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব–সচিবদের কাজ বা দায়িত্ব কি-১, ২?

Related posts