নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরনবিধির গেজেট প্রকাশ কেন প্রয়োজন?

মহামান্য প্রেসিডেন্ট ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা।

সিলেটের বিভাগীয় স্পেশালজজ আদালতে স্পেশাল মামলা নং ২১/০৯ আমলে নেওয়া হয় ১৩/১০/০৯ইং তাং এবং ২-৩মিনিটের মধ্যে  ১০/১১/২০০৯ইং তাং এর চার্জ গঠন করা হয়। একই কোর্টে একই ৩জন আসামীর বিরুদ্ধে স্পেশাল মামলা নং ২৩/০৯ আমলে নেওয়া হয় ২০/১০/০৯ইং তাং এবং ২-৩মিনিটের মধ্যে  ১০/১১/২০০৯ইং তাং এর চার্জ গঠন করা হয়। একজন আসামী মাননীয় উচ্চ আদালতে ২টি মামলাতেই চার্জের বিরুদ্ধে রিভিসন দাখিল করলে তা গ্রাহ্য হয়নি, কিন্তু ফৌজদারী কার্য্যবিধির ২৬৫ধারার পরিবর্তে ২৪১ধারায় চার্জ গঠন বিবেচনা করার জন্য বলা হয়। আসামীরা সবাই ২৬৫সি এর পরিবর্তে ২৪১এ মোতাবেক চার্জ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন এবং শুনানীও হয়। কিন্তু পূর্বে যে ২-৩মিনিটে চার্জ গঠন করা হয়, এখন আর বিচারক(তৎকালীন জেলাজজ গোলাম হোসেন) চার্জ গঠন বা অব্যাহতি প্রদান কোনটাই না করে তাহার স্টেনোকে(আলী হোসেন) লেলিয়ে দেন এবং স্টেনো হাই কোর্টের(আদি বিভাগের) জনৈক কম্প্যুটার অপারেটরকে(মোকাদ্দেস, মোবাঃ-০১৭১১-০৬৮২০৫) দেখিয়ে দেন, যার মাধ্যমে বিচারক ঘুষ খান।

ঘুষ পেতে ব্যর্থ হয়ে বিচারক চার্জ গঠন কয়েক মাস ঝুলিয়ে রাখেন এবং বদলী হয়ে যান। ফলে ৩০/০১/২০১২ইং তাং পরবর্তী বিচারক কর্তৃক ২-৩মিনিটের মধ্যে  চার্জ গঠন করার পূর্ব পর্যন্ত মামলা ২টি ঝুলে ছিল। ঘুষ পেতে ব্যর্থ হয়ে প্রথম বিচারক বিচারপ্রার্থীদের উপর জিঘাংসা বশতঃ কোন আদেশ না দিয়ে মামলা ঝুলিয়ে রাখেন।

২য় বিচারক(জেলাজজ সুফিয়া বেগম) ৩০/০১/২০১২ইং তাং ২-৩মিনিটের মধ্যে উপরোক্ত ২টি মামলাতেই চার্জ গঠন করেন। কিন্তু স্বাক্ষী হাজির না করিয়ে একই কায়দায় মামলা ঝুলিয়ে রাখেন।  কথিত আছে যে, দুর্নীতির মামলার আসামীরা নাকি সাধারনতঃ কোর্ট স্টাফদের সাথে যোগসাজশে মামলা ঝুলিয়ে রাখে বা বিলম্বিত/দীর্ঘায়িত করে। এ মামলা ২টির ক্ষেত্রে সম্পূর্ন বিপরীত ঘটনা ঘটতে থাকে। অর্থাৎ আসামী ও তাদের উকিলগন মনেপ্রানে চেয়েছেন এবং প্রকাশ্য আদালতে বহুবার বিচারক ও কোর্ট স্টাফদেরকে অনুরোধ করেছেন মামলা নিষ্পত্তির জন্য। কিন্তু বিচারক ও কোর্ট স্টাফরা হেন কোন নির্লজ্জ পন্থা নাই যা দ্বারা মামলা নিষ্পত্তি বিলম্বিত করে নাই। বিচারক ও কোর্ট স্টাফ কর্তৃক  মামলা নিষ্পত্তি বিলম্বিত করার যথেষ্ট কারনও আছে। শুভাকাংখীর ছলে বা ডাইরেক্ট ঘুষের প্রস্তাব, যাহাই হোকনা কেন, সেই স্টেনো কোর্টের বারান্দায় প্রকাশ্যে বলেন যে, অব্যাহতি পেলে চাকুরী ফেরৎ পাওয়াসহ বহু টাকার বেনিফিট আপনারা(আসামীরা) পাবেন, কোর্টকে ১০(দশ)লাখ টাকা দেবেননা কেন? স্টেনোসহ অন্য স্টাফরা বলে যে, বিচারক দুর্নীতিবাজ, তাই ঘুষ ছাড়া মামলা নিষ্পত্তি হবেনা। আইনগতভাবে একথাগুলো প্রমান করা যাবেনা, তবে তারা একথাগুলো বলেছে, এটা শতভাগ সত্য। মামলার নথিতে রক্ষিত রেকর্ড মোতাবেক পরবর্তীতে তাদের কথা অক্ষরে অক্ষরে প্রমানিত হয়েছে। ১৭-৪-২০১২ইং তাং সুদুর বরিশাল থেকে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক আর কে মজুমদার স্বাক্ষ্য দিতে সিলেটে আসলেও বিচারকের হাতে প্রচুর সময় থাকা সত্বেও শুধুমাত্র “annexure” প্রদর্শন করা নাই, এই অজুহাতে স্বাক্ষীকে ফিরিয়ে দেয়। যদিও সকল “annexure” মামলার নথিতে ছিল, শুধু  প্রদর্শনী ১,২, …. এভাবে আর্জী-চার্জশীটে দেখানো ছিলনা। দুদকের উপপরিচালক বলেন যে, ১০মিনিটের মধ্যে  তিনি ঠিক করে আনিতেছেন এবং পিপি মুশাহিদ আলীর কক্ষে বসে তিনি তা করেন। কিন্তু বিচারক আবার বলেন যে, আপনি(দুদকের উপপরিচালক) আজ থেকে যান, কালকে শুনানী হবে। কিন্তু বিচারক আবার বলেন যে, পরের তারিখে শুনানী হবে। এদিন আসামী পক্ষের উকিলগন, সর্বজনাব আবদুল খালিক(মোবাঃ-০১৭১২-৪৫১০০০), নুমান মাহমুদ(মোবাঃ-০১৭১১-১৫৬৭৭০), দুদকের পিপি আইভি(মোবাঃ-০১৭১২-১৯৪৬১২), যাঁরা বারের সিনিয়র ও মান্যগন্য আইনজীবি, তারাও বিচারককে বহু অনুরোধ করেন যে, এতদুর থেকে আসা স্বাক্ষীকে ফিরিয়ে না দেয়ার জন্য। কিন্তু বিচারক এত তুচ্ছ অজুহাতে বরিশাল থেকে সিলেটে আসা, সরকারের গুরুত্বপূর্ন কাজে নিয়োজিত, সরকারী বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় করে আসা, দুদকের উপপরিচালককে ফিরিয়ে দেন এবং দীর্ঘ কয়েকমাস আর তাকে হাজির করানো হয়নি। মানসিকভাবে সুস্থ কোন বিচারক এটা করতে পারেননা। এরপর আর কোন গুরুত্বপূর্ন স্বাক্ষীই হাজির করানো হয়নি। পূর্বের স্টেনোর মাধ্যমে ৭লাখ টাকার বিনিময়ে ৩মাসে মামলা শেষ করে দিবে এই শর্তে ২৬-৯-২০১২ইং একই তারিখে চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, প্রভৃতি যায়গা থেকে পিডিবির চাকুরীরত, অবসরপ্রাপ্ত, প্রধান প্রকৌশলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ৮জন স্বাক্ষী হাজির করে ও তাদের স্বাক্ষ্য নেয়। কিন্তু আসামীরা এত টাকা ঘুষ দিতে রাজী না হওয়ায় বিচারক উপরোক্ত সিনিয়র আইনজীবিদের সামনে নিজ হাতে ৫(পাঁচ)মাসের ব্যবধানে পরবর্তী তারিখ ফেলেই ক্ষান্ত হননি, পরে আর এক বছর কোন স্বাক্ষীই হাজির করেনি। ৫(পাঁচ)মাসের ব্যবধানের তারিখের পূর্ববর্তী/পরবর্তী তারিখ সমুহ ২০দিন থেকে সর্বোচ্চ ৪৫দিনের ব্যবধানে ছিল। ঘুষ না দেওয়ার কারনে বিচারপ্রার্থীদের উপর ক্ষুব্ধ হওয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসাবে বিচারক ৫(পাঁচ)মাসের ব্যবধানে পরবর্তী তারিখ ফেলে।

৩য় বিচারক(জেলাজজ মইদুল ইসলাম) ২০১৪সালের ফেব্রুয়ারীতে মামলা শুরু করেন এবং ১৫মাসেও বিচারকাজ শেষ করেননি। অথচ তিনি যেভাবে শুরু করেছিলেন সেভাবে অব্যাহত রাখলে সর্বোচ্চ ৩-৪মাস তথা ২০১৪সালের জুন-জুলাইতে মামলা ২টি নিষ্পত্তি হয়ে যেত। ৪র্থ বিচারক(জেলাজজ মফিজুর রহমান ভূঞা), যিনি একজন তবলীগি পরহেজগার, তিনি ২০১৫সালের ৩০শে আগস্ট ২১/০৯ ও ০৬ই অক্টোবর ২৩/০৯ মামলার স্বাক্ষী সমাপ্ত ঘোষনা করেন। ইনিও যেভাবে শুরু করেছিলেন সেভাবে অব্যাহত রাখলে সর্বোচ্চ ৩-৪মাস তথা ২০১৬সালের জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীতে মামলা ২টি নিষ্পত্তি হয়ে যেত। কিন্তু তিনি(৪র্থ বিচারক) পরবর্তী ১৪-১৫মাস কোন আর্গুমেন্ট শুনানী করেননি এবং স্বাক্ষী সমাপ্তির ১৬-১৭মাসেও মামলা ২টি নিষ্পত্তি করেননি। ৪র্থ বিচারক ১৬-১৭মাসেও যা করেননি, ৫ম বিচারক(জেলাজজ ফাহমিদা কাদের) ৪০-৪৫দিনেই তা করেছেন, অর্থাৎ মামলা ২টি নিষ্পত্তি করেছেন।

ইতিমধ্যে আমরা বহু রিপোর্টের মাধ্যমে দেখিয়েছি যে, এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় দেখেছি যে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের খুব কম সময় এজলাস করা, বৃহস্পতি-রবিবার এজলাস না করা, কেস ম্যানেজমেন্ট-কোর্ট ম্যানেজমেন্ট-এ দুর্বলতা, বিচারকদের তোলা খাওয়া, ইত্যাদি বিষয়ে সাবেক ও বর্তমান  মাননীয় প্রধানবিচারপতিগন প্রকাশ্যে বহুবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ১ম ৪জন জেলাজজ যা করেছেন, তা simply corruption. এটা তারা প্রকাশ্য দিবালোকে আইনজীবিসহ হাজার হাজার লোকের সামনে করেছেন। কিন্তু তারপরও তাদের কোন শাস্তি নেই, জেল জরিমানাতো দুরের কথা।

নিম্ন আদালতের বিচারকরা অতি উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন হয়েও দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর প্রকাশ্য দিবালোকে অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে এবং সেজন্য কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। তার একমাত্র কারন তাদের নিয়ন্ত্রন ও জবাবদিহিতার অভাব। আর আইন বা নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরনবিধির অভাবের কারনে তাদেরকে (নিম্ন আদালতের বিচারক) নিয়ন্ত্রন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাচ্ছেনা বলে  তারা লাগামহীন অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে।

জেলাজজ পদমর্যাদার, যাদেরকে সচিবের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যাদের প্রায় পুরোপুরি লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল এবং আছে, সেরূপ  নিম্ন আদালতের ৫জন বিচারকের কার্য্যক্রমের বাস্তব উদাহরন, যাদের ৫ম জনের কার্য্যক্রম দ্বারা ১ম ৪(চার)জনের দুর্নীতি প্রমানিত হয় এবং এসকল তথ্য ছাড়াও অনিয়ম সংক্রান্ত আরো তথ্য মামলার নথিতে আছে বিধায় উপরের মামলা ২টির উদাহরন দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের অনিয়ম দুর্নীতি এ ২টিতেই সীমাবদ্ধ নহে। শুধু তথ্য নহে অংকের মাধ্যমে আমরা হিসাব করে দেখিয়েছি যে, এরা কত ভয়ানক নির্মম নিষ্ঠুর দুর্নীতিবাজ।

দেশের স্বার্থে, দেশের জনগনের স্বার্থেই  নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরনবিধির গেজেট প্রকাশ করা প্রয়োজন।

Related posts