বিভিন্ন বিচারকের মামলা নিষ্পত্তির মাসিক সংখ্যা বা হার।

১।http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/597277/

কক্সবাজারে বিচার বিভাগীয় সম্মেলনঃ ৯১ হাজার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ-২৬/৮/২০১৫

জেলা ও দায়রা জজ মো. সাদিকুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিক আজিজ বলেন, গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁর আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ২৬ হাজার ৯১৬টি। যথাসময়ে সাক্ষী হাজির হলে আরও কয়েক শ মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হতো। সাক্ষী হাজির হওয়ায় গত সাত মাসে এই আদালতে ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।……….. প্রতি ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিমাসে প্রায় ৫২টি মামলা নিষ্পত্তি করেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা স্বাক্ষ্য গ্রহনের মাধ্যমে মূল মামলা নিষ্পত্তি করেন। তাদের মামলা নিষ্পত্তি করা অপেক্ষাকৃত কঠিন। বেল পিটিশন ব্যতীত তারা আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত মামলার বিচার করেননা।

২।http://www.jugantor.com/old/sub-editorial/2015/01/20/207336  মামলাজট নিরসনে কার্যকর নূরুল হুদা মডেল। ……বিচারক স্বল্পতা সত্ত্বেও এভাবে মাত্র বছরের মধ্যে তারা বিভিন্ন প্রকার মোট ৫৬,৮২৫টি মামলা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি সংশ্লিষ্ট জেলা দায়রা জজ তার ২৩ জন সহকর্মীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল।…………-২৪ জন বিচারক ৩৩মাসে(ডিসেম্বর মাস বন্ধ ধরে) ৫৬,৮২৫টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। প্রতিজন বিচারক  প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।

৩।http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/539380  

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-১০০ মামলায় সাজা হচ্ছে শূন্য দশমিক ৮৪ জনের

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে খুব কম অপরাধী সাজা পাচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে নিষ্পত্তি হওয়া ১০০ মামলায় সাজা হচ্ছে শূন্য দশমিক ৮৪ জনের।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ঢাকা, কুমিল্লা ও পাবনা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের নিষ্পত্তি হওয়া মামলা পর্যালোচনা করে এই তথ্য পেয়েছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে প্রকাশ করা হয়। তিন জেলায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার ৭৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রতিজন বিচারক  প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৮টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।

ঢাকা জেলা মহানগর দায়রাজজ অতিরিক্ত জজদের মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন২০১৫ সময়ের মামলা নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য।

ক্রমিক নং বিচারক ও কোর্টের নাম         মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা স্বাক্ষীর সংখ্যা
মূল মামলা আপীল, মিস আপীল,রিভি সন, ইত্যাদি নাচালানো হেতু/তদবী রের অভাবে খারিজ জামিন

সংক্রান্ত

মোট
১। এসএম কুদ্দুস জামান, জেলা ও দায়রা জজ ১৪ ৮১ ১৩১ ১৩৩৬ ১৫১০ ১৩৫
২। মোঃ কামরুল হোসেন মোল্লা-মহানগর দায়রা জজ 0 ২৯৮৭ ২৯৯৭ ২১
ক্রমিক নং বিচারক ও কোর্টের নাম     মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা স্বাক্ষীর সংখ্যা মন্তব্য
মূল মামলা আপীল, মিস আপীল,রিভি সন, ইত্যাদি মোট
১। এসএম সাইফুল ইসলাম অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-১ (regular),  ৯(In-ch) ৪০ ৯৭ ১৩৭ ১৯৮
২। মোঃ রফিকুল ইসলাম-অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-২ ১৫ ৮৬ ১০১ ১২৭
৩। মোঃ জুলফিকার আলী খাঁন-অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-৩(In-charge), ৭(regular) ২৪ ১২২ ১৪৬ ২৬০
৪। এএইচএম মাহমুদুর রহমান- অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-৪(regular),  ৫(In-ch) ১৩ ৫৯ ৭২ ৫৮
৫। শেখ হাফিজুর রহমান-অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-৬ ১৮ ৬৮ ৮৬ ১১৫
৬। মোঃ আহসান তারেক–অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-৮ ২৫ ৫৯ ৮৪ ২৫১
৭। মোঃজুয়েল রানা-অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ-দেউলিয়া বিষয়ক আদালত ২৮ ৭৭ ১০৫ ১৯৩
৮। মোসাঃ জাকিয়া পারভীন-অতিঃ মহানগর দায়রা জজ-১ ৫৭ ৩৪ ৯১ ২৭২
৯। জনাবা সামছুন্নাহার-) অতিঃ মহানগর দায়রা জজ-২ ৬৭ ৪৭ ১১৪ ৫৫৪
১০
কে এম ইমরুল কায়েস-

অতিঃমহানগর দায়রা জজ-৩

৯০ ৬৩ ১৫৩ ৫৭৬
১১।
জনাব রুহুল আমিন-

অতিঃ মহানগর দায়রা জজ-৪

৫৩ ২৫ ৭৮ ৪৩০
১২।
এস এম জিয়াউর রহমান-

অতিঃ মহানগর দায়রা জজ-৫

৪১ ৭৮ ১১৯ ৫৬০

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ICT department-কর্তৃক developকৃত www.bdcourts.gov.bd)

উপরের তালীকা থেকে আমরা অনেক কিছু অনুমান করতে পারি। ধরে নিই যে, বিচারকরা আর্থিকভাবে সৎ, যা অদৃশ্য। কিন্তু দৃশ্যমান তাদের অনেকের দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা, সুক্ষ্ম কারচুপি, ইত্যাদি।

৫জন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪মাসে মূল ৩০৮টি, অন্য(আপীল, মিস আপীল,রিভিসন, ইত্যাদি) মামলা ২৪৭টি, মোট ৫৫৫টি মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং ২৩৯২জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। একই সময়ে একই পদমর্যাদার ৭জন অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ মূল ১৬৩টি, অন্য ৫৬৮টি, মোট ৭৩১টি মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং ১২০২জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। ৫জন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের তূলনায় ৭জন অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ গড়ে প্রায় ৩৭.৮০% মূল মামলা, প্রায় ১৬৪.২৫% অন্য মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং প্রায় ৩৬% স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন।

বহু আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, ইত্যাদি মামলা সঠিক শুনানী হলে কয়েক মিনিটেই এজলাসে বসেই বিচারক সিদ্ধান্ত, আদেশ বা রায় দিয়ে দিতে পারেন এবং এরূপ দিয়েছেন(সিদ্ধান্ত, আদেশ বা রায়) তার ভূরি ভূরি নজির আছে।এতে মূল মামলা নিষ্পত্তির মত শতভাগ/হাজারভাগের একভাগ শারিরিক ও মানসিক পরিশ্রম, জটিলতা, ইত্যাদি থাকেনা। অপরদিকে মূল মামলায় থাকে তার বিপরীত শারিরিক ও মানসিক পরিশ্রম, জটিলতা, ইত্যাদি। উপরন্তু স্বাক্ষীর বক্তব্য লিখতে গিয়ে হাত ব্যথা, উকিলদের সময়ক্ষেপনমূলক ও বিরক্তিকর জেরা, ইত্যাদি এড়ানোর জন্য বহু বিচারক নানা কৌশলে স্বাক্ষী হাজির করানোকে এড়ান। অসৎ বিচারপ্রার্থী, আরও অসৎ তাদের উকিল, পিপি, পেশকার, জারীকারক ও সর্বোপরি স্বাক্ষী হাজির করানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের অবহেলায়ও কিছু স্বাক্ষী হাজির হয়না, ইহা সত্য। তবে ইহা মূল বিচারিক কর্মকান্ডের তূলনায় অতি ক্ষুদ্র ব্যতিক্রম। তার প্রমান উপরের তালীকা। ৫জন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪মাসে ৩০৮টি মূল মামলা নিষ্পত্তি ও ২৩৯২জন স্বাক্ষী হাজির করাতে পারলে একই পদমর্যাদার ৭জন অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ তা পারবেননা কেন? কিন্তু একই পদমর্যাদার ৭জন অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ প্রায় ৩গুনের বেশী আপীল, মিস আপীল, রিভিসন, ইত্যাদি মামলা নিষ্পত্তি করেন, যা তাদের সুক্ষ্ম কারচুপি। তদবীরের অভাবে খারিজ, না চালানো হেতু খারিজ, যেখানে বিচারকদের সামান্যতম পরিশ্রম বা কৃতিত্ব নাই, সেটাকেও মামলা নিষ্পত্তি ধরে ৭জন অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ তাদের মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বাড়িয়েছেন।

নিম্ন আদালতের ১১০০বিচারকের ১১০০কোর্টে সংশ্লিষ্ট গড়ে ৪জন স্টাফ, পিপি, গড়ে ৫০জন উকিল, স্বাক্ষী হাজিরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্য মিলে প্রায় লক্ষাধিক লোকের যদি ৫০%ও দুর্নীতি, কারচুপির সাথে জড়িত থাকে,(যদিও প্রকৃত সংখ্যা ৫০%এর অনেক বেশী) তা যেকোন মাননীয় প্রধানবিচারপতি, বিচারপতি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী/সচিবের পক্ষে জানা বা উদঘাটন করা অসম্ভব নহে, তবে কঠিন। আর কেউ যদি তা জানার চেষ্টাই না করেন বা জানার সুযোগই না থাকে, তাহলে কারও পক্ষেই তা জানা বা উদঘাটন করা সম্ভব নহে। এভাবেই মামলাজট বাড়ছে।

Related posts