বাংলাদেশের জন্মদাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।

বাংলাদেশের জন্ম বা স্বাধীনতার ঘটনা যেভাবেই ঘটুকনা কেন, যদি কেহ বাংলাদেশকে স্বীকার করে, বাংলাদেশের জন্ম বা স্বাধীনতাকে স্বীকার করে, নিজেকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে স্বীকার করে, তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান না হলে যে বাংলাদেশের জন্ম বা স্বাধীনতার ঘটনা ঘটতনা ইহাও স্বীকার করতে হবে।

কোন মানুষের জন্মের আগে পরে বিশাল কর্মযজ্ঞ থাকে, যার সাথে জন্মগ্রহনকারীর এমনকি জন্মদাতার সংশ্লিষ্টতা বা ভূমিকা থাকেনা। যেমন বিয়ের আয়োজন, পরে সন্তানের লালন পালনে কয়েকশত বা হাজার আত্মীয়-স্বজনের সংশ্লিষ্টতা বা ভূমিকা থাকে। বাংলাদেশের জন্মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি প্রায় ২যুগের ভূমিকা ছিল। তাঁহাকে কেহ বঙ্গবন্ধু বা জাতির পিতা বলুক আর না বলুক,    স্বীকার করুক আর না করুক , ইহা সত্য যে, স্বাধীন বাংলাদেশ রাস্ট্রের জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কারও কারও মতভেদ  হতেই পারে, থাকতেই পারে। এ মতভেদ-মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে তাঁহার চারিদিকের চাটুকাররা। বঙ্গবন্ধু প্রকাশ্যে বঙ্গভবনে, সংসদে দুর্নীতি, টাকা পাচার, সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা, যা আরেকটি দুর্নীতি, ইত্যাদির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

বঙ্গবন্ধু তাঁহার চারিদিকের লোকজনের লুটপাটের কাছে অসহায় ছিলেন। তার উপরে ছিল জাসদের ক্ষমতার লিপ্সা, সিরাজ সিকদারদের কর্মকান্ড। পাকিস্তানী হায়েনাদের দ্বারা  ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি রাস্ট্রের পূনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুকে সহায়তার পরিবর্তে এরা সবাই নানাভাবে তাঁহাকে অসহযোগিতা করেছে। অপরদিকে আমেরিকা কর্তৃক পিএল-৪৮০ এর সাহায্যে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য প্রেরন বন্ধকরন, পাকিস্তানী হায়েনা জুলফিকার আলী ভূট্টো কর্তৃক মধ্যপ্রাচ্যকে প্রভাবিত করে তেলের নিয়ন্ত্রন, সর্বোপরি ১৯৭৪সালের ভয়াবহ বণ্যা, যার উপর কারও হাত ছিলনা, ইত্যাদি বঙ্গবন্ধুকে চরম অসহায় করে ফেলেছিল।পৃথিবীতে এমন কোন লোক পাওয়া যাবেনা, যিনি বঙ্গবন্ধুর আর্থিক কোন দুর্নীতির কথা বলতে পারবেন।

ঘটনা যাহাই ঘটুকনা কেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ রাস্ট্রের জন্মদাতা।  যেকোন মানুষই তার যে একজন বৈধ জন্মদাতা আছে তা স্বীকার করতে বাধ্য। যদি কেহ বৈধ জন্মদাতাকে স্বীকার না করে তাহলে তাকে কেহ জারজ বলা লাগবেনা, সে আত্মস্বীকৃত জারজ হয়ে যাবে।

১৯৭৫সালের ১৫ই   আগস্টের পর  থেকে অদ্যাবধি জীবিত ও মৃত কয়েক কোটি  জারজ আছে, যারা তার জন্মদাতাকে স্বীকার করেনা। দেশ ও জাতির দুর্ভাগ্য এরা শুধু পিতার সংসারেই লালিত পালিত হচ্ছেনা, বহুবার পিতার সিংহাসনে বসেছে, রাজদরবারে ঠাঁই পেয়েছে, পতাকা ব্যবহার করেছে।

Related posts