Diabetes, over population, corruption.

নীরব ঘাতক বলে পরিচিত ডায়াবেটিস কোন জীবানুবাহিত বা ধূমপান, মদপান জাতীয় বদভ্যাসজনিত কোন রোগ নহে। সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় “চিনি” জাতীয় পদার্থ, ইত্যাদি যখন নানা কারনে প্রয়োজনের বেশী হয়ে রক্তে মিশে যায় তখনই তা ডায়াবেটিস রোগের রূপ ধারন করে। যেহেতু ইহা রক্তে মিশে থাকে, যেহেতু রক্ত শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকে, যেহেতু এতে কোন ব্যথা অনুভূত হয়না, কোন কারনে রোগী টের না পেলে সীমা ছাড়িয়ে যায়, শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নীরবে ধ্বংস করে ফেলে, সেজন্য একে নীরব ঘাতক বলে।

যাহাই হোকনা কেন, যে কারনে(বংশগত, ইত্যাদি)হোকনা কেন, শরীরের প্রয়োজনীয় তথা ভাল জিনিষ যখন বেশী হয়ে যায়, তখনই তা ক্ষতিকর হয়ে যায়। ইংরেজীতে একটি কথা আছে-excess of anything is bad. Over population-তেমনি আমাদের দেশের একটি নীরব ঘাতক হয়ে গেছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তৃত এ নীরব ঘাতক দুর্নীতিসহ শত সহস্র অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয়তে কয়েকবছর পূর্বে বিদ্যুতের চাহিদা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে লিখা হয় যে, চাহিদার তূলনায় সরবরাহ কম হলে, বিদ্যুৎ যেহেতু সবার প্রয়োজন, তা পাওয়ার জন্য স্বাভাবিক চাহিদার তূলনায় “বহুগুন চাহিদার” সৃষ্টি হয়, ফলে সেখানে দুর্নীতির সৃষ্টি হয়। এটা শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রেই নহে, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটা সত্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভাব->চাহিদা->দুর্নীতির সূত্র প্রযোজ্য নহে। যাদের রক্তে কোনভাবে একবার দুর্নীতি ঢুকে গেছে, তাদের আর অভাবের প্রয়োজন নেই। তবে তারাও অস্বাভাবিক চাহিদাকেই তাদের দুর্নীতির কাজে লাগাচ্ছে। ঢাকা সিটিতে ভূমির অভাব নেই, REHAB-এর বড় বড় সদস্যদের টাকার অভাব নেই। কিন্তু ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-গাজীপুর শহরেই মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশের প্রায় ৫৯গুন বড় সারা অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার চেয়েও বেশী। ফলে টাকার অভাব না থাকলেও ৪০-৫০ফুট গভীর জলাশয় REHAB-এর সদস্যরা ৪০-৫০গুন বেশী মুনাফায় বিক্রী করছে। ৪০-৫০ফুট গভীর জলাশয় কিনলেই হবেনা, তাতে বাস করতে হলে যেতে হবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, রাজউক, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, এসিল্যান্ড, ব্যাংকলোন, আয়কর, হোল্ডিংকর, ডেভেলপার, ইত্যাদি ইত্যাদি অফিসে। আর এসব অফিসে একজন বাড়ী নির্মাতা, প্লট/ফ্ল্যাট ক্রেতাকে ডজন ডজন সংখ্যক দুর্নীতির সম্মুখীন হতে হবে। অর্থাৎ নূতন নূতন দুর্নীতির জন্ম হবে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার দরুন অতিরিক্ত চাহিদা, অতিরিক্ত চাহিদার দরুন অতিরিক্ত দুর্নীতির প্রক্রিয়া ঘটতে থাকবে(অভাব->চাহিদা->দুর্নীতি)পারমানবিক বিক্রিয়া বা atomic chain reaction-এর মত।

Related posts