ক্রীপস মিশন, ইউএনও, broom এবং broomstick.

১৯৪২সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ক্রীপসকে, যিনি রাশিয়াকে মিত্রশক্তির সাথে যোগ দেওয়াতে অত্যন্ত সফল হন, এবং সে সফলতার দরুন যিনি বৃটেনের পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অনেকদূর এগিয়ে যান, তাহার এই সফলতাকে ম্লান করে পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সকল সম্ভাবনা দূর করতে তাহাকে উদ্ভট কতগুলো প্রস্তাব বা সমাধান সূত্র দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। ইতিহাসে ইহা ক্রীপস মিশন নামে পরিচিত। ক্রীপস মিশনই ব্যর্থ্ হয়নি ব্রিটেনেও এর জেরে ক্রীপস ব্যর্থ্ হন। সূত্রগুলোর একটি ছিল যুদ্ধের ক্রান্তিলগ্নে ভারতীয় নেটিভদের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার টাইপের একটি মন্ত্রীসভা গঠিত হবে। সে মন্ত্রীসভার ভারতীয় সদস্য/সদস্যদের হাতে দেশরক্ষা, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়ের পরিবর্তে স্টেশনারী সরবরাহ, প্রভৃতির মত অত্যন্ত গুরুত্বহীন মন্ত্রনালয় থাকবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রীপস যখন স্টেশনারী সরবরাহের কথা বলেন, তখন সাংবাদিকরা বলেছিলেন, “There are too many things to do, why not broomstick.” Broomstick ঝাঁটা বা এর হাতল হলেও এবং স্টেশনারীর সাথে ইহা সরবরাহের কথা বুঝালেও রেগে গেলে যেমন অনেকে ভুল ইংরেজী বলেন, সেদিনও সে ঘটনা ঘটেছিল। অর্থাৎ রাগান্বিত সাংবাদিক সাহেব Broomstick দ্বারা ঝাঁটা দেওয়া বা স্টেশনারী সামগ্রীর মধ্যে ঝাঁটাও কেন থাকবেনা, ইহাই বুঝাতে চেয়েছিলেন।

অভিধানে broom-এর কয়েকটি অর্থের সাথে আরও একটি অর্থ হল-বিশেষত নবনিযুক্ত কর্মকর্তা যিনি পুরাতন নিয়ম কানুন পরিবর্তন করতে চান। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে ইউএনওদের কর্তৃক অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বেতনবিল স্বাক্ষর করা সংক্রান্ত বিষয়ে লিখতে বসে broom-এর আর কি কি অর্থ হতে পারে তা অভিধানে দেখতে গিয়ে এই অর্থটি চোখে পড়ে(বিশেষত নবনিযুক্ত কর্মকর্তা, যিনি পুরাতন নিয়ম কানুন পরিবর্তন করতে চান)।

চাকুরী বিধি মোতাবেক বাংলাদেশের প্রথম শ্রেনীর সকল কর্মকর্তা self drawing officer. আবার অনেকে self drawing & disbursing officer. অনেক ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তাও self drawing & disbursing officer. Self drawing officer হচ্ছেন যিনি বেতনের বিল জমা দিলেই একাউন্ট সেকশন তাহার বেতনভাতা দিতে বাধ্য। Self drawing & disbursing officer তিনি নিজের বেতনভাতাই উত্তোলন করবেননা, অন্যদেরটাও উঠিয়ে প্রদান(disburse) করবেন। আবাসিক প্রকৌশলী, সেকসন অফিসার মর্যাদার উপসহকারী প্রকৌশলী, যারা ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা, তাদের সবাই self drawing & disbursing officer. আবার সহকারী প্রকৌশলী/সহকারী পরিচালক, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী/উপপরিচালকদের সবাই প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হওয়া সত্বেও তাদের অনেকেই self drawing & disbursing officer কোনটাই নহেন, তারা যদি কোন নির্বাহী প্রকৌশলী বা পরিচালকের অধীনে থাকেন।

একজন ইউএনও উপজেলার কর্মকর্তাদের বেতনভাতাবিল স্বাক্ষর করতেই পারেন, অসুবিধা কি? কিন্তু কথা হচ্ছে তাহার আর কি কোন কাজ নাই? তাহার কাজ কি দপ্তরে বসে ফাইল স্বাক্ষর করে “তোলা খাওয়া”? ইউএনওরা বর্তমানে যে কাজ করছেন, তার বাইরেও there are too many things to do. যদি না করেন বা না পারেন, তাহলে অন্তত পক্ষে রাস্তাঘাট-হাট বাজার ঝাড় দিলেই পারেন।

একটি উপজেলায় একজন ইউএনও-র প্রচুর কাজ, যা তিনি/তারা করেননা। যুগের পর যুগ অনাদায়ী কোটি কোটি টাকার ভূমি রাজস্ব আদায়ে এসি ল্যান্ডকে সহযোগিতা করা-তাগাদা দেওয়া, ঘনঘন এসি ল্যান্ড অফিস surprise visit, মিউটেসনে জনহয়রানী লাঘবে এসি ল্যান্ডকে সহযোগিতা করা-তাগাদা দেওয়া,  ১৯৬৫সালের পর এখনও অরেকর্ডভুক্ত ভিপি, বেহাত/বেদখল ভিপি/খাসভূমি উদ্ধার কাজ পরিচালনা ও তরান্বিত করা, হাটেবাজারে বিশৃংখলা অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতার জন্য বাজার কমিটিকে তাগাদা দেওয়া, অটো-সিএনজি বন্ধে কঠোর নজরদারী তদারককরন, পিআইও-র কাজ তদারকী, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিতরন তদারককরন, হাসপাতাল, স্কুল কলেজ পরিদর্শন(বসে আয়েসী চা নাস্তা খাওয়া নহে-surprise visit), সৌজন্য ভিজিটের নামে থানা/পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন, ইত্যাদি হাজার কাজ আছে ইউএনও-র করার। সে যদি ঘুষখোর, অদক্ষ, অনভিজ্ঞ হয় তাহলে কাজ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা-a bad workman quarrels with his tools. ডিসিরাও কাজ খুঁজে পায়না। অথচ কাজ করলে একটি জেলায় ১০জন ডিসির কাজ আছে। তারা বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে “তোলা খাওয়া”-র ধান্ধায় ব্যস্ত।

বেতনবিল স্বাক্ষর করতে হলে ইউএনওদেরকে অবশ্যই দপ্তর প্রধান হতে হবে, তা হতে হলে তাদেরকে ন্যুনতম উপসচিব হতে হবে, সকল দপ্তরকে তার অধীনে আনতে হবে, বিসিএস পাশ ডাক্তারসহ সকল কর্মকর্তাকে Service length মেতাবেক তার (ইউএনও-র) জুনিয়র হতে হবে। বিচারবিভাগে একটি কথা আছে, “ন্যায় বিচার করলেই হবেনা, ন্যায় বিচার যে হয়েছে তা বিচার প্রার্থীকে বুঝতে দিতে হবে।” একইভাবে খবরদারী- মাতব্বরী করলেই হবেনা, খবরদারী- মাতব্বরীর quality অর্জন করতে হবে।

ইউএনওদের দুর্নীতি ও দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলার হাজার হাজার ঘটনার দু’টি নীচে উদ্ধৃত করা হলঃ-

মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০১৫, ১২ কার্তিক ১৪২২, ১৩ মহররম ১৪৩৭

আজকের পত্রিকা»শেষ পাতা

‘পিআইও অফিসের চেয়ার টেবিলও ঘুষ খায়’

আমার কোনো পারসেনটেজ লাগে না :মমতাজ

মুন্না রায়হান ও মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী g২৭ অক্টোবর, ২০১৫ ইং

…………..

1 comment

Abdur Rashid3 hours ago

জনগনের ট্যাক্সের টাকা কতিপয় দূর্ণীতিবাজ লুটপাট করবে এটা কেমন কথা। টিএনও বলতে না পারেন অথোরিটিকে জানাতে তো পারেন।তিনি সরকারের প্রতিনিধি,তিনি দায় এড়ান কি করে।জনপ্রতিনিধি, সরকারি আমলা উন্নয়নে নয় দূর্ণীতির ক্ষেত্র একাট্টা।একা শেখ হাসিনা কি করবে। চাটার দলে সবাই ভিড়ে গেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি। সারাদেশের টিআর,কাবিখা প্রকেল্পর হিসাব নিন।জনগন যেদিন হিসাব নিবে সেদিন আমলাদের দাড়ানোর জায়গা থাকবে না।

……………..

টিআরের ৩৩ টন গমের পুরোটাই আত্মসাৎ

শফিকুল ইসলাম, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) | আপডেট: ০২:০৩, জুলাই ১৫, ২০১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

০ Like

 

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে টেস্ট রিলিফের (টিআর) ৩৩ মেট্রিক টন গম আত্মসাৎ করা হয়েছে। পৌরসভার মেয়র পৌর কাউন্সিলরদের প্রকল্প সভাপতি বানিয়ে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে এবং কাজ না করে এ গম আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে পৌরসভার অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের (টিআর) ২৯টি প্রকল্পের জন্য ৩৩ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৬ মেট্রিক টন গম পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ১৩টি দুস্থ পরিবারকে একটি করে সৌর প্যানেলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭ মেট্রিক টন গম রাস্তা, মন্দির, মসজিদের ২০টি প্রকল্পে খরচ করার কথা।………..

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হামিদুল হক বলেন, কাজ না করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফ্লোরা বিলকিস জাহান বলেন, ‘পৌরসভার টিআরের গমের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমি কোনো কিছু জানি না। পৌরসভা আমার দেখার বিষয় না।’

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সদা সর্বত্র একই চিত্র।

ইউএনও, এসিল্যান্ড, এডিসি, ডিসিরা যদি পিআইও-র কাজ তদারকী, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, এমপিওভুক্ত আধাসরকারী-বেসরকারী প্রাইমারী/হাইস্কুল, কলেজ, তহশিল অফিস frequently surprise visit করেন(অন্ততঃ প্রতি সপ্তাহে একবার) তাহলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনার মত আবর্জনাপূর্ন মহানগরগুলো ব্যতীত, অবশিষ্ট বাংলাদেশ সোনারবাংলা হতে বেশীদিন লাগবেনা। তারা তা পারবেনা বা করবেনা, কারন তাদের অনেকেই দুর্নীতিবাজ(যদি দুর্নীতিবাজ না হয় তাহলে তা করবেননা কেন?)। তারা বলবে এসব নিয়ন্ত্রন করতে গেলে তারা(ইউএনও, এসিল্যান্ড, এডিসি, ডিসিরা) রাজনীতিবিদদের রোষানলে পড়ে বদলী/ওএসডি হয়ে যাবে। অসুবিধা কি? বদলী/ওএসডি হওয়াওতো চাকুরী, বেতন-ভাতা পাওয়া যাবে।

 

দুর্নীতির লাল ঘোড়ায় লাগাম পরাবে কে?

হাবিবুর রহমান স্বপন : রাইজিংবিডি ডট কম

Published: 08 Jan 2015   01:58:23 PM   Thursday   ||   Updated: 09 Jan 2015   10:34:26 AM   Friday

………….

দুর্নীতি প্রসঙ্গে যখন লিখতে বসেছি তখন সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবর পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। খবরে প্রকাশ সরকার মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মাঠ প্রশাসনে বিরাজমান অনিয়ম, দুর্নীতি বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনাররা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ডিসি ইউএনওরা মাঠ প্রশাসনে কায়েম করেছেন চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম দুর্নীতি। প্রভাবশালীদের আশ্রয়প্রশ্রয় পেয়ে তারা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কোনো নির্দেশনা সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করছেন না। বিভাগীয় কমিশনারগণ মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে এটা জানিয়েছেন। ……………….

Related posts