বাংলাদেশে আড়াই কোটির বেশী মানসিক রোগী।

প্রতিবছর ১০ই অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। দিবসের বিভিন্ন রিপোর্ট ও প্রবন্ধ থেকে দেখা যায় যে বাংলাদেশে প্রায় ১৬.১০% বা প্রায় ২.৫০কোটির বেশী মানসিক রোগী। অনেকেই মানসিক রোগী ও পাগল বা উম্মাদকে একসাথে করে ফেলেন। আসলে মানসিক রোগী ও পাগল বা উম্মাদ এক নহে। মানসিক রোগী  মানেই পাগল বা উম্মাদ নহে। তবে সমস্যা হচ্ছে পাগল বা উম্মাদকে চেনা যায়, সকল মানসিক রোগীকে চেনা যায়না বা তাকে একথা বলাও যায়না।

আমেরিকায় গতবছরের প্রতিপাদ্য ছিল “সিজোফ্রেনিয়া”। যদি কারও সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে,  সে যদি প্রেসিডেন্টও হয়, তাহলে তাকে অপসারন করা যাবেনা, চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, ইত্যাদি ব্যবস্থা নিতে হবে। একথা দিয়ে প্রকারান্তরে আরেকটি বিষয়কে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে যে, সেদেশেও অনেক শিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তি মানসিক রোগী আছে। আমাদের দেশেও উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবিত্ত ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রচুর মানসিক রোগী আছে। সাধারনভাবে এদেরকে চেনা যায়না কেবলমাত্র ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, বন্ধু বা সহকর্মী ব্যতীত।

মানসিক রোগী, কিন্তু বাহ্যিকভাবে সুস্থ এরূপ  উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবিত্ত ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে “নার্সিসিস্টরা“ বেশী বিপজ্জনক। “নার্সিসিস্টরা“ আপন মোহে মুগ্ধ থাকে ও তাদের অপরের প্রতি সহমর্মিতার অভাব থাকে। অনেকটা স্বার্থপরের কাছাকাছি। এ চরিত্রের মানুষরা একান্ত আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। অপরের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা-সম্মান প্রদর্শন করে না। অন্যের মতামতের কোনো মূল্যায়ন করে না। শুধু তার প্রশংসাকারীদের সে অসম্ভব আপনজন ভেবে থাকে। এরা নিজেদের কর্মকাণ্ডে নিজেরাই অভিভূত হয়ে থাকে, অপরের অর্জনগুলোকে খাটো করার সর্বাত্মক প্রয়াস চালায়। নিজেদের কাজের বিন্দুমাত্র সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, এমনকি তার কাজের প্রশংসা না করলে সেসব ব্যক্তির প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ প্রকাশ করে থাকে। এরা নিজেদের সব কাজের কাজি ভাবতে শুরু করে।(তথ্য সূত্র ও কৃতজ্ঞতাঃ-যুগান্তর-১২-০১-২০১৫-রাজনৈতিক দলের চিন্তাচেতনায় নারসিসি জমের  বৈশিষ্ট্য -মো. আবদুল মুহিত- শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।

বাহ্যিকভাবে সুস্থ কিন্তু সিজোফ্রেনিক ও নার্সিসিস্টরা নীরবে দেশের ভয়ানক ক্ষতি করছে।

www.corruptionwatchbd.com

Related posts