জনসংখ্যাঃবাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা।

বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা কি? তা একেকজন একেকরকম বক্তব্য দিবেন বা মন্তব্য করবেন। কেহ বলবেন জনসংখ্যা, কেহ দুর্নীতি, কেহ মাদক, কেহ রাজনৈতিক হানাহানি, ইত্যাদি। গ্রেডিং পদ্ধতিতে যেমন ৮০নম্বর পেলে A+, ১০০নম্বর পেলেও A+. সে হিসাবে এচারটি সমস্যাই A+.

১৯৭২সালের শুরুতেই যখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৭(সাত)কোটি ছিল তখনই  বঙ্গবনধু শেখ মুজিবুর রহমান ইহাকে(জনসংখ্যা) প্রধান সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।

দ্রস্টব্যঃ-http://www.prothom-alo.com/special-supplement/article/946318/

Bottom of Form

তাঁর মতো মানুষ আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি-ভেদ মারওয়া |

………………………….
ওই সময় শেখ মুজিব বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরাজমান কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছিলেন। ভারতের প্রতি তাঁর বন্ধুভাবাপন্ন অনুভূতি ছিল। তিনি মূলত দুটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রথমত, বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্য। শেখ মুজিব বলেছিলেন, এসব মানুষ কোথায় যাবে? এখনো যেসব স্থানে জনসংখ্যার আধিক্য দেখা দেয়নি, কেবল সেসব স্থানই তাদের গন্তব্য হতে পারে। ……………
একপর্যায়ে তিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পরিচয় কী হবে তা নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। আমাকে উদ্দেশ করে শেখ মুজিব বলছিলেন, ‘দেখো, আমরা প্রথমে বাঙালি। এটা বাংলাদেশের বহুস্তরবিশিষ্ট পরিচয়ের একটি। এসব স্তরের মধ্যে শীর্ষে হলো বাঙালি পরিচয়। আমরা এ পরিচয় নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। এ পরিচয়কে ভিত্তি করেই স্বাধীনতার সব সংগ্রাম হয়েছে। দ্বিতীয়ত, (আমার যদি ভুল না হয়) আমাদের মুসলিম পরিচয়। স্বীকার করতে হবে, তাঁর এ কথায় আমি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলাম। …………………

 

এর মধ্যে জনসংখ্যা আমাদের দৃষ্টিতে প্রধান সমস্যা। এজনসংখ্যা প্রচুর উপজাত দুর্নীতি ও সমস্যার সৃষ্টি করছে। মাদকের করালগ্রাসও অতিরিক্ত জনসংখ্যার একটি উপজাত সৃষ্টি। অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যা নাহলে এত সহজে যেমন মাদকের বিস্তার ঘটতনা, ঘটলেও জনসংখ্যা কম থাকলে তা সহজে নিয়ন্ত্রন করা যেত। ঈদে-পার্বনে, স্বাভাবিক জীবনে, যানবাহনে ভিড়, টিকেটের চাহিদা, বিদ্যুৎ, গ্যাস পানি, ইত্যাদির চাহিদা, লোডসেডিং, বিদ্যুৎবিভ্রাট, গ্যাস-পানির স্বল্পতা বা তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাওয়া, শহরের ফুটপাথ দখল, সে দখলে পুলিশ ও চাঁদাবাজদের দুর্নীতি, ইত্যাদি সবকিছুই অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যার দরুন ঘটছে। রাজনৈতিক সংঘাত ঘটাতে অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যার দরুন সৃষ্ট বেকার লোকদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রামে গঞ্জে অতিরিক্ত রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মান, এসব নির্মানে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, এরফলে নিম্নমানের নির্মান, এসব কিছুই অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফসল। পাবলিক-প্রাইভেট শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তিযুদ্ধ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকুরীতে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা, তদ্দরুন ঘুষ দিয়ে চাকুরী পাওয়ার চেষ্টা, হাটে বাজারে জিনিষপত্রের অতিরিক্ত চাহিদা, তদ্দরুন মূল্যবৃদ্ধি, এসবকিছুই অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফসল।

গত ৪০বছরে ধানের উৎপাদন ৩গুন, অন্যান্য ফসলের উৎপাদন আরও বহুগুন বৃদ্ধি হওয়া সত্বেও দেশের ৩কোটি মানুষ এখনও চরম দারিদ্রসীমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দেশের মানুষ না খেয়ে নেই, দেশে লোডসেডিং বলে কিছু নেই- এধরনের বক্তব্য দিয়ে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করার প্রয়োজন কি তা বোধগম্য নহে। ফসল তথা খাদ্য উৎপাদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস উৎপাদন, পানি সরবরাহ, আইন শৃংখলা রক্ষা/নিয়ন্ত্রন, দুর্নীতি দমন, সকল কাজেকর্মে স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্যসেবা, কোর্টকাচারী, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন, ইত্যাদি যেকোন কাজে কোন সরকার কতটুকু আন্তরিক ইহাই মূখ্য।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে সরকার চেষ্টা করছে, ইহা অনস্বীকার্য। এজন্য বাল্যবিবাহ ঠেকানোরও চেষ্টা করছে। কিন্তু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন কোন সরকারের একক দায় নহে। ইহা জনগনেরও দায়। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে-বস্তিতে এখনও হাজার হাজার বাল্য বিবাহ হচ্ছে, ২০-২৫বছর বয়সে ৪-৫টি সন্তানের পিতা-মাতা হয়ে যাচ্ছে। গ্রামেত বটেই শহরের অনেক শিক্ষিত লোকের ৩৫-৪০বছর বয়সে ৬-৭-৮টি সন্তান।

বাংলাদেশের আয়তন স্থলভাগ-১,৩০,১৬৮বর্গকিলোমিটার, জলসহ-১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা-২০১৩সালের(আনুমানিক)-১৫,৬৫,৯৪,৯৬২, ঘনত্ব-১০৩৩.৫০/বর্গকিলোমিটার।

চীনদেশের আয়তন স্থলভাগ-৯৩,৬২,৪১০বর্গকিলোমিটার, জলসহ-৯৫,৯৬,৯৬১ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা-২০১৫সালের(আনুমানিক)১৩৭,৬০,৪৯,০০০, ২০১০সালের আদমশুমারি-১৩৩,৯৭,২৪,৮৫২, ঘনত্ব-১৪৫/বর্গকিলোমিটার।

ভারতের আয়তন স্থলভাগ-২৮,৬৪,০২১বর্গকিলোমিটার, জলসহ-৩১,৬৪,৪১৪ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা-২০১৫সালের(আনুমানিক)১২৭,৬২,৬৭,০০০ ২০১১সালের আদমশুমারি-১২১,০১,৯৩,৪২২, ঘনত্ব-৩৮৪.৭০/বর্গকিলোমিটার।

অস্ট্রেলিয়ার আয়তন স্থলভাগ-৭৬,৩৩,৫৬৫বর্গকিলোমিটার, জলসহ-৭৬,৯২,০২৪ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা-২০১৫সালের(আনুমানিক)২,৩৯,৩৫,২০০ ২০১১সালের আদমশুমারি-২,১৫,০৭,৭১৭, ঘনত্ব-৭.৩০/বর্গকিলোমিটার।

সিঙ্গাপুরের আয়তন-স্থলভাগ-৭১৯.১০বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা-৫৫,৩৫,০০০, ঘনত্ব-৭৬৯৭/বর্গকিলোমিটার। Per capita Int $82,762.

সিঙ্গাপুর, যার Per capita Int $82,762(As on 23-10-2015- Source-Wikipedia-the free encyclopedia) ব্যতীত পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ন দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ভিত্তি ধরলে চীনের জনসংখ্যা-৯৯২কোটি, ভারতের-৩২৭কোটি, অস্ট্রেলিয়ার-৭৯৫কোটি হওয়ার কথা। বিপরীতভাবে চীনকে ভিত্তি ধরলে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২.১৪কোটি, ভারতকে ভিত্তি ধরলে ৫.৭০কোটি, অস্ট্রেলিয়াকে ভিত্তি ধরলে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১১লাখ হওয়ার কথা।

প্রবাদ আছে যে, এক মুখ স্বর্ন দ্বারা পূর্ন করা যায়, ১০মুখ মাটি দ্বরাও পূর্ন করা যায়না। জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে চীনের তূলনায় ৪৬২.৫০গুন, ভারতের তূলনায় ৫৬গুন, অস্ট্রেলিয়ার তূলনায় ৭২২৬গুন বেশী জনসংখ্যার সমস্যার সমাধান করতে কোন সরকারই পারবেনা। শুধু ভোট পাওয়ার জন্য মিথ্যা কমিটমেন্ট রক্ষা করতে গিয়ে নূতন নূতন দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে।