বসুন্ধরা গ্রুপ: অসুবিধা কি, কারন কি, প্রয়োজন কি?

১৯৮৭সালে বর্তমান বসুন্ধরা গ্রুপ ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিঃ নামে রাজউক থেকে ৩০৫একরের অনুমোদন নিয়ে প্রথম ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করে। প্রথমে হয়ত তেমন সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু ১৯৯৬-৯৭এর শেয়ার ব্যবসার উত্থান, তৎপরবর্তীতে প্লট-ফ্ল্যাটে কালো টাকা বিনিয়োগে রাস্ট্রীয় সুযোগের পর তাদেরকে(বসুন্ধরা গ্রুপ) আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃক বারিধারা আবাসিক প্রকল্পের ম্যাপ ও সাইনবোর্ড দেখে অনুমান করা যায় যে, ইহার আয়তন ন্যুনতম ২৫(পঁচিশ)বর্গকিলোমিটার থেকে ৩০(ত্রিশ) বর্গকিলোমিটার। ইহাসহ চারিদিকে বিশেষ করে উত্তর-দক্ষিন-পূর্বের প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ছিল চলনবিল, টাঙ্গুয়ার হাওরের মত হাওর বা বিল, যেখানে সৃষ্টির শুরু থেকে ৩০-৪০বছর পূর্ব পর্যন্ত সারাবছরই জলমগ্ন ছিল বা থাকত। বন্যাপ্রবন এলাকা হওয়ায় পলিমাটি ও আশেপাশের এলাকা ভরাটের ফলে, সেসব এলাকার মাটি গিয়ে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তথাপিও  এই এলাকার কোন কোন এলাকা এখনও ২-৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা বা তারও বেশী এলাকাজুড়ে গ্রীষ্মকালে ১৫-২০-২৫ফুট গভীর পানি থাকে এবং ছিল। অর্থাৎ ২৫-৩০বছর পূর্বেও ২-৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা বা তারও বেশী এলাকার মাঝে কোন ব্যক্তিমালীকানার জমি হিসাবে চিহ্নিত করা, তথা সীমানা, আইল, খূঁটি দিয়ে চিহ্নিত করার কোন সুযোগ ছিলনা বা কোনভাবেই সম্ভব ছিলনা। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশাল এলাকার গভীর জলাভূমি তৎকালীন রাজা(ভাওয়াল)-বাদশাহদের, উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশ সরকারের খাস সম্পত্তি ছিল।

কালক্রমে উপরোক্তভাবে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিকহারে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অস্বাভাকিহারে ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সর্বোপরি মহামারি আকারে দুর্নীতি বৃদ্ধির ফলে কোর্ট অব ওয়ার্ডস কিংবা সরকারী খাসজমিগুলো সার্ভেয়ার, তহসিলদারদের ও প্রভাবশালী ভূমিখেকো, ভূমিদস্যুদের দুর্নীতির ফলে ব্যক্তিমালীকানায় রেকর্ড হতে থাকে। এর মধ্যে যে, হাজার হাজার দলিল ভূয়া বা বানোয়াট নহে, তারই বা নিশ্চয়তা কি? কেননা  যে এলাকাটি ছিল একসময় সমুদ্রের মত গভীর ও পায়ে হাঁটার মত দুর্গম, সেখানে হাজার হাজার দলিলের জেন্যুইনিটি যাচাই করা রাজউকের যেকোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন। ব্যক্তি মালীকানায় রেকর্ড হলেও এসব জমির শ্রেণী অক্ষুন্ন রাখিয়া পরিবেশ, জীব বৈচিত্র, প্রাকৃতিক ভারসাম্য, ইত্যাদি রক্ষার জন্য সরকার পরিবেশ সংরক্ষন আইন-১৯৯৫(২০১০সালে সংশোধিত), প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইন-২০০০, বেসরকারী আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা-২০০৪, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০, Detailed area plan(DAP)-2010, ইত্যাদি বহু আইন, বিধি, master plan প্রনয়ন করেন।

১৯৮৭সালে বসুন্ধরা গ্রুপ ৩০৫ একরের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করলেও  ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইংরেজী capital letter “L”-এর আকারে ৯-১০শত একর ভূমি ভরাট করে। নিজের তৈরী, অননুমোদিত লে-আউট প্ল্যান দেখিয়ে তারা যদিও ইতিমধ্যে প্রায় ৫০হাজার প্লট বিক্রী করে ফেলেছে(রাস্তা ঘাট সহ এর পরিমান প্রায় ২০-২৫ বর্গকিলোমিটার, ৫-৬হাজার একর), কিন্তু বাস্তবে ২০১৩সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইংরেজী capital letter “L”-এর আকারের ৯-১০শত একরের অতিরিক্ত অবশিষ্ট এলাকা ছিল নীচু জলাভূমি, যে ভূমিতে বর্ষাকালে ২০-২৫ফুট গভীর পানি থাকে এবং ১৫-২০ফুট  বা তারও বেশী গভীরতার মহাজনী নৌকা, বালির বার্জ, ট্রলার, bulkhead, ইত্যাদি চলত। এই বিশাল এলাকার বুক চিরে উত্তর-দক্ষিন, পূর্ব পশ্চিমে ন্যুনতম ৫০০-১০০০ ফুটের, কোথাও তারও অনেক বেশী প্রস্থের বহু চ্যানেল ছিল এবং এখনও আছে, যেখান দিয়ে এখনও(শুষ্ক মৌশুমে) ১৫-২০ফুট গভীরতার মহাজনী নৌকা, বালির বার্জ, ট্রলার, bulkhead, ইত্যাদি চলে। এই চ্যানেলগুলোতে বর্ষা মৌশুমে ৩০-৪০ফুট গভীর জল থাকে। ৫০০-১০০০ ফুটের বা তারও বেশী দৈর্ঘ্য-প্রস্থের প্রাকৃতিক জলাশয়-জলাধার, যাহা মাছের ঝাঁক হিসাবে পরিচিত, ছিল এবং আছে এবং এগুলোতেও শুষ্ক মৌশুমে ১৫-২০ফুট ও বর্ষা মৌশুমে ৩০-৪০ফুট গভীর জল থাকে এবং আছে। এর প্রমান স্বয়ং বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃক ভরাটকৃত তৈরী প্লটের ফিনিসড গ্রাউন্ড লেভেল।

১৯৮৭-২০১৩ পর্যন্ত ২৫-২৬বছরে বসুন্ধরা গ্রুপ বারিধারা আবাসিক প্রকল্পে যে প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করতে পারেনি, গত দেড়বছরে(২০১৫সালের মধ্যে) অতীতের ৩-৪গুন বেশী পরিমান প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে ফেলেছে। এটা করতে গিয়ে তারা(বসুন্ধরা গ্রুপ) উপরোক্ত সকল আইন/বিধি চরমভাবে লংঘন করেছে।

সর্বশেষ ২২-০২-২০১৫ তাং ড্যাপ রিভিউ মন্ত্রী সভা কমিটির শর্ত ও উপরোক্ত সকল আইন/বিধিমালা উপেক্ষা করে বসুন্ধরা গ্রুপ তার বারিধারা প্রকল্পে প্রায় শতাধিক ড্রেজার, বার্জ, ইত্যাদি দিয়ে এখনও প্রাকৃতিক জলাধার-জলাশয় ভরাট করিতেছে। [http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/last-page/2015/02/23/33608.html ড্যাপ রিভিউ কমিটির ৩৫ প্রকল্প অনুমোদন। ড্যাপ (ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান) রিভিউয়ের লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি শর্ত সাপেক্ষে ৩৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও কুড়িলে পুলিশের একটি আবাসন প্রকল্পও রয়েছে। তবে, ড্যাপ রিভিউয়ের জন্য গঠিত তিনটি কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন না দেয়া পর্যন্ত কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে না।………….]

বসুন্ধরা গ্রুপ বারিধারা আবাসিক প্রকল্পে কত টাকা আয় করেছে এবং ভবিষ্যতে কত টাকা আয় করবে তা আমরা জানিনা। ধরে নিই যে তারা Y টাকা আয় করেছে। আমরা হিসাব করে দেখেছি যে, সকল আইন পালন করে, পরিবেশ ও জলাধার রক্ষা করেও তারা Y টাকা  বা তারও বেশী আয় করতে পারত।

বসুন্ধরা গ্রুপ বারিধারা আবাসিক প্রকল্পের I(আই)ব্লকে প্লট বিক্রী করছে প্রতি কাঠা ৬০(ষাট)লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে দেড়কোটি টাকা পর্যন্ত। দেড়কোটি টাকার প্লটগুলো প্রশস্ত রাস্তা, কর্নার ও লেকসাইডে দেখানো এবং সাধারন প্লটের তূলনায় ২৫০%(আড়াই গুন)বেশী দাম। বসুন্ধরা গ্রুপ, বারিধারা আবাসিক প্রকল্পে সকল জলাধার ও পানিপ্রবাহ, ইউটিলিটির জন্য নির্দিস্ট ভূমিসহ ৫০% ভূমি অক্ষুন্ন রেখেও প্রশস্ত রাস্তা ও লেকসাইড দেখিয়ে প্লট বিক্রী করে Y টাকা  বা তারও বেশী আয় করতে পারত। বসুন্ধরা গ্রুপের বারিধারা আবাসিক প্রকল্প হতে পারত সিঙ্গাপুরের একটি অংশ। অথচ পরিবেশ দূষন, যানজট, জলজটের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের বারিধারা আবাসিক প্রকল্প সমানভাবে দায়ী।

মানবজমিনTop of Form

বাংলাদেশের শীর্ষ ৫০ সম্পদশালী।অনলাইন ডেস্ক : | ১২ জানুয়ারি ২০১৫, সোমবার, ২:৩৪ | মতামত: ৭ টি ।২০১৩-১৪ সালের করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের শীর্ষ সম্পদশালী ৫০ ব্যাক্তির তালিকায় দেখা গেছে ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৭ জন। আর ৫০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন এমন সম্পদশালীর সংখ্যা ৪৬ জন। এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তালিকায় এমন তথ্য জানা গেছে। মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে যা থাকে তাই নিট সম্পদ। প্রকাশিত নিট সম্পদের এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তার প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ২৭৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সম্পদশালী ব্যাত্তির তালিকায় রয়েছেন নাভানা গ্রুপের সাইফুল ইসলাম। যার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা। ২০৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সাদাদ সোবহান। ……… ১৫৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সাফওয়ান সোবহান।……………..

-২৪ জুন ২০১২ -মন্তব্য প্রতিবেদন-ওদের আর কত টাকা চাই?-পীর হাবিবুর রহমান।

সর্বত্র একই প্রশ্ন, ওদের আর কত টাকা চাই? আর কত বিত্ত-বেসাত চাই? ব্যাংক ব্যালান্স চাই? দামি দামি গাড়ি  চাই, বিলাসী জীবন চাই? কেউ জানে না তাদের আসলে কত টাকা দরকার? সরকার আসে সরকার যায়, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা দমন-নির্যাতনের শিকার হন। আর ওরা সেই একই স্টাইলে টাকা চাই টাকা চাই বলে মাঠে নেমে লুটে নিয়ে যায়। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ক্ষমতার পালাবদলে তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে মন্ত্রী-এমপি  ও নেতাদের একাংশ আজান দিয়ে মাঠে নেমে যান। তদবির-বাণিজ্য, কমিশন-বাণিজ্যের মুনাফা লুটে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। তারাও জানেন না তাদের কত টাকার প্রয়োজন!……………..

বসুন্ধরা, ইস্টার্ন হাউজিং, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতেই ভুল ব্যবস্থাপনা, অস্বাভাবিক মুনাফার সীমাহীন লোভ,  দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, খুন খরাবী, ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইত্যাদি দিয়ে শুরু না করলে তারা ইতিমধ্যে যে পরিমান অর্থ উপার্জন করেছে, সে পরিমান বা তারও বেশী পরিমান অর্থ উপার্জন করেও তাদের আবাসিক প্রকল্পগুলোকে একেকটিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিার একেকটি অংশে পরিনত করতে পারত।

গত শতকের নব্বইয়ের দশকের প্রথমে প্লট-ফ্ল্যাটে কালোটাকা বিনিয়োগের সুবিধা, শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন, মানুষের ‘ঢাকা মোহ’, ইত্যাদি কারনে সকল আকারে প্রকারে নিরাপদ ও সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ হিসাবে মানুষ স্থলভাগ থেকে ৫-১০ কিলোমিটার বা তারও বেশী দুরত্বের ৩০-৪০ফুট গভীর “সমুদ্রে” “প্লট” কিনতে থাকে। প্লটের কেন, আবাসিক প্রকল্পেরই কোন চিহ্ন ছিলনা। এতবড় অনিয়মের তথা “ভুল” হওয়া সত্বেও ১২০০Real estate এবং private  land developer-এর ব্যবসা চলছে তো(can go wrong), এখনও চলছে, ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে(will go wrong).( Murphy’s Law :-Anything that can go wrong, will go wrong).

 

“নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে, ২-৪-৬ বা ততোধিক আইন অমান্য করে টাকা রোজগার করার প্রয়োজন কি?  আর টাকা রোজগার করতে না পারলে অসুবিধা কি?  এত অনিয়ম করে টাকা রোজগার করার কারন কি?”

Related posts