অসুবিধা কি? প্রয়োজন কি? কারন কি?

স্কুলের বাংলা পদ্যে একটি কবিতার নাম ছিল “বিষম চিন্তা”। তার একটি লাইন এরূপঃ-মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছেনা কেউ জবাব তার, ……। বালক বা কিশোর, যখন মানুষের শেখার বয়স, তখন মনে বহু প্রশ্ন জাগে। যুবক, প্রৌঢ়, বৃদ্ধ বয়সেও এরূপ প্রশ্ন জাগতে পারে, যেমন আমার জাগছে। তবে কবিতার বালক বা কিশোরের বহু প্রশ্নের চেয়ে, বহু বিষয়ে আমার ৩-৪টি প্রশ্ন বেশী বেশী জাগে, যেমনঃ-অসুবিধা কি? প্রয়োজন কি? কারন কি?

সংবাদে প্রকাশ বাংলাদেশের মুসা বিন শমসের ১(এক)লক্ষ কোটি টাকার মালীক। হতেই পারে। বিলগেটস, রকফেলাররা তার চেয়ে আরও বহুগুন টাকার মালীক। বিলগেটস, রকফেলারদের বিষয়ে অনেকেই কোন প্রশ্ন উঠাবেনা, বিভিন্ন কারনে। তবে কেউ প্রশ্ন উঠাক বা না উঠাক, একটা বিষয়ে সে দেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, ইনকামট্যাক্স অফিসসহ কেহই তাদের বিরুদ্ধে এখনও একথা বলেনি যে, অবৈধভাবে, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে, জোর করে সরকারী-বেসরকারী জমি দখল করে, নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়, জলাধার, পানিপ্রবাহের যায়গা ভরাট করে, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার, ইউটিলিটির যায়গা না রেখে, মাদক ও অবৈধভাবে  মানব পাচার করে, বা এরূপ কিছূ করে তারা(বিলগেটস, রকফেলার গং) এত টাকা(কয়েক হাজার বিলিয়ন ডলার) রোজগার করেছে। সুপ্রীম কোর্ট তার বিপক্ষে রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমরা তার(মুসা বিন শমসের) টাকা বৈধ বলেই ধরে নিব। এবং তার(মুসা বিন শমসের) বিরুদ্ধেও উপরোক্তরূপ(অবৈধভাবে, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে, জোর করে সরকারী-বেসরকারী জমি দখল করে, নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়, জলাধার, পানিপ্রবাহের যায়গা ভরাট করে, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার, ইউটিলিটির যায়গা না রেখে, মাদক ও অবৈধভাবে  মানব পাচার করে, বা এরূপ কিছূ করে) কোন অভিযোগ বিগত ১০-২০বছরে মানুষের মুখে কিংবা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিায়ায় দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি, যেরূপ দেখা যায় বা শোনা যায় শতশত বা হাজার হাজার কোটি টাকার মালীক আমাদের দেশের ভূমিখেকো, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে। আমাদের দেশে দেশী ও বহুজাতিক বহু ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান আছে গোপনে ট্যাক্স ফাঁকি দিলেও বা না দিয়েও শতশত বা হাজার হাজার কোটি টাকার মালীক আছেন, যাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আইন কানুন অমান্য করে, জোর জবরদস্তি করে ব্যবসা করার কোন অভিযোগ নাই বা প্রমান নাই। এতে ইহাই প্রমানিত হয় যে, বৈধভাবে, ট্যাক্স ফাঁকি না দিয়ে, জোর করে সরকারী-বেসরকারী জমি দখল না করে, নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়, জলাধার, পানিপ্রবাহের যায়গা ভরাট না করে, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার, ইউটিলিটির যায়গা রেখে, মাদক ও অবৈধভাবে  মানব পাচার না করেও শত শত বা হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করা যায়, মালীক হওয়া যায়।

কোন খারাপ কাজের পক্ষেই কোন যুক্তি নাই বা সমর্থনযোগ্য নহে। তথাপি অভাবের তাড়নায় চোর-ডাকাতরা ২-৪শতক যায়গা দখল, ২-৪লাখ টাকার অনিয়ম দুর্নীতি করতেই পারে। কিন্তু এনবিআরের হিসাবে যারা নীট কয়েকশত কোটি টাকার মালীক(বাস্তবে মুসার চেয়েও বেশী সম্পদের মালীক), সম্পদের আর বৃদ্ধি না হলেও কেয়ামত পর্যন্ত তাদের আওলাদ-পর্যন্দ রাজারহালে দিন কাটাতে পারবে, তাদেরকে অবৈধভাবে, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে, জোর করে সরকারী-বেসরকারী জমি দখল করে, নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়, জলাধার, পানিপ্রবাহের যায়গা ভরাট করে, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার, ইউটিলিটির যায়গা না রেখে, সেটব্যাক না রেখে, ইত্যাদি নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে, ২-৪-৬ বা ততোধিক আইন অমান্য না করে টাকা রোজগার করার প্রয়োজন কি?  আর টাকা রোজগার করতে না পারলে অসুবিধা কি?  এত অনিয়ম করে টাকা রোজগার করার কারন কি?

Courtesy:- www.corruptionwatchbd.com

Related posts