Violation of laws by RAJUK, BLDA, REHAB

ইস্টার্ন হাউজিং বহু অপকৌশলে বর্তমানে  তার আফতাবনগর প্রকল্পে যে প্রাকৃতিক জলাভূমি/জলাধার ভরাট করছে তা ড্যাপে যাহাই উল্লেখ থাকুকনা কেন, সিএস, আরএস, বিএস, সিটি জরীপে যাহাই রেকর্ড হোকনা কেন,তারা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং নিম্নোক্ত আইনসমুহ সরাসরি অমান্য করছেঃ-

১।মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের CIVIL APPEAL NO.256 OF 2009 with CIVIL APPEAL NOS.253-255 OF 2009. and  CIVIL PETITION FOR LEAVE TO APPEAL NO.1689 OF 2006. “… Even if the Master Plan is adjudged void, Bilamalia and Boliarpur answer inclusive definition of Prakritik Jaladhar Ain as they are low lands retaining rain water.  … .”

তাদের(ইস্টার্ন হাউজিং)ভরাটকৃত ভূমিগুলো Bilamalia and Boliarpur-এর চেয়েও গভীর।

২।প্রাইভেট হাউজিং ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রূল-২০০৪-এর

(ক) ধারা ২(ট):-“ভরাট” “বলিতে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইনে বর্ণিত নদী, খাল, বিল, দিঘী, ঝর্ণা বা জলাশয় হিসাবে মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা সরকার, কোন স্থানীয় সরকার বা সংস্থা কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসাবে ঘোষিত কোন যায়গা এবং সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করে এমন কোন ভূমি ব্যতীত বৈধভাবে অন্যান্য উন্নয়ন যোগ্য ভুমি ভরাট।”

তারা যেসব ভূমি ভরাট করছে, যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এসব ভূমি “প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইনে বর্ণিত নদী, খাল, বিল, দিঘী, ঝর্ণা বা জলাশয় হিসাবে মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা সরকার, কোন স্থানীয় সরকার বা সংস্থা কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসাবে ঘোষিত কোন যায়গা” নহে এবং যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এসব ভূমি সরকারী জরীপে নক্সা/খতিয়ানে ব্যক্তি মালীকানা ভূমি হিসাবে রেকর্ড হইয়াছে, তথাপিও ইহা সত্য যে, এসব ভূমি সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করে তারা সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করেএরূপ ভূমি ভরাট করছে যাহা ১০০% বেআইনী।

(খ)। ধারা ২(ঠ,ড,ঢ)ও সরাসরি অমান্য করছে।

(গ)।ধারা ৬এর সকল উপধারা। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:-

(a)উপধারা (ঘ)।যেখানে বলা হয়েছে “অনুমোদিত প্রকল্পের অধীনে কর্তৃপক্ষ বা ক্ষেত্রমত কমিটির অনুমোদন ব্যতীত কোন নতুন এলাকা অন্তর্ভূক্ত করা যাইবেনা।” সম্পূর্ন অবৈধভাবে তারা(ইস্টার্ন হাউজিং) কর্তৃপক্ষ বা কমিটির অনুমোদন ব্যতীত অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুন ভূমি অতিরিক্ত নতুন এলাকা অন্তর্ভূক্ত করেছে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তাদের ভরাটকৃত/ উন্নয়নকৃত ভুমিসমুহ “প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইনে বর্ণিত নদী, খাল, বিল, দিঘী, ঝর্ণা বা জলাশয় হিসাবে মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা সরকার, কোন স্থানীয় সরকার বা সংস্থা কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসাবে ঘোষিত কোন যায়গা” নহে এবং যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এসব ভূমি সরকারী জরীপে নক্সা/খতিয়ানে ব্যক্তি মালীকানা ভূমি হিসাবে রেকর্ড হইয়াছে, তথাপিও ইহা সত্য যে, এসব ভূমি সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করে”, এবং ১০০% অনুমোদনের বাইরের ভূমি এবং ১০০% অনুমোদনহীন ভূমি।

(b)উপধারা (চ)।যেখানে বলা হয়েছে “প্রকল্প এলাকায় কোন খাল, বিল ,নদী, নালা বা অন্য কোন জলাশয় থাকিলে উহার পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি না করিয়া প্রবাহিত পানি যাহাতে প্রকল্পের শেষ প্রান্ত হইয়া খাল, বিল ,নদী, নালা বা জলাধার পর্যন্ত প্রবাহিত হইতে পারে, উহা নিশ্চিতকরণ”। বাস্তব সত্য হল তারা তার বিপরীত কাজই শুধু করছেনা, বরং তার চেয়েও জঘন্য কাজ তথা খাল, বিল ,নদী, নালা বা জলাধারই ভরাট করে ফেলছে।

(ঘ)৯, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৫  এর সকল ধারা/উপধারা।

৩।রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এর ধারা ৫(১),৫(২), ৬,৭এর সকল ধারা/উপধারা।

৪।প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইন-২০০০-এর ধারা ২(খ,চ,ছ,জ),এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:-

(a)উপধারা (খ)।যেখানে বলা হয়েছে “উম্মুক্ত স্থান অর্থ মাস্টার প্ল্যানে উম্মুক্ত স্থান হিসাবে চিহ্নিত বা সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উম্মুক্ত স্থান হিসাবে ঘোষিত এমন স্থান যাহা দীর্ঘদিন হইতে ঈদগাহ বা অন্য কোনভাবে জনসাধারন কর্তৃক ব্যবহার হইয়া আসিতেছে।” তাদের ভরাটকৃত ভূমিগুলো “…সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উম্মুক্ত স্থান হিসাবে ঘোষিত স্থান” না হইয়া থাকিলেও ইহা সত্য যে, এসব ভূমি অন্য কোনভাবে জনসাধারন কর্তৃক ব্যবহার হইয়া আসিতেছে। তারা অন্য কোনভাবে ব্যবহার হওয়া(নদী, খাল, বিল, দিঘী, ঝর্ণা বা জলাশয়, কৃষি/মৎস্য ভূমি, ইত্যাদি হিসাবে ব্যবহার হওয়া) ভুমি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে ভরাট করিতেছে।

(b)উপধারা (চ)।যেখানে বলা হয়েছে “প্রাকৃতিক জলাধার” ‘অর্থ নদী, খাল, বিল, দিঘী, ঝর্ণা বা জলাশয় হিসাবে মাস্টার প্লানে চিহ্নিত বা সরকার, কোন স্থানীয় সরকার বা কোন সংস্থা কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসাবে ঘোষিত কোন যায়গা এবং সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করে এমন কোন ভূমিও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে

উপরে বর্নিত “ভরাট” শব্দের অর্থের চেয়েও এখানে আরও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে,

“ …এবং সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করে এমন কোন ভূমিও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে তারাপ্রাকৃতিক জলাধারআইন সুষ্পষ্টভাবে লংঘন করছে।

(c)উপধারা (চ)।যেখানে বলা হয়েছে শ্রেণী পরিবর্তন অর্থ “মাস্টার প্লানে বা সরকারী গেজেটে সংশ্লিষ্ট যায়গার অবস্থা যেভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে বা বর্ননা করা হইয়াছে বা সংশ্লিষ্ট যায়গা সাধারনত: যেভাবে থাকার কথা মাটি ভরাট, পাকা, আধা-পাকা বা কাঁচা ঘর-বাড়ী এবং অন্য যে কোন ধরনের ভবন নির্মানসহ কোনভাবে সেই অবস্থার পরিবর্তন হইতে পারে এমন কিছু করাকে বুঝাইবে।”

তাদের ভরাটকৃত ভূমিসমুহ “মাস্টার প্লানে বা সরকারী গেজেটে সংশ্লিষ্ট যায়গার অবস্থা যেভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে বা বর্ননা করা হইয়াছ” যদি সেরূপ নাও হয়ে থাকে, তবে সেগুলি(ভূমিসমুহ) যে এরূপ সংশ্লিষ্ট যায়গা সাধারনত: যেভাবে থাকার কথা অর্থাৎ নদী, খাল, বিল, দিঘী, ঝর্ণা বা জলাশয়, কৃষি/মৎস্য ভূমি, ইত্যাদি এবং সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারন করে”, এসব যায়গা, যাহা যেরূপ ছিল, সেরূপই থাকবে(As it was, as it will remain)।

(d) ধারা ৬ এবং এর সকল উপধারা।

৫।বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন-১৯৯৫-এর ধারা ১২, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন (সংশোধন) আইন-২০১০-এর ধারা ২(কক), ৪(জলাধার সম্পর্কিত বাধা নিষেধ), উপধারা(৬)।

এসব অনিয়ম দুর্নীতি রাজউক কর্মকর্তাদের অজানা নয়। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এর ধারা ২৬, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ মোতাবেক তাৎক্ষনিকভাবে তা বন্ধ এবং জেল-জরিমানাও করতে পারে। কিন্তু তারা তা করছেনা। খাদ্যে ভেজালের চেয়েও  প্রাকৃতিক জলাভূমি/জলাধার ভরাট করা পরিবেশের জন্য আরও অনেক বেশী ক্ষতিকর।

ইস্টার্ন হাউজিং বর্তমানে নূতন অপকৌশল অবলম্বন করেছে। গ্রাহক আকর্ষন ও সরকারী কর্মকর্তাদের ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে আফতাবনগরের ডি ব্লকে স্টীল ব্রীজের সামনে সে ১৯৮৭সালের অনুমোদন সংক্রান্ত বিরাট সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়েছে।১৯৮৭সালে বনশ্রী ও আফতাবনগর মিলে ৯৬৫একরের অনুমোদন ছিল, যা আরও প্রায় ১০বছর পূর্বেই ভরাট/বিক্রী হয়ে গেছে। বর্তমানে সে(ইস্টার্ন হাউজিং) প্রায় ২০০০একর ভরাট করছে বা করে ফেলেছে, যা অনুমোদনহীন, পূনঃঅনুমোদনহীন, সংশোধনহীন।

ড্যাপ না মানুক, কিন্তু বেসরকারী হাউজিং প্রকল্প উন্নয়ন বিধিমালা-২০০৪ ও ২০১০, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইন-২০০০, পরিবেশ সংরক্ষন আইন-১৯৯৫(২০১০সালে সংশোধিত)-এগুলোত তাদেরকে(ইস্টার্ন হাউজিং) মানতে হবে। মন্ত্রী না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের এমপি(এবং সাবেক মন্ত্রী)থাকা অবস্থায়ও পরিবেশ অধিদপ্তর টাকা খেয়েছে। এখন বুঝুন এরা (রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তর) কত ভয়ানক মালখোর।

Related posts