ন্যায়বিচারঃন্যায়ভিত্তিক সমাজের অনুষঙ্গ।

ইসলাম ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।  ন্যায়ভিত্তিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় বিচার ব্যবস্থার ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ আমাদের এ বিষয়ে যেমন বারবার সতর্ক করেছেন তেমনি তার পিয়ারা হাবিব মহানবী (সা.) বারবার বলেছেন, বিচারকাজে কেউ যাতে অন্যায়ের আশ্রয় না নেয়। যারা বিচারে অসততার আশ্রয় নেয় এবং আল্লাহর দেয়া নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে তাদের সরাসরি বিধর্মীদের কাতারে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সূরা আলমায়েদার ৪৪ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন : এবং যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার শাসন করে না, তারাই কাফের। একই সুরার ৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ আরও ঘোষণা করেছেন : এবং যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার ও শাসন করে না, তারাই অত্যাচারী। আল্লাহ ৪৭ নং আয়াতে আরও বলেন : এবং যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার শাসন করে না তারাই দুরাচারী ফাসেক। তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন : নবী পাক (সা.) বলেছেন : আল্লাহ সেই বিচারক ও শাসকের নামাজ কবুল করেন না, যে আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করে না। —হাকেম।  বুরায়দা (রা.) বর্ণনা করেন : রসুল (সা.) বলেছেন : বিচারপতিগণ তিন ধরনের হয় : তন্মধ্যে এক প্রকার যাবে জান্নাতে। বাকি দুই প্রকার যাবে জাহান্নামে। যে বিচারক সত্য ও ন্যায় কী তা জানে এবং সে অনুসারে বিচারের সঠিক রায় দেয়, সে জান্নাতে যাবে। আর যে বিচারপতি সত্য ও ন্যায় কী তা জানা সত্ত্বেও স্বীয় খেয়ালখুশি মতো বিচারের রায় দেয় (ন্যায়বিচার করে না) এবং যে বিচারপতি সত্য ও ন্যায় কী তা জানেই না, অথচ বিচার করে, তারা উভয়েই জাহান্নামে যাবে। নিবেদন করা হলো, যে বিচারক জানে না তার কী অপরাধ? রসুল (সা.) বলেছেন : বিচারকের যথার্থ জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও সে বিচারক হয়েছে, এটাই তার অপরাধ। —আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজা ও হাকেম। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন : রসুল (সা.) বলেছেন, যে লোক বিচারক নিয়োজিত হলো, সে যেন কোনো চাকু ছাড়াই জবেহ হয়ে গেল। —আবু দাউদ ও তিরমিযী। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকার তাওফিক দান করুন।—মাওলানা মুহম্মাদ আবদুল খালেক।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ-বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং  মাওলানা মুহম্মাদ আবদুল খালেক।

Related posts