সহকারী কমিশনার(ভূমি)–মন্ত্রনালয়ের সচিবদের কাজ বা দায়িত্ব কি-২?


আমরা পূর্বে বহুবার বলেছি যে, প্রশাসক, বিচারক, দুদককে ছোট বা হেয় করা আমাদের উদ্দেশ্য নহে। তার প্রধান ২টি কারন। প্রথমতঃ বলা হয়ে থাকে বাঘে ছুঁলে ১৮ঘা, পুলিশে ছুঁলে ৩৬ঘা। আমরা দেখেছি অসৎ প্রশাসক, বিচারক, দুদকে ছুঁলে unlimited-ঘা। তাই এদেরকে(অসৎ প্রশাসক, বিচারক, দুদক) ভয়ে আমরা ছোট বা হেয় করতে চাইনা। দ্বিতীয়তঃ এঁদের মধ্যে সৎ, ন্যায়পরায়ন, নিরপেক্ষ যারা, তারা প্রকৃতপক্ষেই সমাজের মানুষের নেতা, অভিভাবক, শিক্ষক, দিক নির্দেশক। তাঁদেরকে কেন আমরা ছোট বা হেয় করব? আমরা শুধু বলতে চাচ্ছি যে, অসৎ হওয়া যেমন তাদের মোটেও উচিৎ নহে, তা(অসৎ) হয়েও  তাদের কেহ কেহ সততার ভান করে। আমরা শুধু অসৎ প্রশাসক, বিচারক, দুদকের মুখোশ উম্মোচন করতে চাই।

এঁরা(প্রশাসক, বিচারক, দুদক) অত্যন্ত নিরাপদ পরিবেশ ও অবস্থানে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে। অন্য সার্ভিস/ক্যাডারের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এত নিরাপদ পরিবেশ ও অবস্থানে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেননা। যেমন অনেক অফিস আছে যেখানে শ্রমিক সংগঠনের নামে সিবিএ-র কাছেই অফিসের কর্মকর্তারা নিরাপদ নহে। জেলা-বিভাগীয় কোন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তার অফিস কক্ষে, দপ্তর প্রাঙ্গনে যে কেহ যেকোন মুহুর্তে বিনানুমতিতে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু প্রশাসক, বিচারক, দুদক কর্মকর্তার কক্ষে/খাসকামরায় বিনানুমতিতে কেহই প্রবেশ করতে পারেনা। এঁরা(প্রশাসক, বিচারক, দুদক) যদি সৎ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হন, তাহলে তাঁরা কোন রাজনৈতিক নেতা/এমপি/মন্ত্রী তো দুরের কথা, তাঁদের উর্ধতন কোন কর্মকর্তার অনৈতিক তদবীর না শুনলেও তাঁদের কিছু আসবে যাবেনা, কারন তাঁরা স্বাধীন।(দ্রস্টব্যঃবিচার বিভাগ ও দুদকের স্বাধীনতা)।

এদেরকে আমরা মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষকের মত মর্যাদাপূর্ন/গুরুত্বপূর্ন আসনে স্থান দেই। একজন সাধারন মুয়াজ্জিনের আহ্বানে অনেক শিক্ষিত-ধনী ব্যক্তি একজন সাধারন ইমামকে মান্য করে, তাঁহার(ইমাম) পিছনে নামাজ পড়ে। মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষককে মান্যগণ্য করে। কিন্তু পেটে ইয়াবা বহনকারী, শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যাকারী  ইমাম বা মাদ্রাসার শিক্ষককে কি কেউ মান্যগণ্য করবে। কিন্তু ইমাম বা মাদ্রাসার শিক্ষকরা স্বাধীন নহে, আইনের অধীন। পেটে ইয়াবা বহনকারী, শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যাকারী  ইমাম বা মাদ্রাসার শিক্ষকদের চেয়ে জঘন্য, নির্মম নিষ্ঠুর অসৎ(যারা অসৎ) প্রশাসক, বিচারক, দুদক কর্মকর্তারা আইনের কারনেই স্বাধীন। তাহাদেরকে শাস্তি দেওয়ার কেহ নাই।

এসব অসৎ(যারা অসৎ) প্রশাসক, বিচারক, দুদক কর্মকর্তাদের শুধু আর্থিক অসততা নহে, তাহাদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, সর্বোপরি খামখেয়ালীর দরুন এদেশের(এবং এই পৃথিবীর) কোটি কোটি নির্দোষ মানুষ চরম নির্যাতন, হয়রানীর শিকার হচ্ছে। যেমনি নির্যাতিতা/নিহত হচ্ছে নিষ্পাপ নারী শিশু পাষন্ডদের লালসার শিকার হয়ে।

Related posts