DAP, RAJUK, REHAB, BLDA & CORRUPTION.

বাংলাদেশের সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ন্যুনতম ৫০হাজার কর্মচারী প্রায় ১০০০%(একহাজার পার্সেন্ট) অবৈধ কাজে লিপ্ত।এরা সিবিএ/শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে জড়িত।১০০০% কিভাবে?(প্রকৃতপক্ষে কেহ কেহ আরও বেশী)। এরা এক মুহুর্তও তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন না করেই পূরো বেতন নেয়।(এটা ১০০% অবৈধ)। এক মুহুর্তও ওভারটাইম না করে বেতনের বহু বেশী ওভারটাইম বিল নেয়। অন্য স্টাফদেরকে অবৈধ ওভারটাইম বিল নিতে সাহায্য করে এবং সেখান থেকে বখরা নেয়। কোন ভ্রমন না করে কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ভ্রমন করে টিএ/ডিএ বিল নেয়। অবৈধ কাজে বা ব্যক্তিগত কাজে গাড়ীর ব্যবহার, তেল চুরি, টেন্ডারবাজী, নিয়োগ-বদলী বানিজ্য, ইত্যাদি হেন কোন অবৈধ কাজ নেই যা এরা প্রকাশ্য দিবালোকে করেনা। সব হিসাব করলে এদের অবৈধ কাজের পরিমান ১০০০%(একহাজার পার্সেন্ট)এরও বেশী।

রাজউক(সাবেক ডিআইটি) ও ডিসিসি(নর্থ,সাউথ)এর কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের বিবেক ও সহৃদয়তার জন্য কিছু কাজ করলেও এদুটি প্রতিষ্ঠানের(এরূপ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, প্রাসঙ্গিক নহে বিধায় উল্লেখ করা হলনা) সার্বিক কর্মকান্ড উপরোক্ত সিবিএ/শ্রমিক কর্মচারীদের মত ১০০০%(একহাজার পার্সেন্ট)অবৈধ। এখানে শুধু রাজউক(সাবেক ডিআইটি)বিষয়ে আলোচনা করা হল।

ঢাকাকে ইমপ্রুভ করার জন্য গত শতকের পঞ্ছাশের দশকে ডিআইটি (Dhaka  (Dacca)Improvement Trust) গঠন করা হয়। পরে ঢাকা বাদ দিয়ে আরও Precisely রাজধানীকে উন্নয়ন(ইমপ্রুভ) করার জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক(RAJUK) গঠন করা হয়। “গঠন করা হয়”-না বলে, বলা যায় ডিআইটির নাম পরিবর্তন করা হয় বা নূতন বোতলে পূরনো মদ রাখা হয়। ডিআইটি বা রাজউক-ইহার কয়েকহাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোটিপতি বানাতে সাহায্য করছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকাকে পৃথিবীর নিকৃ্ষ্টতম শহরে পরিণত করতে সাহায্য করছে। রাজউকের এমন একটি ভাল কাজও খুঁজে পাওয়া যাবেনা, ১০০%-১০০০% খারাপ কাজ ব্যতীত। এত খারাপ কাজ যে, কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা বলি। এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা সাহেবের একটি ভাল কাজের কথা উল্লেখ করা যায়, তা হল যতটা সম্ভব তিনি চেষ্টা করেছেন প্রাইভেট হাউজিংয়ের প্রকল্প অনুমোদনের সুপারিশ না করতে। তা নাহলে ঢাকায় এক ইঞ্চি জলাভূমি খালবিল অবশিষ্ট থাকতনা, সব ভরাট হয়ে যেত এবং এতদিনে রাজধানী ঢাকা গ্রীষ্মকালে মরুভূমি, বর্ষাকালে সাগর হয়ে যেত।

রাজউকের চেয়ারম্যান/সদস্যসহ গুটিকয়েক কর্মকর্তা বহিরাগত, বাকী সবাই ৩০-৩৫ বছরের স্থায়ী। ফলে স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দুর্নীতি সুদূরপ্রসারী। এদের সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির বর্ননা দিতে গেলে এত দীর্ঘ হবে যে, তা দ্বারা একটি পুস্তক রচনা করা যাবে। রাজউক অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে ব্যক্তি মালীকানা বা সরকারী মালীকানার ভূমি, যাহা আদিকাল থেকে খালি পড়ে আছে, সেসবে আবাসিক ভবন নির্মান না করে স্যাটেলাইট শহর তথা আবাসিক এলাকা নির্মানে এত আগ্রহী কেন? আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এসব নির্মানে ভূমি অধিগ্রহন থেকে শুরু করে মাটি ভরাট, রাস্তাঘাট, ব্রীজকালভার্ট, ইত্যাদিতে যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, তার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও শতশত কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী-ব্যক্তিবর্গের পকেটে যায়।সাবেক ডিআইটি ও বর্তমান রাজউকের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে নক্সা মোতাবেক ভবন নির্মান হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা বা হওয়া। ভবনের অভ্যন্তরে অনেক অনিয়ম আছে যা নির্ণয় করা সময় সাপেক্ষ, কায়িক পরিশ্রমলব্ধ এবং কিছুটা কঠিন। কিন্তু সেটব্যাক(ভবনের পাশে, সামনে, পিছনে আইন মোতাবেক খালি যায়গা), যা খালিচোখে দেখা যায়, তা রাখা হয়নি, এরূপ উদাহরন লাখলাখ। সেটব্যাকের আইন ১৯৯৬ ও ২০০৮ এর আইন প্রায় অনুরূপ। ১৯৯৬সাল থেকে অদ্যাবধি রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একদিনের জন্যও লাখলাখ  ভবনের, যার কোন সেটব্যাক বা এক ইঞ্চিও খালি যায়গা রাখা হয়নি, তা দেখার সুযোগ বা সময় পাননি, তা বিশ্বাসযোগ্য নহে। প্রকৃতপক্ষে তারা ব্যস্ত ছিল নক্সা বানিজ্যে।নক্সা মোতাবেক ভবন নির্মান না করলে তাদেরও(রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী)  লাভ। সঠিকভাবে ভবন নির্মান করলেত আর মাসোহারা পাওয়া যাবেনা। তাজ্জবের বিষয় যে, অনিয়ম কি পরিমান হতে পারে? ভবনের উভয়পার্শ্বে, সামনে, পিছনে ন্যুনতম এক থেকে দেড়মিটার(২-৩হাতের বেশী এবং বড় ভবনের জন্য আরও বেশী) খালি অর্থাৎ ফাঁকা যায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ লাখ লাখ ভবন আছে যেখানে খালি বা ফাঁকা যায়গা রাখা হয়নি।এভাবে আলোবাতাস চলাচলের সামান্যতম ব্যবস্থাও না রেখে ঢাকাকে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহরে পরিণত করার জন্য রাজউক সর্বোতভাবে দায়ী।

সাবেক ডিআইটির নাম পরিবর্তন করে “রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক” করা হয়।রাজউক রাজধানীর উন্নয়ন না করে বাসস্থান নির্মান করছে এবং তাহাও সঠিকভাবে করছেনা বা করতে পারছেনা। ইহা(রাজউক)নামের পরিপন্থী কাজ করছে। রাজধানীর উন্নয়ন করতে হলে তার করা উচিত ছিল রাজধানীকে সরিয়ে উত্তরা বা পূর্বাচলে বা এরূপ কোন স্থানে স্থানান্তর করা।রাজউক নক্সা মোতাবেক ভবন নির্মান তদারকের মত সবচেয়ে সহজ কাজ করতে পারছেনা। অথচ তার শতগুন-হাজারগুন কঠিন কাজ তথা উপশহরের নামে আবাসিক এলাকা নির্মান করছে, যা তার দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়েনা।

ডেসটিনি, হলমার্ক, ইত্যাদি বড় ধরনের অল্প কয়েকটি ঘটনা বাদ দিলে দুদক সারাদেশের মোট শতকোটি টাকার দুর্নীতি উদঘাটন ও দমন করতে পারেনি। দুদকের লোকবল সহস্রাধিক। সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী যা করতে পারেনি বা পারছেনা, গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এরূপ ৭/৮জন কর্মকর্তা তারচেয়ে(দুদকের চেয়ে)শতগুন/হাজারগুন বেশী মূল্যমানের ভূমি ও পরিবেশ রক্ষা করতে পারেন।এটার জন্য বেশী কিছুর দরকার পড়েনা, শুধু অবৈধ ল্যান্ড ডেভেলপারের সাইটে কর্মরত কর্মকর্তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে পরপর কয়েকবার তাৎক্ষনিক জেলজরিমানা করলেই সব অবৈধকাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এরজন্য বছরের পর বছর মাননীয় আদালতে/হাইকোর্টে/ সুপ্রীমকোর্টে মামলার প্রয়োজন নেই। এদের(গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন) সকলের নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছে।

ঢাকা শহর নহে, ঢাকা জেলার বাইরে রাজউক পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকা তথা স্যাটেলাইট শহর নির্মান করছে।এর পূর্বে তৎকালীন ডিআইটি বা বর্তমান রাজউক খিলগাঁও ও বাড্ডায় পূনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় আবাসিক এলাকার সৃষ্টি করে।খিলগাঁও ও বাড্ডার মাঝখানে, দক্ষিনে, উত্তরে ও পূর্বে ১৯৮৭সালের অনুমোদনে ইস্টার্ন হাউজিং, বসুন্ধরা ও অন্যান্য হাউজিং কোং কয়েকলক্ষ প্লট ইতিমধ্যে বিক্রী করে ফেলেছে। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী প্রকল্প খিলগাঁওয়ের লাগোয়া উত্তর পার্শ্বে ও আফতাবনগর প্রকল্প বাড্ডায় যা ডিআইটি বাড্ডা প্রকল্পের লাগোয়া দক্ষিন পার্শ্বে।বসুন্ধরার বারিধারা ও অন্যান্য হাউজিংয়ের অত্র এলাকার আবাসিক প্রকল্পগুলো ডিআইটি বাড্ডা প্রকল্পের লাগোয়া উত্তর পার্শ্বে। ইস্টার্ন হাউজিং, বসুন্ধরা ও অন্যান্য হাউজিং কোং-এর এই এলাকাগুলো সৃষ্টির শুরু থেকেই জলাভূমি ছিল। ভরাট করার পরও এর বিরাট অংশ এখনও জলাভূমি।

খিলগাঁওয়ের উত্তরে ও পূর্বে, রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের দক্ষিনে ও পশ্চিমের বিরাট এলাকা, যেখানে ইস্টার্ন হাউজিং, বসুন্ধরা ও অন্যান্য হাউজিং কোং ইতিমধ্যে কয়েকলক্ষ প্লট বিক্রী করেছে। তা যদি উঁচুভূমিই হয়ে থাকে, এবং এখানে যদি প্রাইভেট হাউজিং কোং লক্ষলক্ষ প্লট বিক্রী করতে পারে, তাহলে তৎকালীন ডিআইটি ও বর্তমান রাজউক খিলগাঁও, বাড্ডা, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীর ধারাবাহিকতায় অত্র এলাকায়(বসুন্ধরার বারিধারা, নেপচুন, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী ও আফতাবনগর  ও অন্যান্য কোম্পানীর আবাসিক প্রকল্পগুলো বর্তমানে যে এলাকায় অবস্থিত সে এলাকা) স্যাটেলাইট শহর বা আবাসিক এলাকা তৈরী করলনা কেন?

রাজউক এখানে স্যাটেলাইট শহর বা আবাসিক এলাকা তৈরী না করার কারন তাদের (স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের) সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির লক্ষ্যে। ইস্টার্ন হাউজিং, বসুন্ধরা ও অন্যান্য হাউজিং কোং-এর স্বার্থেই এখানে তারা তা করে নাই(স্যাটেলাইট শহর বা আবাসিক এলাকা তৈরী)।যদি তাদের সুদূরপ্রসারী দুর্নীতি না হয় তাহলে নিম্নোক্ত কারনে তারা তা করে নাই:-

ইতিমধ্যে প্রণীত Detailed area plan(DAP), সরেজমিনে পরিদর্শন হইতে ইহা নিশ্চিত যে, বসুন্ধরার বারিধারা, নেপচুন, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী ও আফতাবনগর ও অন্যান্য কোম্পানীর আবাসিক প্রকল্পগুলো বর্তমানে যে এলাকায় অবস্থিত সে এলাকা বণ্যাপ্রবন এলাকা, জলাধার, জলাভূমি, খালবিল ছিল। এজন্য তৎকালীন ডিআইটি ও বর্তমান রাজউক খিলগাঁও, বাড্ডা, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীর ধারাবাহিকতায় অত্র এলাকায়(বসুন্ধরার বারিধারা, নেপচুন, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী ও আফতাবনগর  ও অন্যান্য কোম্পানীর আবাসিক প্রকল্পগুলো বর্তমানে যে এলাকায় অবস্থিত) স্যাটেলাইট শহর বা আবাসিক এলাকা তৈরী করে নাই।

লিফট সিঁড়ির স্পেস ছাড়াই ভবন নির্মাণ ।০৮-৩-২০১৪ইং তাং দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় উক্ত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত  হয়।ভবনের অভ্যন্তরীন বিষয় এবং লোকবল কম বলে দেখা সম্ভব হচ্ছেনা, তা স্রেফ দুর্নীতির সপক্ষে মিথ্যাচার। Rajuk corruption makes Dhaka an unplanned city- TIB, Submitted by priyodesk (Priyo news) on Sun, 03/07/2011, News Source:  The Daily Sun –এ  প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, রাজউক এলাকায় বছরে প্রায় ৭-৮হাজার প্ল্যান পাশ হয় আবাসিক ও বানিজ্যিক ভবন নির্মানের জন্য।

বিদ্যুতের মিটার রিডার যত দুর্নীতিবাজই হোকনা কেন, প্রত্যেক মিটার রিডারকে মাসে ন্যুনতম ২০০০গ্রাহকের মিটার রিডিং গ্রহন করতে হয়।এই গ্রাহকদের আঙ্গিনায় বছরে মোট ২৪০০০বার তাকে যেতে হয়। ২৪০০০বার সে যায়না(অথবা যেতেও পারে।) কিন্তু ইহা নিশ্চিত যে, যত দুর্নীতিই সে করুকনা কেন, যত ফাঁকিই সে দিকনা কেন, বছরে প্রতি গ্রাহকের আঙ্গিনায় তাকে মোট ৩-৪বার যেতেই হবে। (বছরের অন্য মাসগুলো অনুমান বা গোঁজামিল দিয়ে চালিয়ে দিয়ে থাকতে পারে)। যদি সর্বনিম্ন ২বারও ধরি, তাহলেও ১জন মিটার রিডারকে বছরে ন্যুনতম ৪০০০ বার গ্রাহকদের আঙ্গিনায় যেতে হয়।অনেক মিটারের রিডিং গ্রহন করা বেশ কষ্টকর।

বিষয়োক্ত সংবাদ থেকে দেখা যায় যে, রাজউকে ৫৬জন পরিদর্শক রয়েছে।৮০০০ নির্মিয়মান ভবনে বছরে ৩০০কার্য দিবসে(মাঠ পর্যায়ের সৎ ভাল কর্মকর্তার জন্য ঈদ-পূজার দিন ছাড়া প্রতিটিই কার্য দিবস)৫৬জনের প্রতিজনের ভাগে পড়ে গড়ে প্রতি ২কার্য দিবসে ১টিরও কম নির্মিয়মান ভবন।যেকোন ভবনে লিফ্ট ও সিঁড়ির স্পেস ছাড়াও ভবনের চারিপার্শ্বে ফাঁকা যায়গা বা সেটব্যাক আবশ্যিকভাবে থাকতে হবে। ভবনের সাইজভেদে ১মিটার(দুইহাতের বেশী)থেকে ১.৫০মিটার বা তারও বেশী ফাঁকা যায়গা কেন, অন্তত ১০হাজার ভবন খুঁজে ১টি ভবনও পাওয়া যাবেনা, যেখানে সামান্যতম ফাঁকা যায়গা আছে।প্রধান সড়কের উপর হাজার হাজার ভবন আছে, যেখানে সামান্যতম ফাঁকা যায়গাও নেই এবং এই অনিয়ম খালিচোখে রাস্তায় দাঁড়িয়েই মুহুর্তেই দেখা যায়।এই বাস্তবতা থেকে ইহাই প্রমানিত হয় যে, রাজউকের কর্মকর্তারা বিদ্যুতের মিটার রিডার থেকে প্রায় ৪০০০-৫০০০গুন বেশী দুর্নীতিবাজ।

REHAB সদস্যদের ৯৯% অবৈধ কার্যকলাপের দরুন বাংলাদেশের, বিশেষ করে ঢাকার আশেপাশের প্রায় সকল প্রাকৃতিক জলাধার, খালবিল সম্পূর্ন এবং বহু নদীর আংশিক ভরাট হয়ে গেছে। আর এসব ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে। অপরদিকে অনুমোদনহীন ও অনুমোদিত নক্সা বহির্ভূত ভবন নির্মানের ফলে স্বাভাবিক আলোবাতাস চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ঢাকাকে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহরে পরিনত করা হয়। আর এর জন্য প্রধানতঃ দায়ী গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়,  ইহার অধীনস্থ রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।

গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তথা মন্ত্রী এবং সচিব উভয়েই দুর্নীতি এবং ক্ষুদ্রতর স্বার্থে জড়িয়ে পড়েন।মন্ত্রী এবং সচিব নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে নীচের দিকে জবাবদিহিতার সৃষ্টি হয়নি।গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র-এই ৭/৮জন অথবা এদের যেকোন একজন সৎ ও কঠোর হলে ভূমি দস্যুরা বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার ভূমি, নদী, প্রাকৃতিক জলাধার, খালবিল, উম্মুক্তস্থান, খাসভূমি গ্রাস করতে পারেনা।চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সিটি কর্পোরেশনের পাহাড় কাটা বন্ধ করেন। সিলেটের কোম্পানীগন্জের ইউএনও আওয়ামী লীগের নেতাকে ৬মাসের কারাদন্ড দেন। বিষয়টি বিতর্কিত হলেও, ইউএনও-র আইনী ও প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে, ইহাতে কোন বিতর্ক নাই। যশোরের এসপি আওয়ামী লীগের নেতাকে গ্রেফতার করিয়েছেন, ইহাতে যত বিতর্কই থাকুক না কেন, তাহার(এসপি)আইনী ও প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে, ইহাতে কোন বিতর্ক নাই। রাজউকের চেয়ারম্যানের আইনী ক্ষমতা না থাকলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে এবং তাহার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসন ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা আছেন। মন্ত্রী এবং সচিবের আইনী ও প্রশাসনিক ক্ষমতা এদের তূলনায় বলতে গেলে অসীম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিজেই প্রশাসন ক্যাডারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সিটি কর্পোরেশনের পাহাড় কাটা বন্ধ করতে পারলে, কোম্পানীগন্জের ইউএনও, যশোরের এসপি পারলে এরা(গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র)REHAB সদস্যদের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেননা কেন?

এদের(গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র)না পারার কারন দুর্নীতি ও অদক্ষতা। ৫০হাজার কোটি টাকার ০.১% মানে ৫শ কোটি টাকা। ৫শ কোটি টাকার ১% মানে ৫ কোটি টাকা।যে কোন সরকারী কর্মকর্তার জন্য ৫ কোটি টাকা অনেক অনেক বড় ফিগার।পত্রিকার খবর(৩হাজার কোটি টাকার লেনদেন ও ১লাখ কোটি টাকার ভূসম্পদ আত্মসাৎ) অসত্য ও অতিরন্জিত হলেও বহুকোটি টাকা লেনদেনের বিনিময়ে যে ৯৯%(প্রায় ১২শত)ল্যান্ড ডেভেলপার নদী, প্রাকৃতিক জলাধার, খালবিল, উম্মুক্তস্থান, খাসভূমি গ্রাস করছে এতে কোন সন্দেহ নাই। মন্ত্রী সচিবদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধিই তার প্রমান।

আশিয়ান সিটির উত্তরা প্রকল্প মাননীয় হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষনা করে।অবৈধ ঘোষনার অন্যতম প্রধান কারন জলাভূমি ভরাটকরন।এই কারনে(জলাভূমি ভরাটকরন)যদি আশিয়ান সিটি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে বসুন্ধরা, ইস্টার্ন হাউজিংসহ বাকী প্রায় সকল ল্যান্ড ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানসমুহ ও তাদের প্রকল্প অবৈধ হবেনা কেন? তার কারন উপরে বর্নিত ঘুষ।

Related posts