৪(চার)শতাধিক জেলাজজ দুর্নীতিবাজ।

মামলার নম্বর উল্লেখ করে বাস্তব উদাহরনের মাধ্যমে আমরা দেখিয়েছি যে, দুর্নীতির মামলায় স্বাক্ষী হাজির করানো খুবই সহজ এবং তা নিয়ন্ত্রন করে জুডিসিয়াল সার্ভিস ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদধারী কর্মকর্তা জেলাজজ। (দ্রস্টব্যঃ- ২(দুই)টি দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তি ও ৪(চার) জেলাজজের দুর্নীতি)। এসকল বিচারক অত্যন্ত কম সময় এজলাস করার সুবিধার্থে ইচ্ছা করেই স্বাক্ষী হাজির করায়না। তাদের এ অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য তারা বলে যে, স্বাক্ষী আসেনা, তাই এজলাস করা হয়না। “স্বাক্ষী আসেনা” দুর্নীতির মামলার ক্ষেত্রে এটা সংশ্লিষ্ট সকল বিচারকের ১০০% মিথ্যা কথা। জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের স্পেশাল ২১/০৯, ২৩/০৯ মামলার ক্ষেত্রে ৩জন জেলাজজই দুদকের কোর্ট ইন্সপেক্টর/সহকারীর নিকট স্বাক্ষীর সমন/ww ধরিয়ে দেওয়াতে একই দিন ৮জন স্বাক্ষী আসে, কঠিন স্বাক্ষী আসে, অবরোধ হরতাল ধর্মঘটের দিনও দুর দুরান্ত থেকে স্বাক্ষী আসে। এতে প্রমানিত যে, ” স্বাক্ষী আসেনা” জেলাজজ পদমর্যাদাধারী বিচারকরা এরূপ মিথ্যা কথা বলে। যারা মিথ্যা কথা বলে, ৬.৫০(সাড়ে ছয়)ঘন্টার স্থলে ১/২(আধ)ঘন্টা-১(এক)ঘন্টা এজলাস করে, তারা আর্থিক দুর্নীতিও করে।

যে বিচারকরা দুর্নীতি করে, তারা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। যখন কোন বিচারক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রকের ভুমিকায় থাকে, তখন কোন বিচারপ্রার্থী তাদের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া অসম্ভব নহে, ভয়ানক কঠিন। দোষী-নির্দোষ নির্বিশেষে দুর্নীতির মামলার আসামীদের মধ্যে সামাজিক মান মর্যাদার বিষয় ছাড়াও বকেয়া বেতন-ভাতা ও পেনসন সুবিধাসহ একেকজনের কোটি টাকার আর্থিক বিষয় জড়িত থাকে। ৮-১০-১৫বছর পরও কোন নির্দোষ লোক অব্যাহতি পাবে তার নিশ্চয়তা নাই। ফলে নির্দোষ হওয়া সত্বেও দোষী হিসেবে রায় হলে প্রত্যেকের কোটি টাকার আর্থিক সুবিধাই রহিত হবেনা, জেল ও জরিমানা হবে। হাইকোর্ট সুপ্রীমকোর্টে গিয়ে প্রতিকার পেতে পেতে মৃত্যু অনিবার্য্য। কোটি টাকার ১০%=১০লক্ষ টাকা। এ হার কখনও কখনও ৫০% ও ছাড়িয়ে যায়, যার পরিমান ৫০(পঞ্চাশ)লক্ষাধিক টাকা। কোন কোন বিচারক সারাজীবন ছিঁচকে চোর মাস্তান রিক্সওয়ালা দিনমজুর ধর্ষক-খুনীর বিচারকাজ করেই চাকুরী জীবন শেষ করে। সেসকল ক্ষেত্রে ১০হাজার টাকা ঘুষ পাওয়াও অনেক কঠিন এবং ১০০-৫০০জনের কাছ থেকে ১০-৫০লাখ টাকা পাওয়া অনেক কঠিন ও রিস্কি। অপরদিকে দুর্নীতির এক মামলাতেই ১০-৫০লাখ টাকা পাওয়া অনেক সহজ ও নিরাপদ। ২-৩ মামলাতেই কোটিপতি ও সারাজীবনের কামাই। কোন মানুষই দুর্নীতিবাজ হিসাবে জন্মায় না, পরিবেশ পরিস্থিতি তাকে দুর্নীতিবাজ বানায়। কোন বিচারকই দুর্নীতিবাজ হিসাবে জন্মায় না, পরিবেশ পরিস্থিতি তাকেও দুর্নীতিবাজ বানায়। সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়লেতো কথাই নেই। উপরন্তু ৬.৫০(সাড়ে ছয়)ঘন্টার স্থলে ১/২(আধ)ঘন্টা-১(এক)ঘন্টা এজলাস করলে দুর্নীতিবাজ হওয়ার দরকার নেই বা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ার প্রয়োজন হয়না, অজগরের গ্রাসের ন্যায় এমনিতেই বিচারকরা এর(সিন্ডিকেটের) পেটে ঢুকে যায়।

সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে বিচারকরা বের হবেন না বা হতে পারবেননা। কেননা ৬.৫০(সাড়ে ছয়)ঘন্টার স্থলে ১/২(আধ)ঘন্টা-১(এক)ঘন্টা এজলাস করলে তাদেরকে কোন জবাবদিহি করতে হয়না। এতে বিচারক ও সিন্ডিকেট উভয়ের লাভ। বিচারককে ৬.৫০(সাড়ে ছয়)ঘন্টা এজলাস করতে না হলে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এতে নির্দোষ হওয়া সত্বেও মানি-গুনী সরকারী কর্মকর্তাদেরকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে বা হচ্ছে। তখন তারাই(আসামীরা) বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটকে ১০-২০-৫০লাখ টাকা ঘুষ সাধবে, বিচারক ও সিন্ডিকেটকে ঘুষ চাওয়া লাগবেনা। ফলে বিচারক ও সিন্ডিকেট ”ঘুষ চাওয়া ও খাওয়ার দোষ” থেকে বাঁচবে, যদিও তারা তা(ঘুষ)খাবে।

বিভাগীয় স্পেশালজজ/স্পেশালজজদের প্রধান কাজ দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তি করা। কিন্তু তারা তা না করার জন্য জেলা ও দায়রাজজ, মহানগর দায়রাজজ অফিসে  তদবীর করে আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, এরূপ কিছু মামলা নেয়। এসব মামলায় কোন স্বাক্ষী গ্রহনের প্রয়োজন পড়েনা, এজলাসেই কয়েক মিনিটের শুনানীতেই রায় দেয়া যায়। ফলে সারা মাসে ১৩০-১৪০ঘন্টার এজলাস করার স্থলে মাত্র ২-৩ঘন্টা এজলাস করেই আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, এরূপ ২৫-৩০টি মামলা প্রতিমাসে নিষ্পত্তি করে মাসিক মামলা নিষ্পত্তির কোটা পূরন করে। দুর্নীতির বা অন্য গুরুত্বপূর্ন অর্থকরী মামলাগুলো ঝুলিয়ে রাখে।

মাদকের(ড্রাগ) মামলাগুলো বিভাগীয় স্পেশালজজ/স্পেশালজজ কোর্টে, মানবপাচারের মামলাগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয়।  দুর্নীতি, মাদক ও মানব পাচারের মামলায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকে। এসব কোর্টের বিচারকরা আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, এরূপ ২৫-৩০টি মামলা প্রতিমাসে নিষ্পত্তি করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট রাখে। দুর্নীতি, মাদক ও মানব পাচারের মামলাগুলো ঝুলিয়ে রেখে আসামীদেরকে বিশেষ করে দুর্নীতির মামলার আসামীদেরকে মারাত্মক মানসিক চাপে রাখে ঘুষ আদায়ের লক্ষ্যে।

২০০৯ থেকে অদ্যাবধি দুর্নীতির মামলা, মাদকের(ড্রাগ) মামলা, মানবপাচারের মামলাগুলোর বিচারকাজে প্রায় ৪(চার) শতাধিক জেলাজজ নিয়োজিত ছিল ও আছে।(এদের কেহ এর মধ্যে অবসরে গেছে, কেহ অন্যত্র বদলী, কেহ এসব কোর্টে কর্মরত)। আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত মামলা বাদ দিলে তাদের মূল মামলা নিষ্পত্তির হার অন্যান্য সৎ ও ন্যায়পরায়ন বিচারকের মামলা নিষ্পত্তির তূলনায় ১%-২% এরও কম।(আরও দ্রস্টব্যঃ- ২(দুই)টি দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তি ও ৪(চার) জেলাজজের দুর্নীতি, নিম্ন আদালতের সিস্টেম লস ৯৮%(আটানব্বই শতাংশ), লাওয়ারিশ নিম্ন আদালত- তুঘলকি কান্ড, ইত্যাদি)। ১%-২% এরও কম সংখ্যক  মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে সুষ্পস্টভাবে প্রমানিত যে, প্রায় ৪(চার) শতাধিক জেলাজজ কোন না কোনভাবে দুর্নীতিবাজ।

Related posts