বিনা খরচে এবং অথবা স্বল্প খরচে সুষ্ঠ বিদ্যুৎ সরবরাহ-পর্ব-১।

ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াও, সাপ্তাহিক ছুটি/সরকারী ছুটির দিন, এমনকি ঈদ-পূজার ছুটির দিনেও, যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম, কিন্তু উৎপাদন যথেষ্ট, এমন সময়েও সারাদেশের শহরে বন্দরে, গ্রামে-গন্জে মিনিটে মিনিটে, ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থিত একটি উপজেলায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত বিদ্যুৎ লাইন সত্বেও সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও উপরোক্ত পরিস্থিতিতে মিনিটে মিনিটে, ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। বিগত ২(দুই)বছরে এরূপ একটি উপজেলায় দেখা গেছে যে, একবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে একনাগাড়ে কয়েকদিন পূরো এলাকায়(উপজেলায়) আর বিদ্যুৎ আসেনা। এধরনের ঘটনা(বিগত ২(দুই)বছরে) অন্ততঃ কয়েকশতবার ঘটেছে। বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে এসময়ে তারও বেশীবার, যা একনাগাড়ে কয়েক ঘন্টা দীর্ঘায়িত হয়েছে।

 

লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এক নহে। লোডশেডিং হচ্ছে-চাহিদার তূলনায় উৎপাদন/প্রাপ্যতা কম হলে বিদ্যুতের সরবরাহ কেন্দ্র/উপকেন্দ্র হতে সরবরাহযাগ্য বিদ্যুতের অতিরিক্ত লাইন বন্ধ করে দেওয়া। আর বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে- সরবরাহ সিস্টেমে কোন ত্রুটির কারনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এত্রুটি কখনও কখনও এত ক্ষুদ্র যে শুধু একটি গাছের পাতা বিদ্যুতের খোলা তারে লাগলে পূরো উপজেলায়/বিরাট এলাকায় বিস্তৃত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু এধরনের ফল্ট চিহ্নিত করার জন্য বাংলাদেশে কোন fault detector নেই, তাই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের কোথায় এটা ঘটেছে, তা locate করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এরূপ অতি ক্ষুদ্র natural fault বহু হতে পারে, যদ্দরুন বিরাট জনগোষ্টির ভোগান্তির কারন হয়।

টেকনিক্যাল কারনেও বহু ক্ষুদ্র fault হতে পারে, যদ্দরুন একই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগেও খুঁটি ভাঙ্গা, তার ছেঁড়াসহ অপেক্ষাকৃত বড় fault হতে পারে। কর্তৃপক্ষের আর্থিক ক্ষমতা-জনবলের অভাবের কারনে এ faultগুলো সারতে কিছুটা সময় লাগলেও তা locate করা কোন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার নহে। ক্ষুদ্র টেকনিক্যাল faultগুলো যেমন-সরবরাহ লাইনের loop/jumper লুজ থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়া, লাইটনিং এ্যারেস্টর ফ্র্যাকচার হওয়া, ট্রান্সফর্মারের বুশিং ফ্র্যাকচার হওয়া, ট্রান্সফর্মারের নাটবোল্ট লুজ হওয়া, এরূপ আরো অনেক। এসব অতি ক্ষুদ্র যেকোন একটি বা একাধিক ফল্টের কারনে পূরো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা যেতে পারে। এসব ফল্টের সবচেয়ে বাজে দিক হচ্ছে যে, এগুলো লাইনের নীচ থেকে দেখা যায়না বলে locate করা বেশীরভাগ সময় কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশের গ্রামে-গন্জে তো বটেই, শহরে-বন্দরের সিংহভাগ বিদ্যুৎ লাইন/সার্ভিস লাইন unspecified. ঘুষ ও রাজনৈতিক কারনে বাড়ী-ঘরের শতশত/হাজার হাজার মিটার দীর্ঘ লাইন সিম্পলী ফ্লেক্সিবল তার, ছেঁড়া ফাটা তার দ্বারা গাছ/বাঁশের ঝাড়ের ভিতর দিয়ে নির্মিত। এসব লাইনের জন্য genuine সিংহভাগ consumer- suffer করে। এসব লাইন একবার নির্মিত হয়ে গেলেই তার দায়িত্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃপক্ষের হয়ে যায়। দেশে এরূপ হাজার হাজার কিলোমিটার unspecified বিদ্যুৎ লাইন আছে যা specified করতে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সারাদেশ বিবেচনায় unspecified সার্ভিস লাইন কয়েক হাজার কিলোমিটার হলেও গ্রাম বা এলাকাভিত্তিক এর পরিমান কয়েকশত মিটার বা কয়েক কিলোমিটার। সার্ভিস লাইন হচ্ছে-মূল লাইন থেকে কোন বাড়ী/ঘর/বানিজ্যিক স্থাপনায় সংযোগ লাইন, যা গ্রাহকের আগ্রহে নির্মিত হয়। পূর্বে যেভাবেই নির্মিত হোকনা কেন, যদিও এগুলোর দায়দায়িত্ব গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথা কর্তৃপক্ষের উভয়ের। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাজেট স্বল্পতাসহ নানা জটিলতায় specified করতে পারেনা। এসব গ্রাহকের সিংহভাগই স্বচ্ছল। যেমন প্রবাসী বাংলাদেশীরা গ্রামে নূতন বাড়ী/বিল্ডিং নির্মানে বহু লাখ এমনকি কোটি টাকা ব্যয় করে। বিদ্যুৎ সংযোগেও তারা অনেক টাকা ব্যয় করে, যার সিংহভাগ চলে যায় ঘুষে। ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটু সচেতন কিংবা relaxed হলে unspecified সার্ভিস লাইনকে অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের করতে পারে। যা নির্মিত হয়ে গেছে, তাহাও বর্তমানে গ্রাহক কর্তৃক উন্নতমানে পরিবর্তিত করা কোন বিষয়ই নহে। এসব unspecified সার্ভিস লাইন বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ প্রচুর পরিমানে সিস্টেম লস সৃষ্টি করে। (চলবে)

Related posts