২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা,আওয়ামী লীগের ভোটের রেকর্ড এবং ..

** বহুল প্রচারিত প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার ০৬০১২০১৬তারিখের একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল এরূপঃ-“পৌরসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষন.লীগের ভোটের রেকর্ডে বিশ্লেষকেরা বিস্মিত

ভোটের রেকর্ড বিশ্লেষনের পূর্বে আমরা কিছু রেকর্ড বিশ্লেষন করি।

২১শে আগস্ট ২০০৪সালে গ্রেনেড হামলায় জিয়া পরিবার জড়িত ছিল কি ছিলনা ইহা বিতর্কিত বিষয়। পৃথিবীর অনেক সত্য ঘটনা শতভাগ প্রমান করা যায়না। তাই জিয়া পরিবারের সংশ্লিষ্টতাও শতভাগ প্রমান করা কঠিন। তবে বিএনপি পরিবার যে ২১শে আগস্ট ২০০৪সালের গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল ইহা সত্য। তৎকালীন সরকার ছিল বিএনপির এবং হাওয়া ভবনের, যার নেতৃত্বে ছিল জিয়া পরিবার। “জজ মিয়া” নাটক যদি সত্যও হয়, অর্থাৎ “জজ মিয়া” যদি গ্রেনেড মেরেও থাকে, তাহলে এতবড় ঘটনায় “জজ মিয়া”-র এমনকি ঠ্যাকা লেগেছে যে, সে গ্রেনেড মেরে এত লোক মারবে? সাথে শেখ হাসিনাকেও। এসত্যটি বের করার সম্পূর্ন দায়িত্ব ছিল তৎকালীন জিয়া পরিবারের(বিএনপি সরকার ও হাওয়া ভবনের)। তারা(জিয়া পরিবার) দায়িত্ব  পালন না করতে পারে, সেজন্য দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা হতে পারে, যা দেওয়ানী অপরাধ। কিন্তু যেহেতু তারা সম্পূর্ন বিপরীত কাজ করেছে, অর্থাৎ অপরাধীদেরকে আড়াল করার বা বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছে, সেহেতু ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়িত্ব ১০০% তৎকালীন জিয়া পরিবারের(বিএনপি সরকার ও হাওয়া ভবনের) উপর বর্তায়। ডাকাত বা চোর ডাকাতি বা চুরি করে আগে। যে বা যারা ডাকাতি বা চুরির মাল জেনেও তা ক্রয় করে, তারাও সমান অপরাধী। ক্রেতা হয়ত পূর্বাহ্নে ডাকাতি বা চুরির কথা জানেনা, ডাকাত বা চোর কখন কোথায় ডাকাতি বা চুরি করেছে বা করবে, তাও জানেনা। কিন্তু যখন জানল মালগুলি ডাকাতি বা চুরির, তখন ক্রেতার দায়িত্ব ডাকাত বা চোরকে ধরিয়ে দেওয়া। নিজে লাভবান হওয়ার স্বার্থে ক্রেতা ডাকাত বা চোরকে ধরিয়ে দেয় না।

অনুরূপভাবে যদি ধরে নেওয়া হয় যে, পূর্বাহ্নে জিয়া পরিবার(খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) ২১শে আগস্ট ২০০৪সালের গ্রেনেড হামলার কথা জানতনা। কিন্তু যখন জানল বা ঘটনা ঘটল, তখন তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু তারা করেছে বিপরীত। ডাকাতি বা চুরির মাল ক্রেতা কমদামে কিনে ক্রেতা যেমন বেনিফিসিয়ারি, তেমনি ২১শে আগস্ট ২০০৪সালের গ্রেনেড হামলার আজীবন বেনিফিসিয়ারি হত জিয়া পরিবার(খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান), সাথে বিএনপি পরিবার।

১৯৭৫সালের ১৫ই আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডের পরও তৎকালীন উপ-সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানের বক্তব্যও ছিল ধৃষ্টতাপূর্ন। জিয়াউর রহমানের বক্তব্য নাকি ছিল এরূপ-প্রেসিডেন্ট নিহত হয়েছে, কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্টতো আছেন, অসুবিধা কি? কালক্রমে সে নৃশংস হত্যাকান্ডের বেনিফিসিয়ারিও ছিল জিয়াউর রহমান তথা জিয়া পরিবার। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে রক্ষা ও পূনর্বাসিত করে ডাকাতি বা চুরির মাল ক্রেতার মত বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মত সমান অপরাধ করেছেন। এভাবে আইন মোতাবেক ১৯৭৫সালের ১৫ই আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডের ও ২১শে আগস্ট ২০০৪সালের গ্রেনেড হামলায় হত্যাকান্ডের জন্য জিয়া পরিবার(জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান)সমান অপরাধী।

একটি অপরাধের পাল্টা অপরাধ গ্রহনযোগ্য নহে, আইনসম্মত নহে। কিন্তু পৃথিবীতে প্রতিশোধ স্পৃহা, বিশেষ করে রাজনীতিতে, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই চলে আসছে। ১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ড ও ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যাকান্ড ছিল বেনিফিসিয়ারিদের রাস্ট্রীয় ক্ষমতা নিরংকুষ ও নিষ্কন্টক করা। শেখ হাসিনা মারা গেলে আজীবন বিএনপির আর কোন প্রতিপক্ষ থাকেনা। ১/১১পূর্ববর্তী ঘটনাও ছিল আওয়ামী লীগকে ঠকিয়ে বিএনপির ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার অপচেষ্টা। ১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ড, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যাকান্ড ও ১/১১পূর্ববর্তী ঘটনার প্রতিশোধ স্বরূপ আওয়ামীলীগ সরকার, বিশেষ করে শেখ হাসিনা কর্তৃক খালেদাকে হত্যা করার চেষ্টা হতে পারত। গুমসহ বহু আকারেই এটা সম্ভব ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার সেটা না করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তবে slow poisoning-রূপে বিএনপিকে পঙ্গু করার সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। অবশ্য বিএনপিও পেট্রোলবোমা ও দীর্ঘ হরতাল অবরোধ দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারকে সে সুযোগ করে দিচ্ছে।

রাস্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে জিয়াউর রহমান কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে রক্ষা ও পূনর্বাসিত করা, ২১শে আগস্টের খুনীদেরকে রক্ষার চেষ্টা করা, ১/১১পূর্ববর্তী ঘটনা ঘটানো, ইত্যাদির প্রতিশোধ স্বরূপ, যদি ১/১১-এর মত অস্বাভাবিক কোন ঘটনা না ঘটে, তাহলে রাস্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে আজীবন আওয়ামীলীগের সরকারে থাকার চেষ্টা করা অস্বাভাবিক কিছু নহে। আর মেয়র ইলেকশনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর অস্বাভাবিক ভোট কাস্ট করানোতো প্রশাসনের লোকরাই করেছে বা তাদের সরব/নীরব সহযোগিতায় করেছে।

আ.লীগের ভোটের রেকর্ডের মত কোন অনিয়মই গ্রহনযোগ্য নহে, সমর্থনযোগ্য নহে। কিন্তু দেশ চলছেতো। ইউপি মেম্বার চেয়ারম্যান মেয়র কমিশনাররা বহাল তবিয়তে আছেন এবং দিব্যি কাবিটা কাবিখা খাচ্ছেন এবং হজমও করছেন। ১৬কোটি মানুষের কেহ প্রতিবাদ করছেনাতো। করেইবা কি হবে, নিজেরা মিথ্যা মামলায় জড়াবে নাকি?

উপরের বিশ্লেষন থেকে ইহাই কি প্রমান হয়না যে, ১৯৯০এর পরের সকল অরাজকতার জন্য,  আ.লীগের ভোটের রেকর্ডের জন্য বিএনপি, জাপাও সমানভাবে দায়ী।

Related posts