দুর্নীতি, দুরারোগ্য ব্যাধি এবং মানসিক অসুস্থতা।

বিশ্বখ্যাত বীর ও সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি মানসিক রোগ ছিল। আর তা হচ্ছে, বিড়াল দেখলে তিনি শুধু ভয়ই পেতেন না, কখনও কখনও মূর্ছা যেতেন। তাঁহার মত বীরের পৃথিবীর কোন কিছুকেই ভয় পাওয়ার কথা নহে। বড়জোর সিংহ, বাঘ, ভালুক, হাতী দেখলে একটু ভয় পেতেই পারেন। বিড়াল এত নিরীহ প্রানী যে, ইহা কাউকে কামড়ায় না, কামড়ালেও ইহার কোন বিষ নাই, ইহাতে মানুষের কোন ক্ষতি হয়না। বরং পোষা প্রানীর মধ্যে পৃথিবীর সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে, সম্ভবতঃ বিড়ালই সবচেয়ে বেশী প্রিয়। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত যে, বিড়াল দেখলে মূর্ছা যাওয়া বা ভয় পাওয়া তাহার(নেপোলিয়ন) একধরনের মানসিক রোগ।

আমি তাহার মত বীর ও সম্রাট নহি, অতি সাধারন একজন মানুষ। তবে নেপোলিয়নের মত আমারও একধরনের মানসিক রোগ আছে। যেমন বাহ্যিকভাবে ভাল মানুষ, সৎ, পরহেজগার, উচ্চশিক্ষিত, উচ্চপদস্থ, উচ্চবিত্ত, এরূপ কিছুলোক কর্তৃক তাদের নিজেদের অতি ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য অন্যের বা রাস্ট্রের বিরাট স্বার্থ ত্যাগ করা, প্রকাশ্যে বা গোপনে অতি নীচ কাজ করা, ইতরামী, নোংরামী করা, বাহ্যিকভাবে বা সমাজে ভাল মানুষ বলে পরিচিত কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার বিপরীত, ইত্যাদি ইত্যাদি দেখলে আমি ভয় পাইনা বা মূর্ছা যাইনা, তবে ভয়ানক মানসিক যন্ত্রনায় ভূগী।

সকল মানসিক রোগ সবসময়ে খারাপ নহে। যেমন নেপোলিয়ন দেশ জয় করতে গিয়ে যুদ্ধে অপর পক্ষের ক্ষতি করলেও সাধারনভাবে কারও তেমন ক্ষতি করেছেন বলে জানা যায়না। কিন্তু বাহ্যিকভাবে ভাল বা মানসিকভাবে সুস্থ হলেও রবার্ট ম্যাকনামারা ও কন্ডোলিৎসা রাইসের কুপরামর্শে ভিয়েতনাম ও ইরাক ধ্বংস হয়ে যায়, বিশ্ব অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যায়। রবার্ট ম্যাকনামারা, কন্ডোলিৎসা রাইস ও তাদের সহযোগীরা অবশ্যই মানসিক রোগী। তাদের ভয় ছিল ভিয়েতনাম কম্যুনিস্ট হয়ে যাচ্ছে বা কম্যুনিস্ট ব্লকে চলে যাচ্ছে, ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্র আছে। ভিয়েতনাম কম্যুনিস্ট হয়ে গেলে বা কম্যুনিস্ট ব্লকে চলে গেলে, ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্র থাকলে তাদের অসুবিধা বা ভয় কি? ২জন মানসিক রোগী(রবার্ট ম্যাকনামারা, কন্ডোলিৎসা রাইস) কিভাবে ২টি দেশকে ধ্বংস করল। তাদের মানসিক রোগ না হয়ে ক্যান্সার, এইডস হলে শুধু তারা মারা যেত, কোটি কোটি লোক বেঁচে যেত।

প্রতিবছর ১০ই অক্টাবরে পালিত বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে ১৬.১০% বা প্রায় আড়াই কোটির বেশী লোক কোন না কোনভাবে মানসিক রোগাক্রান্ত। সমাজে রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ন নীতি নির্ধারনী পদে এদের(মানসিক রোগাক্রান্ত)একটি বিরাট অংশ অধিষ্ঠিত, যারা সিজোফ্রেনিক ও নার্সিসিস্ট, যাহা মানসিক রোগের আরেক ভয়ানক লক্ষন। এদের মানসিক রোগের জন্য দেশ ও জাতির বিরাট ক্ষতি হচ্ছে।

কখনও কখনও ক্ষমতাশালীদের দুর্নীতির চেয়েও মানসিক রোগ ভয়াবহ। প্রবাদ আছে যে, পাগলের হাতে কুড়াল, গেদার পায়ে বল। পাগলের হাতে কুড়াল থাকলে বা দিলে, সে তা কোনদিকে চালাবে সে জ্ঞান তার নেই। কুড়াল একটি “ক্ষমতা”। গেদার পায়ে বল থাকলে সে তা নিজের গোলবারে নাকি প্রতিপক্ষের বারে ঠেলে দিবে সে হুঁশ বা জ্ঞান তার নেই। পায়ের কাছে বল থাকা একটি “সুযোগ”।

আমাদের দেশে প্রচুর মানসিক বিকারগ্রস্ত ক্ষমতাবান লোক আছে, যারা প্রচুর ধ্বংসাত্মক কাজ করে যাচ্ছে, যার ক্ষতির পরিমান শত-হাজার-লাখকোটি টাকা। এসব বিবেচনায় মানসিক অসুস্থতা/বিকারগ্রস্ততা দুর্নীতি, ক্যান্সারসহ দুরারোগ্য ব্যাধির চেয়েও ভয়াবহ।

 

Related posts