১বছরের দুর্নীতি ও তার বিচার।

আমাদের গবেষনামতে দেশে বছরে প্রায় ২০(বিশ)কোটি সংখ্যক দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। কোন কোন ব্যক্তি বছরে কয়েকশত, এমনকি কয়েক হাজার সংখ্যক দুর্নীতি করে। বিশেষ বিশেষ কিছুক্ষেত্র ব্যতীত, বড়বড় দুর্নীতিগুলো বহুপক্ষের যোগসাজশে হয়ে থাকে। সেগুলো সাধারনত: প্রকাশ পায়না বা অভিযোগ হয়না। যেমন বেসরকারী হাউজিং-এর কার্য্যক্রমে রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বহু সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, প্লট বেচা-কেনায় ক্রেতা-বিক্রেতা, রেজিস্ট্রি অফিস, ইনকাম ট্যাক্স অফিসসহ বহু পক্ষ দুর্নীতির সাথে জড়িত। এবং এখানে প্রতিটি ঘটনায় ন্যুনতম কয়েকলক্ষ থেকে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। [দ্রস্টব্যঃ-

http://www.prothom-alo.com/opinion/article/628138/ মূল অভিযুক্তকে বাদ দিয়ে মামলা কেন?-বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি।

……………..

উল্লেখ্য, দুদক যে ব্যক্তিকে বেসিক ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে বাদ দিয়েছে, খোদ অর্থমন্ত্রী তাঁকে ‘ডাকাত’ বলে অভিহিত করেছিলেন। আবদুল হাই চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ব্যাংকটিতে যেসব আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে, তার দায় তিনি কোনোভাবে এড়াতে পারেন না। নাটের গুরুকে বাদ দিয়ে দুদক মামলা করলে অন্য অভিযুক্তরাও সহজেই ছাড় পেয়ে যাবেন।…………..

 

http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/52903 বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি ৫৪ মামলার সুপারিশ

বহুল আলোচিত বেসিক ব্যাংকঋণ কেলেঙ্কারিকে ঘিরে ৫৪টি মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল। আসামি করার সুপারিশ করা হয়েছে শতাধিক ব্যক্তিকে। তবে প্রতিবেদনে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুসহ কেলেঙ্কারি সময়কালের ওই ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের কাউকেই অভিযুক্ত করা হয়নি। দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল দুই বছরের বেশি সময়ে অনুসন্ধান শেষে ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা নিয়ে সংশয়ে ছিল কমিশন। এ কারণে কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করতে বিলম্ব হয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়।…………

http://www.jugantor.com/old/last-page/2015/05/01/257067 মোবাইল আমদানিতে বছরে ৪শকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি আমদানি করা মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম কম দেখিয়ে (আন্ডার ইনভয়েসিং) বছরে ৪শ’ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে অসাধু আমদানিকারকরা। আর এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাস্টমস বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) অথচ সেসব হ্যান্ডসেট তারা বাজারে বিক্রি করছে ৩শ’ থেকে ৫শ’ গুণ বেশি দামে।………. এরূপ আরও অগনিত ঘটনা। ]

প্রতিটি দুর্নীতির ঘটনায় ন্যুনতম ১(এক)লক্ষ টাকা বা তদুর্ধ পরিমানের অর্থের লেনদেন জড়িত, এরূপ কমপক্ষে ১(এক)কোটি সংখ্যক দুর্নীতির ঘটনা প্রতিবছর বাংলাদেশে ঘটে। যেহেতু  বহুপক্ষের যোগসাজশে এসব দুর্নীতির ঘটনা ঘটে থাকে এবং সুনির্দিস্ট অভিযোগ করার মত এবং আইনগতভাবে তা প্রমান করার মত সংক্ষুব্ধ কেহ থাকেনা, সেহেতু দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)কর্তৃক তা উদঘাটন ও প্রমান অত্যন্ত কঠিন। যেমন শেয়ারবাজার কেলেংকারী উদঘাটিত হলেও তারকোন বিচার হয়নি। বেসিক ব্যাংক কেলেংকারীর ৫৪টি মামলার ও হলমার্ক কেলেংকারীর একাধিক মামলায় মূল হোতারা(এরা গডফাদার) কোনটিতেই আসামী নহে। আবার অনেক দুর্নীতি দুদকের তফসিলভূক্ত ধারায় পড়েনা বা ফৌজদারী অপরাধ নহে, তবে দুর্নীতি। আবার অনেক দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী এবং তাদের কোন লিখিত বা ডকুমেন্টারী সংশ্লিষ্টতা থাকেনা। এভাবে বছরে প্রতিটি কয়েকশত বা হাজার টাকার ২০কোটি বা প্রতিটি দুর্নীতির ঘটনায় ন্যুনতম ১(এক)লক্ষ টাকা বা তদুর্ধ পরিমানের অর্থের ১কোটি সংখ্যক দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও অভিযোগ হয় কয়েকশত বা কয়েক হাজার, বাছাই করে অনুসন্ধান, তদন্ত হয় তার অনেক কম, মামলা হয় আরও কম, নিষ্পত্তি হয় আরও কম, শাস্তি হয় আরও কম।

যদি ধরে নিই যে, ১কোটি সংখ্যক দুর্নীতির ঘটনা(যেগুলোর ১(এক)লক্ষ টাকা বা তদুর্ধ পরিমানের অর্থের লেনদেন জড়িত), দুদকের তফসিলভূক্ত, অভিযোগকৃত এবং অনুসন্ধান ও তদন্তযোগ্য। দুদক গত সাড়ে ৮ বছরে(২০০৭ থেকে আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত) ২১ হাজার ৮৫৪টি অর্থাৎ বছরে গড়ে ২৫৪১টি অভিযোগের অনুসন্ধান করেছে। সে হিসাবে ১কোটি সংখ্যক দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান করতে দুদকের ৩৯৩৫বছর লাগবে। ২০০৯-২০১৫এর জুলাই পর্যন্ত দুর্নীতির মামলার নিষ্পত্তির হার বছরে গড়ে ২৯২টি। এভাবে চললে ১কোটি মামলা নিষ্পত্তি হতে ১,০০,০০,০০০/২৯২=আনুমানিক ৩৪,০০০ বছর লাগবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে ১(এক) বছরে ন্যুনতম ১(এক)লক্ষ টাকা বা তদুর্ধ পরিমানের অর্থের যে দুর্নীতি হয় তা দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান/তদন্ত করতে ৩৯৩৫ বছর এবং মামলা নিষ্পত্তি করতে প্রায় ৩৪,০০০ বছর লাগবে।

উপরের হিসাবকে যদি ১০০দ্বারা ভাগ করি, তাহলে বাংলাদেশে ১বছরের দুর্নীতি তদন্তে প্রায় ৪০বছর এবং বিচারে ৩৪০বছর লাগবে।

Related posts