“কেবল পয়সা খাইলেই দুর্নীতি হয় না।… বঙ্গবনধু শেখ মুজিবুর রহমান।“

“কেবল পয়সা খাইলেই দুর্নীতি হয় না। বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করা যেমন দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি দেওয়াও তেমনি দুর্নীতি। একইভাবে নীচের অফিসারদের কাজ না দেখাটাও দুর্নীতি। – বঙ্গবনধু শেখ মুজিবুর রহমান।“

১৯৭৫সালে বঙ্গভবনে এক সভায় বঙ্গবনধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্নীতিকে সুষ্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে গেছেন। কিন্তু এখনও বহু লোক নগদ অর্থ ঘুষ নেওয়া বা সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ করাটাকেই দুর্নীতি বলে মনে করে। কিন্তু এর বাইরেও যে অনেক বড় দুর্নীতি আছে তা অনেকেই মনে করেন না বা স্বীকার করেন না। দুর্নীতির(Corruption)-সংজ্ঞায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আমরা অনেক পরহেজগার বিচারককে দেখেছি, যারা সাড়ে ছয় ঘন্টা এজলাস সময়ের স্থলে মাত্র কয়েক মিনিট এজলাস করেই নেমে গেছেন। অথচ তাদের হাতে প্রচুর এজলাসীয় কাজ ছিল। এরা কোর্ট থেকে কয়েকশত গজ বা এক-দেড় কিলোমিটার দুরত্বের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষীকে সমন ও ওয়ারেন্ট দিয়েও ৩-৪বছরে হাজির করাতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে এসকল সমন ও ওয়ারেন্ট বাস্তবে ইস্যু হয়নি।

অথচ বিরাট অংকের ঘুষের প্রস্তাব যখন ছিল, তখন এই বিচারক ৪-৫শত কিলেমিটার দূর থেকে একই তারিখে ৮জন স্বাক্ষী হাজির করেন। উভয় ক্ষেত্রেই (কয়েকশত গজ বা এক-দেড় কিলোমিটার দুরত্বের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষীকে সমন ও ওয়ারেন্ট দিয়েও ৩-৪বছরে হাজির করতে না পারা এবং ৪-৫শত কিলেমিটার দূর থেকে একই তারিখে ৮জন স্বাক্ষী হাজির করা) বিচারকের দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতি উভয়ই প্রমানিত হয়েছে। এ উভয় ক্ষেত্রেই বিচারক টাকা না খেয়েও দুর্নীতি করেছেন।

বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে এরূপ হাজার হাজার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, যারা নগদ ঘুষ খান না বা সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ করেন না, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে ফাঁকি দেন। কাজে ফাঁকি দেওয়াটাকে তারা দুর্নীতি বা অপরাধ বলে মনে করেন না।

ইদানীং আরেকটি প্রবনতা দেখা যায় যে, শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) তফশীলভুক্ত দুর্নীতিকেই অনেকে দুর্নীতি বলে মনে করেন। কেহ জেল খাটলেই সে দুর্নীতিবাজ বলে অনেকে মন্তব্য করেন। কিন্তু এর বাইরেও যে অনেক বড় দুর্নীতিবাজ আছে তা অনেকের ধারনাতেই নাই বা মানতে চায়না। চাকুরীবিধিতে এমন অনেক ধারা আছে যদ্বারা কোটি টাকা মূল্যের চাকুরী থেকে ডিসমিস করাও সম্ভব। এক্ষেত্রে যেহেতু জেল খাটা হয়না, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুর্নীতিবাজ নহে বা সমাজে অচ্যুত নহে। অপরদিকে ৫০০টাকা ঘুষের জন্য তহশিল অফিসের কেরানীর জেল হয় এবং সে দুর্নীতিবাজ হয়ে যায়।

Related posts