No brilliance is needed in the law, nothing but common sense and relatively clean finger nails.

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের মধ্যে এখনও কিছু মেধাবী, সৎ, দক্ষ ও ন্যায়পরায়ন কর্মকর্তা/বিচারক আছেন। কিন্তু উনাদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক/বিচারিক কাজে এত বেশী মেধার প্রয়োজন হয়না, যেটা প্রয়োজন টেকনিক্যাল/মেডিক্যাল, সেনাবাহিনী, কৃষি টেকনোলজি এরূপ কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। প্রশাসন ক্যাডার ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন নিজেদের ব্যক্তিত্ব, মানসিক দৃঢ়তা।

১৯৭৬-৭৭সালে এসএসসি পরীক্ষায় Arts group(কলা বিভাগ)-এর দুই সহপাঠী পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতায় হুবহু একই লিখা পাওয়া যায়। ফলে তাদের রেজাল্ট এক বছর স্থগিত থাকে। তদবীর করে তাদের রেজাল্ট প্রকাশ করানো হয়। পরে তারা আইন বিভাগে অনার্স/মাস্টার্স পাশ করেন এবং তাদের দুজনই বিসিএস (জুডিসিয়াল) ক্যাডারে নির্বাচিত হন। একজন যোগ দিয়ে বর্তমানে জেলা ও দায়রাজজ, দ্বিতীয়জন চাকুরীতে যোগ না দিয়ে সৎ ও স্বাধীন থেকে বেশী টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে ওকালতি করেন এবং জজকোর্ট ও হাইকোর্টের সফল উকিল। এতে প্রমানিত হয়েছে যে, No brilliance is needed in the law. Nothing but common sense, and relatively clean finger nails.(John Clifford Mortimer-British Barrister, Writer, Dramatist).

উপরোক্ত জেলাজজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বহু অভিযোগ সত্বেও, তিনি এলাকার এমপি/মন্ত্রীর অফিস/সংসদে, গ্রামের বাড়ীতে প্রকাশ্যে যাতায়াত করলেও তিনি সফলভাবে সবকিছু ম্যানেজ করছেন। প্রশাসন ক্যাডারের কাজ(নিজেদের দুর্নীতির-দুর্বলতার কারনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ ব্যতীত), বিশেষ করে ফাইল-পত্রের কাজ জুডিসিয়াল ক্যাডারের কর্মকর্তা তথা বিচারকদের চেয়ে অনেক সহজ এবং অনেক কম মেধার প্রয়োজন। প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষেত্রেও No brilliance is needed in the law. Nothing but common sense, and relatively clean finger nails-তত্ব সমানভাবে প্রযোজ্য।

বিগত বছর সমুহে এসএসসি, এইচএসসি, কলেজ-ভার্সিটি, পিএসসি(পাবলিক সার্ভিস কমিশন), ছোটবড় আরও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়া ছিল একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তদুপরি নিয়োগ-বদলী-পদোন্নতিতে বানিজ্য-দলীয়করন ছিল আরও  স্বাভাবিক ব্যাপার। লিখা পড়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল করে, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল করে,  রাজনৈতিক তদবীরে চাকুরীতে মেধাহীন ও দুর্বৃত্তরা নিয়োগ পাওয়ার ফলে মেধাহীনদের ভীড়ে মেধাবীরা হারিয়ে যায়, যারা আছে তারা কোনঠাসা হয়ে আছে।

মেধাহীন কিন্তু ক্ষমতাশালী এরূপ আমলাদের(প্রশাসনিক ও বিচারিক) টিকে থাকার একমাত্র উপায় চাটুকারীতা, তোষামোদী, তৈলমর্দন, ইত্যাদি, ইত্যাদি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনের দেখছেন কি? (দ্রস্টব্য- স্বদেশ ভাবনা-সরকারি কর্মচারীরা যেন আচরণবিধি ভুলে না যান- আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক।-http://www.jugantor.com/window/2016/10/12/67682/  )।শ্রদ্ধেয় সচিব সাহেবরা(আবদুল লতিফ মন্ডল) তাঁহাদের সময়ে যে মেধা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে চাকুরী করেছেন, বর্তমানদের অবস্থা সরেজমিনে দেখলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তাঁহার(আবদুল লতিফ মন্ডল)/তাঁহাদের ঘেন্নায় বমি চলে আসবে।

আরও দেখুন- সরকার সমর্থক আমলাদের বিরোধ চরমে-যুগান্তর-২০-১০-১৩। প্রশাসনের কি ক্ষমতাসীনদেরআজ্ঞাবহ হওয়া উচিত- http://archive.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTBfMTNfMTNfMV81XzFfNzgzOTE=  সরল গরল – ফেল করেও বিচারক!- http://archive.prothom-alo.com/detail/news/190696-দুর্নীতির লাল ঘোড়ায় লাগাম পরাবে কে?

হাবিবুর রহমান স্বপন : রাইজিংবিডি ডট কম -08 Jan 2015

http://www.risingbd.com/detailsnews.php?nssl=86496     …………. প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনাররা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ডিসি ও ইউএনও-রা মাঠ প্রশাসনে কায়েম করেছেন চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি। প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে তারা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কোনো নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করছেন না। বিভাগীয় কমিশনারগণ মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে এটা জানিয়েছেন। ……….

 

এরূপ আরও অনেক সংবাদ।

এধরনের বিচারক ও প্রশাসক থেকে আমরা কি আশা করতে পারি?

Related posts