২(দুই)টি দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তি ও ৪(চার) জেলাজজের দুর্নীতি।

নিম্ন আদালতের বিচারক ও সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি ও মামলাজট প্রসঙ্গে আমরা বহু রিপোর্ট করেছি, আরও অনেক রিপোর্ট প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। বিগত কয়েক মাসে জনৈক বিচারপ্রার্থীর আকুতি সম্বলিত কিছু চিঠি আমাদের হস্তগত হয়, যা তিনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপীল বিভাগের সকল মাননীয় বিচারপতি, মাননীয় আইন মন্ত্রী/সচিব, দুদকের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রমুখকে লিখেন। চিঠিগুলোর সূত্রে ২টি দুর্নীতির মামলার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে এমন কিছু তথ্য আমরা পাই যে, তাতে শুধু আমাদের রিপোর্টই নহে, টিআইবি, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিজেদের বা মাননীয় প্রধান বিচারপতি/বিচারপতিদের নিম্ন আদালত ও এর বিচারক/স্টাফদের অনিয়ম দুর্নীতি সংক্রান্ত বক্তব্য শতভাগ সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে।
২টি মামলার আসামী হিসাবে বিগত প্রায় সাড়ে সাত বছর যাবৎ কোর্টে যাতায়াতের ফলে স্বচক্ষে যা দেখেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরূপ আসামী/বিচারপ্রার্থীদের, সংশ্লিষ্ট পিপি/উকিলের বক্তব্য, আমাদের অনুসন্ধানে আমরা যা পেয়েছি, তাতে বাংলাদেশের নিম্ন আদালতের সকল বিচারককে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই যে, ২০০৯সাল থেকে বিগত সাড়ে সাত বছরে যে মামলা নিষ্পত্তি হয়নি, বাংলাদেশের নিম্ন আদালতসমুহে(বিভাগীয় স্পেশাল জজ/স্পেশাল জজ) বিচারাধীন দুর্নীতির প্রায় সকল মামলা মাত্র ৬(ছয়)মাস থেকে ১(এক)বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি সম্ভব। (বিশেষ কোন ব্যতিক্রম এবং মাননীয় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ব্যতীত)।
বিচারকদের দুর্নীতির কারনে বিভাগীয় স্পেশাল জজকোর্ট, সিলেট থেকে স্থানান্তরিত, বর্তমানে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটে বিচারাধীন ২টি মামলার সাথে (স্পেশাল মামলা নং-২১/০৯, ২৩/০৯) ৪জন জেলাজজের মধ্যে ১ম ২জন আর্থিকভাবে ভয়ানক দুর্নীতিবাজ ছিল। পরবর্তী ২জনকে আর্থিকভাবে সৎ মনে হলেও তারা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মী। যদ্দরুন কোর্ট কর্তৃক আমলে নেওয়ার ৭বছর পরও মামলা ২টি নিষ্পত্তি হচ্ছেনা। বিচারকদের জিম্মী হওয়ার জন্য তারা(বিচারক) নিজেরাই দায়ী। সৎঅসৎ নির্বিশেষে সকল বিচারক রবিবার, বৃহস্পতিবারতো বলতে গেলে এজলাসে বসেইনা, অন্যান্য কোন কোন দিন কখনও কখনও ২০২৫মিনিটের বেশী এজলাসে বসেননা। এটাই তাদের জিম্মী হওয়ার জন্য প্রধানতঃ দায়ী।

“  http://www.ittefaq.com.bd/court/2015/09/20/36888.html
আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন সম্ভব নয়
…………………..
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বেল পিটিশন, ইনজাংশন পিটিশনগুলো আগে সকালে শুনানি করা হতো। বিকেলে আর এ বেল পিটিশনগুলোর শুনানি করতেন না। আমি নিজে কোর্ট থেকে নামার পর বিভিন্ন স্টেশনে সেশনস জজদের আড়াইটার সময় ফোন করেছি। কেউ বাসায় চলে গেছেন, কেউ কোর্টে উঠেন না। তাদেরকে বাধ্য করার জন্য বিকেলে বেল পিটিশন করতে বলেছি।”

সাবেক মাননীয় প্রধান বিচারপতিগনও এভাবে বহুবার দেখেছেন যে, নিম্ন আদালতের বিচারকরা খুব কম সময় এজলাস করেছেন এবং সেসকল খবর একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, যা আমাদের কাছে রক্ষিত আছে। অর্থাৎ নিম্ন আদালতের বিচারকদের খুব কম সময় এজলাস করার আমাদের তথ্য সঠিক।

“ http://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2015/01/23/178903

নিয়মিত বিচার বিভাগীয় ও পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট সম্মেলনের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির।  …….

চতুর্থ দফা নির্দেশনায় প্রধান বিচারপতি বলেন, জেলা  দায়রা জজঅতিরিক্ত জেলা  দায়রা জজরা প্রতিদিন ফৌজদারি বিবিধ মামলা নিষ্পত্তি করে বিশেষ আইনের মামলার বিচারকাজ শুরু করবেন এবং অবশ্যই প্রতি কর্মদিবসের দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ পর্যন্ত দেওয়ানি আপিল, দেওয়ানি রিভিশন, ফৌজদারি আপিল  ফৌজদারি রিভিশন  অন্যান্য মূল দেওয়ানি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করবেন।

অতি অল্প সময় এজলাস করা বা বিকেলে এজলাস না করা সংক্রান্ত সাবেক ও বর্তমান মাননীয় প্রধান বিচারপতিদের আদেশ নির্দেশ পালন না করায় তাদের ক্ষোভের বহু তথ্য আমাদের কাছে আছে, যা বিচারকদের সরাসরি দুর্নীতি।

১০লাখ টাকার ঘুষের দাবীর প্রেক্ষিতে উপরোক্ত ২টি মামলার ২য় বিচারক ওয়ারেন্ট বা পুলিশী সহায়তা ছাড়াই সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, টঙ্গী, প্রভৃতি স্থান হতে চাকুরীরত/অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ৮(আট)স্বাক্ষীকে ২৬-৯-২০১২ইং একদিনেই সিলেটে হাজির করিয়ে ৩৫-৪০মিনিটে সকলের স্বাক্ষ্য নেয়। একই বিচারক হরতালের দিন অপরাহ্নে পিপি/উকিলকে বাসা থেকে ডেকে আনিয়ে স্বাক্ষ্য নেন। তার পূর্বে এই বিচারক বরিশাল থেকে সিলেটে আগত দুদকের উপপরিচালকের আংশিক(৩-৪মিনিট) স্বাক্ষ্য নিয়ে পিপি উকিলদের অনুরোধ সত্বেও তুচ্ছ কারনে(annexure ঠিক করা ছিলনা, যা ২-৩ মিনিটের কাজ) ফিরিয়ে দেয়। স্বাক্ষ্য নেওয়ার জন্য  বিচারকদের হাতে প্রচুর সময় থাকা সত্বেও এরূপ আরও কয়েক স্বাক্ষীকে তুচ্ছ কারনে ফিরিয়ে দেয়।   ৩য় বিচারক হরতাল/অবরোধে পাবনা থেকে সিলেটে স্বাক্ষী হাজির করিয়ে স্বাক্ষ্য নেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, যারা দুদকের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক/উপপরিচালক, দুদকের পিপি যাদেরকে বিদেশে অবস্থানরত বলে আসছিলেন, ৪র্থ বিচারকের ভাষায়, সেই “কঠিন” স্বাক্ষীকেও ওয়ারেন্ট বা পুলিশী সহায়তা ছাড়াই হাজির করিয়ে স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়। প্রকাশ্য আদালতে ৪র্থ বিচারকের ভাষ্য মোতাবেক গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরেই মামলা ২টি নিষ্পত্তি হয়ে যেত। কিন্তু যে বিচারক মামলা নিষ্পত্তিতে প্রকাশ্য আদালতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তিনিই সম্পূর্ন বিপরীত অবস্থানে চলে যান এবং নানা অজুহাতে মামলা নিষ্পত্তি বিলম্বিত করছেন।
উপরের বাস্তব তথ্য মোতাবেক ইহা সুষ্পস্ট যে, স্বাক্ষী হাজির করানো/না করানো, স্বাক্ষী হাজির হলেও ফিরিয়ে দেওয়া, দুদকের পিপি/বিচারপ্রার্থীর উকিল কোর্টে হাজির থাকা না থাকা, মামলার পরবর্তী তারিখ প্রদান, ঘুষের প্রস্তাবে ৫শ কিলোমিটার দুর থেকে স্বাক্ষী হাজির করানো, ঘুষের প্রস্তাবে রাজী না হলে ৫শগজ দুরের সরকারী চাকুরীরত স্বাক্ষীও ৭বছরে হাজির না হওয়া বা না করানো, ইত্যাদি সব কিছু বিচারকের এখতিয়ারে এবং তারা(বিচারকরা) এসব নিজ হাতে নিয়ন্ত্রন করেন।
“  http://www.thedailystar.net/district-courts-to-get-cmc-chief-justice-49409  Chief Justice Muzammel Hossain said the yearly case disposal rate in three pilot districts had increased from 74 percent to 98 percent.
He said, “In our justice system the overall responsibility of case flow management lies with the judges…”

“  In our justice system the overall responsibility of case flow management lies with the judges….” সাবেক মাননীয় প্রধান বিচারপতির এই উক্তিটি   theoretically নহে, practically প্রমান করেছেন উপরের ৪জন জেলাজজ- স্বাক্ষী হাজির করিয়ে,  স্বাক্ষী হাজির না করিয়ে, পিপি ও উকিলদেরকে হাজির করিয়ে, “কঠিন স্বাক্ষী” হাজির করিয়ে, ইত্যাদির মাধ্যমে।

মাননীয় সুপ্রীমকোর্টের আদেশ মোতাবেক কন্টিনিউয়াস হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে উপরোক্ত মামলা ২টি সর্বোচ্চ ৬০(ষাট) কার্য্যদিবসেই নিষ্পত্তি সম্ভব ছিল।     “মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ১২ কারন-  http://bangla.samakal.net/2015/07/21/150446   –  ….. মামলার স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহন শুরু হওয়ার পর স্বাক্ষ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত কন্টিনিউয়াস হেয়ারিং নীতি অনুসরন না করা …..।       “ http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/second-edition/2015/08/03/64066.html  পুরাতন মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির  অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরাতন মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন শুনানি অব্যাহত রাখতে নিম্ন আদালতের বিচারকদেরকে বলা হয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণে শুনানি মুলতবি করতে পারবেন বিচারকরা। সম্প্রতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই সার্কুলার জারি করা হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এই সার্কুলার জারি করেন।

সার্কুলারে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন আদালত পরিদর্শন করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। আদালত পরিদর্শনকালে প্রধান বিচারপতির কাছে প্রতিভাত হয় যে, মামলার/মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি এবং তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। মামলা/মোকদ্দমায় একবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন শুনানি অব্যাহত রাখার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কোন যৌক্তিক কারণ ব্যতিরেকে ইচ্ছামাফিক শুনানি মুলতবি করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা/মোকদ্দমার শুনানির তারিখ দীর্ঘ সময় পর অপেক্ষাকৃত নতুন মামলা/মোকদ্দমায় সংক্ষিপ্ত বিরতিতে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সার্কুলারে আরও বলা হয়, তিন বছরের বেশি পুরাতন মামলা/মোকদ্দমায় সাক্ষ্যগ্রহণকালে শুনানি যৌক্তিক কারণে মুলতবি একান্ত অপরিহার্য হলে যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ততম বিরতিতে (কোন ক্রমেই এক মাসের অধিক নয়) পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।” পুরাতন মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির। ১৪-০১-১৬ http://www.kalerkantho.com/home/printnews/313130 Top of Form

Bottom of Form

Top of Form

Bottom of Form

লক্ষ্মীপুরে প্রধান বিচারপতি-৫ বছর আগের সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করুন।

স্পেশাল মামলা নং-২১/০৯, ২৩/০৯-এর শুরুতে(২০০৯সালে) বিভাগীয় স্পেশাল জজকোর্ট, সিলেটে বিচারাধীন প্রায় ১৫০(একশত পঞ্চাশ)টি দুর্নীতির মামলা ছিল এবং ২০১৪সালে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটে বিচারাধীন মূল ১০০এবং আপীল, মিস আপীল, রিভিসন এরূপ সংক্ষিপ্ত ৩০০-৪০০মামলা চলমান ছিল। অর্থাৎ বিষয়টি এমন নহে যে, বেশী মামলার কারনে এবং সে কারনে বিচারকরা সময় পায়নি। এ মামলা দুটিতে স্বাক্ষী হাজির করানোর সকল সুযোগ থাকা সত্বেও বিচারকরা তাদের নিজেদের দুর্নীতির স্বার্থে কন্টিনিউয়াস হিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করেনি, ১(এক) মাসের কম সময়ের বিরতির পরিবর্তে দেড়-দুই- আড়াই-তিন-৫(পাঁচ) মাসের বিরতিতে পরবর্তী শুনানীর তারিখ ফেলেন। এত দীর্ঘ বিরতিতে পরবর্তী শুনানীর তারিখ ফেলেই তারা ক্ষান্ত হননি, পরবর্তী শুনানীর তারিখসমুহে শুনানী না করেই তারা আবার মুলতবী করেন এবং এভাবে শুনানীর তারিখের বিরতি ৬(ছয়) মাস থেকে ১(এক) বছর বা তারও বেশীতে গিয়ে দাঁড়ায়। যাহা তাদের দুর্নীতি।
অতএব  মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারন স্বাক্ষী হাজির না হওয়া বা বিচারকের ব্যস্ততা নহে, তাদের (বিচারকদের) সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মী হওয়া। এবং এ জিম্মী হওয়ার প্রধান কারন তাদের অতি অল্প সময় এজলাস করা বলে আমাদের ও সংশ্লিষ্ট সকলের অভিমত। অতি অল্প সময় এজলাস করা মানে দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা, যা বিচারকের একার দুর্নীতিই নহে, এ দুর্নীতি আরো অনেক দুর্নীতির জন্ম দেয়।
(আরও দেখুনঃ- ৪(চার)শতাধিক জেলাজজ দুর্নীতিবাজ)।

 

Related posts