সহকারী কমিশনার(ভূমি), UNO, ADC, DC, Div. comm., মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব–সচিবদের কাজ বা দায়িত্ব কি-১?


সহকারী কমিশনার(ভূমি) থেকে মন্ত্রনালয়ের সচিবদেরকে সাধারনতঃ আমলা বা bureaucrat বলা হয়, যাদের কাজ ডেস্কে বসে শাসন করা। এঁরা প্রধানতঃ বিসিএস(প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা। The term “bureaucracy” is French in origin and combines the French word bureau – desk or office – with the Greek word κράτος (Kratos) – rule or political power. It was coined in the mid-18th century by the French economist Jacques Claude Marie Vincent de Gournay and was a satirical pejorative from the outset. Gournay never wrote the term down but was later quoted at length in a letter from a contemporary.

আমাদের পূর্বের প্রবন্ধে দেখিয়েছি যে, বিসিএস(প্রশাসন) ক্যাডার, বিচার বিভাগ ও দুদকের কাজ কি, কিভাবে তাঁরা তা সম্পাদন করেন। তাঁদের বর্তমান বাস্তব কাজ আর প্রায় ২০০বছর পূর্বের সংজ্ঞায় তেমন কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ তাঁদের কাজ প্রধানতঃ inside the door(indoor).

কালের পরিক্রমায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের, শিল্প-কারখানার উন্নতি হওয়ায় তাদের কাজের পরিধি বাড়লেও  ব্রিটিশ কর্তৃক ভারত শাসনের শুরু থেকে অদ্যাবধি তাঁদের(আমলা) প্রধান ২টি কাজ হলো ”ভূমি ও এর রাজস্ব”, এবং সংসদ কর্তৃক প্রণীত “আইন, বিধি মোতাবেক ফাইল-পত্র প্রস্তুত করা, অধস্তন সেক্টর–কর্পোরেশন, বোর্ড, অধি-দপ্তর, হোল্ডিং কোম্পানী সমুহ, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমুহ,  ইত্যাদি থেকে আগত ফাইল-পত্র অনুমোদন-সুপারিশ করা।” এর প্রায় ১০০% কাজই ডেস্কে বা অফিসে বসে “আইন, বিধি”-এর আলোকে ”ননটেকনিক্যাল কাজ” এবং “কার্য্য নির্বাহ বহির্ভুত কাজ”।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহের রিপোর্টের ভিত্তিতে  অস্ত্রের লাইসেন্সসহ এরূপ কিছু লাইসেন্স ডিসি অফিস অনুমোদন করে। সংশ্লিষ্ট অফিস সমুহের রিপোর্টের ভিত্তিতে  ভূমি অধিগ্রহন ও এর ক্ষতিপূরন প্রদান করে। এসব কাজই প্রধানতঃ inside the door(indoor). কিছু বহিরাঙ্গনের(Outdoor) কাজও থাকে। যেমনঃ নির্বাচন, যা কয়েকবছরে একবার হয়। এটা official routine work-নহে। নির্বাচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ইত্যাদিতে তাঁরা তত্বাবধানের কাজ করেন, বাস্তবায়ন নহে। এটাও official routine work-নহে।  এগুলো কোনটাই কোন উচ্চ মেধা সম্বলিত টেকনিক্যাল কাজ নহে।

ভূমি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পরিবেশ ও বন, পানি সম্পদ, সড়ক ও সেতু, রেলওয়ে, প্রভৃতি মন্ত্রনালয় সরাসরি ভূমি নিয়ে কাজ। সহকারী কমিশনার(ভূমি) থেকে বিভাগীয় কমিশনারদের সকল কাজের মধ্যে প্রধান কাজ হলো ”ভূমি ও এর রাজস্ব”। বাংলাদেশের ১০০% ভূমির খতিয়ান, নক্সা, খাজনার দাখিলা, ইত্যাদির মূল কপি তথা ভূমির রেকর্ড  তহশিল অফিস, সহকারী কমিশনার(ভূমি)- জেলা প্রশাসকের দপ্তরে থাকে।

১৮৮৭-১৯৪০-এর সিএস জরীপে ভূমির সীমানা চিহ্নিত হয়, ১৯৫৬-১৯৬২সালে ভূমির মালীকানা(খাস ও ব্যক্তি মালীকানা) নির্দিস্ট হয়। ১৯৭০-১৯৮০সলের মধ্যে অর্পিত/পরিত্যক্ত ভূমি নির্দিস্ট হয়। এরমধ্যে নদীর ভাঙ্গন, জরীপে মালীকানা রেকর্ডে ভুল-কারচুপির ফলে কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যাতে কোর্টে মামলা হয়। খাস- অর্পিত/পরিত্যক্ত ভূমির মালীকানার মামলাও সর্বোচ্চ ২০(বিশ)বছরে অর্থাৎ অন্ততঃ ২০০০সালের মধ্যেই চুড়ান্ত(সুপ্রীম কোর্ট পর্য্যন্ত) নিষ্পত্তি হওয়া উচিৎ বা সম্ভব ছিল। এর মধ্যে আরেক ধরনের সম্পত্তি আছে ১৯৬০-১৯৬৫সালের মধ্যে পাক-ভারত হিন্দু-মুসলমান বিনিময়কৃত ভূমি। ভারত সরকার তাৎক্ষনিকভাবে তথাকার হিন্দুদের বিনিময়কৃত ভূমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিগত প্রায় ৬০বছরেও তা করেনি।

যাহোক, খাস- অর্পিত/পরিত্যক্ত, বিনিময়কৃত ভূমির কত লাখ একরের মালীকানা নিয়ে কোর্টে মামলা আছে, তার প্রকৃত হিসব আমরা জানিনা। তবে পত্র-পত্রিকা-ওয়েব থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে, এই ”বিতর্কিত “ ভুমির পরিমান মোট খাস- অর্পিত/পরিত্যক্ত ভূমির ৪%-৫%ও নহে। (যতদূর জানা যায় ঘুষ না দেওয়ায় কিছু  বিনিময়কৃত ভূমি সরকারের পক্ষে ডিসির নামে রেকর্ড হলেও এগুলো নিয়ে মামলা নেই এবং এগুলোর বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রির জন্য কয়েকবার ডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়)। অর্থাৎ ১৯৬২-১৯৮০সালেই মোট খাস- অর্পিত/পরিত্যক্ত ভূমির ৯৫%-৯৬%, ধরি, ৯০% absolutely সরকারী মালীকানার। এসব ভূমি সরকারের পক্ষে রক্ষনাবেক্ষন, হেফাজত, রেকর্ড হালনাগাদ করন, ইত্যাদি সবকিছুর ১নং দায়িত্ব সরাসরি সহকারী কমিশনার(ভূমি) থেকে বিভাগীয় কমিশনারদের, ভূমি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পরিবেশ ও বন, পানি সম্পদ, সড়ক ও সেতু, রেলওয়ে, প্রভৃতি মন্ত্রনালয়ের। আর সহকারী কমিশনার(ভূমি) থেকে মন্ত্রনালয়ের সচিবগন সবাই সরাসরি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা(২-১টি ব্যতিক্রম ব্যতীত)।

নদী-সাগরের ভাঙ্গা-গড়া ব্যতীত দেশের সকল ভুমিই স্থাবর(immovable). আর এসকল ভুমি আইল-সীমানা দ্বারা চিহ্নিত। এসকল ভূমির নক্সা(মৌজা ম্যাপ)সহ সকল মূল কপি তথা ভূমির রেকর্ড তহশিল অফিস, সহকারী কমিশনার(ভূমি) – জেলা প্রশাসকের দপ্তরে থাকে।

Related posts