আইন-(Law).

আইন কাহাকে বলে, বা আইনের meaning or definition কি, সে সম্পর্কে সাধারন মানুষের, এমনকি অনেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিরও তেমন কোন ধারনা নেই(আইনজীবি বা বিচারক ব্যতীত)। অথচ আইন খুবই simple বিষয়। আইনের বিষয়ে বলতে গিয়ে John Clifford Mortimer-British Barrister, Writer, Dramatist বলেছেন- No brilliance is needed in the law. Nothing but common sense, and relatively clean finger nails.

Law-dictionary meaning-বিধি, বিধান, আইন,রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক কাঠামোয় জনগণের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রন করার নিয়মকানুন। Wikipedia-তে আইনের বিশাল সংজ্ঞা ও রেফারেন্স আছে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই আইন কি? এক্ষেত্রে John Mortimer-এর সংজ্ঞাই আমরা নেব। অর্থাৎ law is nothing but common sense.

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষেরই common sense কাজ করেনা। ফলে গুটিকয় আইনজীবি/পেশাজীবি এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে যেমন কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে রুজি করছে, বিচারকাজে নিয়োজিতরাও দুর্নীতির সুযোগ গ্রহন করছে। এতে মানুষ ন্যায় বিচার থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেনা, বিচারকাজ বিলম্বিত/দীর্ঘায়িত করে মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে।

আইনজীবি/পেশাজীবিদের কেহ কেহ বা অনেকেই মনে করে যে, তারাই শুধু আইন সম্পর্কে জানে বা বুঝে, আর কেহই জানেনা বা বুঝেনা। চেষ্টা করলে বা ইচ্ছা করলে যে, অতি সাধারন শিক্ষিত কোন লোকের পক্ষে আইনের কোন একটি ধারা জানা বা বুঝা যে এত কঠিন নহে, এটা তাদের(আইনজীবি/পেশাজীবি) অনেকে মানতেই নারাজ।  “যে জন দিবসে, মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি”-টাইপের ৭ম-৮মশ্রেণীর ভাব সম্প্রসারন যে বা যারা জানে বা পারে, তারা দন্ডবিধির ৩০২ধারায় কি বলেছে, তা বুঝবেনা কেন? বানিজ্য বা বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষিতরা দন্ডবিধির ৩০২ধারায় কি বলেছে, তা বুঝবেনা কেন? এরূপ প্রত্যেকটি ধারার বিষয়ে সমান মন্তব্য প্রযোজ্য।

একজন বিচারককে রায় লিখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষমতা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু রায় কি হতে পারে বা হওয়া উচিত তা বুঝার ক্ষমতা কি সৃষ্টিকর্তা অন্য কাউকে দেননি? অবশ্যই দিয়েছেন। কিন্তু কিছু বিচারক মনে করেন, এমনকি প্রকাশ্যে ভাব প্রকাশ করেন যে, রায় কি হতে পারে বা হওয়া উচিত তা বুঝার ক্ষমতাও বিচারক ব্যতীত আর কাউকে দেননি। আর তাই রায়ের ব্যাপারে বিচারক ব্যতীত বা আইনজীবি ব্যতীত আর কারো মন্তব্য/বক্তব্য প্রদান করা উচিৎ নহে বলেই তারা মনে করে। যদি কেহ এরূপ করে, তাহলে এটাকে তারা prejudice/subjudice বলে আখ্যায়িত করে বা করার চেষ্টা করে। এধরনের ধারনা সেসকল লোকের চরম নির্বুদ্ধিতা। মানুষ সব কিছুই বুঝে। কিন্তু ক্ষতি/হয়রানীর আশংকায় প্রকাশ করেনা, বুঝেও না বুঝার ভান করে।

উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতিগন প্রায়ই একটা কথা বলেন যে, “শুধু ন্যায় বিচার করলেই হবেনা, ন্যায় বিচার যে হয়েছে তা বিচারপ্রার্থীকে বুঝতে দিতে হবে”। একথা থেকে এটা পরিষ্কার যে, বিচার সম্পর্কেই অনেক বিচারকের ভাল ধারনা নেই। যাদের নিজেদের বিচার কাজ সম্পর্কেই ভাল ধারনা নেই, তারাই অন্যদের সম্পর্কে সন্দেহ পোষন করেন। এজন্যই সম্ভবতঃ হযরত আলী(রাঃ) বলেছেন, “অসৎ লোকেরা অন্যদেরকেও অসৎ মনে করে”।

সরকারী/বেসরকারী অফিসগুলোতে অনেক আইন আছে। কিন্তু সেসকল অফিসে টেকনিক্যাল/ননটেকনিক্যাল অনেক কর্মকর্তা আছেন, যারা সেসকল আইন সম্পর্কে তেমন কোন ধারনাই রাখেন না বা চেষ্টাও করেননা। ফলে এসকল অফিসের কেরানী বা প্রশাসনিক কিছু কর্মকর্তা যা বলেন বা করেন, তাই সেসকল পদস্থ টেকনিক্যাল/ননটেকনিক্যাল কর্মকর্তারা মেনে নেন। এসকল কেরানী বা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সিংহভাগ ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল/ননটেকনিক্যাল পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে মিসগাইড করেন বা ভুল পথে পরিচালিত করেন। এতে একদিকে দুর্নীতির সৃষ্টি হচ্ছে, অপরদিকে সাধারন কর্মকর্তা/কর্মচারীরা চরম ক্ষতি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অথচ  পদস্থ টেকনিক্যাল/ননটেকনিক্যাল কর্মকর্তারা একটু চেষ্টা করলেই নির্দিষ্ট আইনের ধারাটি দেখে নিতে পারেন।

আমাদের এ লিখার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, বাংলাদেশে কয়েক শত আইন আছে, আইনের কয়েক হাজার ধারা আছে। সব কিছু আপনার(সাধারন মানুষের) জানার দরকার নেই। আপনি/আপনারা যারা মামলায় জড়িত হয়ে গেছেন, বা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন, তারা সে মামলায় বা সে ঘটনায় বর্নিত ১-২-৩-৪ বা যে কয়টি ধারা বর্নিত আছে সেগুলো পড়ুন, দেখবেন মামলা সম্পর্কে বা কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনায় আপনাদের অনেক ধারনার সৃষ্টি হয়ে গেছে। এতে আপনারা কেরানী বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বা আইনজীবি ও বিচারকের দুর্নীতি ও হয়রানী থেকে অনেক  রেহাই পাবেন।

Related posts