জারজ তত্ব(Bastard theory)( অশ্লীল মনে না করে অনুগ্রহপূর্বক পড়ুন, মানুষের চরিত্র বুঝার জন্য এর প্রয়োজন আছে)।

 

১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৩ ইং কাদের মোল্লাকে নিয়ে আবারও লিখলেন গোলাম মাওলা রনি।নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মোল্লাকে নিয়ে আবার ফেসবুকে “অমানুষের পাশবিক নৃশংসতা এবং অশ্লীলতার ইতিবৃত্ত” শিরোনামে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, এই শতাব্দীর সেরা পন্ডিত শ্রী নিরোদ চন্দ্র চৌধুরী বহু বছর আগে লিখেছিলেন বাঙ্গালী জীবনে রমনী নামের এক অকাট্য প্রামাণ্য দলিল। নিরোদ বাবু চোখে অঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন যে- আবহমান বাংলার গ্রামগঞ্জে নারী পুরুষ কিভাবে অবাধ এবং নীতিহীন যৌনাচারে মেতে ওঠে এবং সমাজ সংসারকে ফাঁকি দিয়ে একের পর এক জারজ সন্তান পয়দা করে। প্রায় ষাট বছর হতে চললো- কিন্তু আজ অবধি নিরোদ বাবুর বইকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কোনো বাঙ্গালী লেখক কোনো বই রচনা করেননি।

দেশ বিদেশের সমাজ বিজ্ঞানীগণ এবং মনো বিজ্ঞানীগণ পিতা মাতার অবৈধ সন্তানদের কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট বর্ণনা করেছেন। প্রথমত: তারা কথায় কথায় অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে যাকে আমরা সোজা বাংলায় বলি- অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ। এরা খুবই অধৈর্য্য প্রকৃতির এবং সন্দেহ প্রবণ হয়ে থাকে। কখনো কখনো তারা অতিমাত্রায় অত্যাচারী হয়ে ওঠে আবার একই ব্যক্তি প্রতিকুল পরিবেশেনিজেকে ছোট করতে করতে পশুর পর্যায়ে নিয়ে যায়। তাদের বিবেক বলতে তেমন কিছু থাকে না। … …

 

 ১৩ডিসেম্বর, ২০১৩ ; কাদের মোল্লার উস্তেভাজি রনির জারজ তত্ত্ব ; মো. আবু সালেহ সেকেন্দার।শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

[গবেষক, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানীদের মতে বিশ্বে সব সময়েই জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ জারজ। এদের অনেকেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে রাজনীতিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যারিস্টার, বিচারক, প্রশাসক, দুদক, নীতিনির্ধারক, ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত।]

তৎকালীন এমপি রনি এবং জগন্নাথ ভার্সিটির শিক্ষক সেকেন্দার জারজ সন্তান নিয়ে লিখেছেন। তাদের লিখায় নিরোধ চন্দ্র চৌধূরীর উদ্ধৃতি এসেছে জারজ তত্বের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য। কিন্তু সকলের জারজ তত্বই অসম্পূর্ন। বিশ্বের এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনৈতিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে জারজ তত্বের আরও বিশদ আলোচনা প্রয়োজন।

সারাবিশ্বে সবসময়েই একটি বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী জারজ। কেহই তার জন্মের জন্য দায়ী নহে। তথাপি অনেককে জারজ না হয়েও এই গালিটি শুনতে হয়। কত লোক জারজ এটা অনুমান করা সম্ভব না হলেও ইহা আন্দাজ করা যায় যে, এইমুহুর্তে বিশ্বে কম করে হলেও ৫০কোটির বেশী লোক জারজ।

জারজ বহু প্রকারের হতে পারে। তবে আমরা মূলত: দুই শ্রেনীর জারজ নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমত: Voluntary(স্বেচ্ছাপ্রণোদিত), ২য়ত: Forced. Voluntary হচ্ছে নারী-পুরুষের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত বা উভয়ের স্বাভাবিক সম্মতিতে, যাহা আবার বহু ধরণের। Forced হচ্ছে সাধারনত: নারীর অনিচ্ছাকৃত-বিশেষ করে ধর্ষন, বল প্রয়োগ, ইত্যাদি কারণে জন্ম নেওয়া অবৈধ সন্তান, ইহাও বহু ধরণের।

বিষয়টি শ্রুতিকটু ও অনেকটা অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে বলে আমরা বিশদ আলোচনা করবনা(যদিও তার প্রয়োজন ছিল)। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশগুলোতে আমাদের দেশের তূলনায় অবৈধভাবে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী। তবে সেসবের অধিকাংশই Voluntary. কেননা সেসব অঞ্ছলে ধর্মীয় ও সামাজিক শীথিলতার কারনে বেশীরভাগ নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে অবৈধভাবে সন্তানের জন্ম দেয়। অপরদিকে এশিয়া অঞ্ছলে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মীয় ও সামাজিক কঠোরতার কারনে Voluntary অনেক কম, কিন্তু Forced অনেক বেশী। কেননা এই অঞ্ছলটি বাদশাহী, ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদেশীদের পদতলে ছিল। ফলে এদেশের বহু মা বোন প্রতিনিয়ত বিদেশীদের দ্বারা, মগ, পর্তুগীজ জলদস্যুদের দ্বারা ধর্ষিতা হয়েছে। বিজিত রাজা বাদশাহদের স্ত্রী-কন্যাদেরকে বিজেতারা লুন্ঠন করে নিয়ে এসে ধর্ষন করেছে, বল প্রয়োগে রক্ষিতা বানিয়েছে। এভাবে এদেশে অগনিত Forced জারজের জন্ম হয়। তাই বলে Voluntary-র সংখ্যাও কম নহে। প্রচন্ড রক্ষনশীলতার মধ্যেও এদেশের গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে এখনও প্রচুর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়ার খবর পাওয়া যায়। স্থায়ী ও ভাসমান পতিতাতো আছেই। পত্রিকা মারফত জানা যায় দেশের বিভিন্ন শহরে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রকাশ্যে লিভ-টুগেদার করে। শহরে-গ্রামে প্রচুর মহিলা আছে যারা ঘোমটা দিয়ে, পর্দা পুর্শিদা করে, বোরকা পরে চলে, কিন্তু অবৈধ যৌন সম্পর্ক চালায়। বাহ্যিকভাবে এদের সম্পর্কে বোঝা না গেলেও স্বামীর নানা রকম দুর্বলতার সুযোগে নীরবে এরা অবৈধ সন্তানের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে, সমাজে যারা বৈধ বলেই পরিচিত, কিন্তু অবৈধ। এভাবে এদেশে এখনও প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লাখ লাখ অবৈধ তথা জারজ সন্তানের জন্ম হচ্ছে।

নারীর যৌনাঙ্গ ও জরায়ুর সাথে শিরার সাহায্যে স্তনের সরাসরি যোগ আছে। যৌন মিলনের ফলে যদি শুক্রানু ও ডিম্বানু নিষিক্ত হয় অর্থাৎ সন্তান জন্মের প্রক্রিয়া শুরু হয় তাহলে স্তনে দুগ্ধ উৎপাদনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। একই ভাবে নারীর শারিরীক নানা পরিবর্তনেরও শুরু হয়। অর্থাৎ পুরুষের শুক্রানুর গুনাবলী/কার্যাবলী নারীর দেহে, রক্তে, বুকের দুধে ছড়িয়ে পড়ে। নারীর সে রক্ত ও দুধের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের শারীরিক ও মানসিক গুনাবলী সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লাভ করে।

সভ্য হওয়ার শুরু থেকেই মানবদেহের লজ্জাস্থান যেকোন নারী-পুরুষের অত্যন্ত মূল্যবান, সংরক্ষিত গোপনীয় অঙ্গ। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের কারনে বা বৈজ্ঞানিক এবং প্রকৃতিগত কারনে নারীর লজ্জাস্থান তার সর্বশ্রেষ্ঠ গোপনীয়, সংরক্ষিত(Restricted) সম্পদ। যে কারনেই হোকনা কেন, কোন নারী যদি তার এই লজ্জাস্থান স্বেচ্ছায় অন্যপুরুষের নিকট উম্মুক্ত করিয়া দেয়, তাহলে ইহার চাইতে নির্লজ্জার বিষয় কোন নারীর জন্য পৃথিবীতে আর কিছুই হইতে পারেনা। অর্থাৎ স্বেচ্ছায় যে নারী অবৈধ যৌন কাজ করে সে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্লজ্জ নারী। ইভটিজিংয়ের শিকার এবং ধর্ষিতা বহু নারী এখনও বাংলাদেশে আত্মহত্যা করছে, যাদেরকে আমরা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ লজ্জাশীল সম্মানিতা নারী হিসাবে গণ্য করতে পারি। যারা ধর্ষন করে নিঃসন্দেহে তারা নিষ্ঠুর, নির্মম। অবৈধ যৌনাচারের মাধ্যমে নারী-পুরুষের নির্লজ্জতা, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, ইত্যাদি (অবৈধ) সন্তানের দেহে মনে প্রবেশ করে।তাই জারজরা অতিমাত্রায় নির্লজ্জ, নিষ্ঠুর, নির্মম, নীচ হয়।

অবৈধ যৌনাচার বিচিত্র রকমের। ইহা(অবৈধ যৌনাচার)শুধু অবৈধতার মধ্যেই সীমিত নহে, রুচিবোধ শ্রেনীভেদও একটি বিরাট বিষয়। যেমন গৃহকর্তার বা তার ছেলের সাথে কাজেরবেটীর, কর্ত্রীর বা তার মেয়ের সাথে কাজের ছেলের/ড্রাইভার/ পিয়নের যৌনাচারের ফলে যে (অবৈধ) সন্তানের জন্ম হয় তাদের স্বভাব-চরিত্র খুবই নীচ হয়।

এসব অবৈধ সন্তানরা সমাজে এমনভাবে মিশে যায় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তারা যে জন্মগতভাবে জারজ তার পরিচয় থাকেনা। তবে তাদের কার্যকলাপে জারজত্বের প্রকাশ বা প্রমান ঠিকই পাওয়া যায়।

মোট কথা নির্লজ্জতা, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, নীচতা জারজত্বের প্রধান লক্ষন। সমাজে বা রাষ্ট্রে তথা রাজনীতিক, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীদের আচরণ(নির্লজ্জতা, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, নীচতা) দিয়ে যে কেউ জানতে বা বুঝতে পারবে কার জন্ম কিভাবে।

 

 

 

Related posts