ইস্টার্ন হাউজিং এবং Murphy’s Law

দেশে বিদেশে অবকাঠামো নির্মানসহ এদেশের আবাসন শিল্পের পথিকৃৎ শিল্পপতি, ইসলাম গ্রুপের প্রষ্ঠিাতা, মরহুম জহুরুল ইসলাম। ইস্টার্ন হাউজিং-নামে ডেভেলপার কোম্পানীর সাহায্যে প্রচুর আবাসিক/বানিজ্যক ভবন, মার্কেট এবং আবাসিক এলাকা, যেমনঃ-পল্লবী, মহানগর, বনশ্রী, আফতাবনগর, ইত্যাদি প্রকল্প নির্মান করেন, যার অনেকগুলো এখনও চলমান। ইহা ছাড়াও জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মত জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানও নির্মান করেন। বাইরে বা সাধারনে এখনও ইস্টার্ন হাউজিং-এর প্লট-ফ্ল্যাটের মান, রুচি, ইত্যাদির প্রচুর সুনাম। এত সুনামের মধ্যেও এবং ইতিমধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা উপার্জন করা সত্বেও এখনও তারা অবৈধভাবে নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে, ২-৪-৬ বা ততোধিক আইন অমান্য করে, রাস্তাঘাট, ড্রেন-ফুটপাথ, স্যুয়্যারেজ, ইত্যাদি টোটালী নির্মান না করে এগুলোর কয়েকহাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, সরকারী খাস জমি আত্মসাৎ করে, নাগরিক সুযোগ সুবিধার জন্য রক্ষনীয়, যা আবশ্যিকভাবে অবিক্রয়যোগ্য, ভূমি বিক্রী করে আরও টাকা রোজগার করার জন্য হেন কোন পন্থা নাই, যা তারা করছেনা।

বসুন্ধরা, ইস্টার্ন হাউজিং, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতেই ভুল ব্যবস্থাপনা, অস্বাভাবিক মুনাফার সীমাহীন লোভ,  দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, খুন খরাবী, ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইত্যাদি দিয়ে শুরু না করলে তারা ইতিমধ্যে যে পরিমান অর্থ উপার্জন করেছে, সে পরিমান বা তারও বেশী পরিমান অর্থ উপার্জন করেও তাদের আবাসিক প্রকল্পগুলোকে একেকটিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার একেকটি অংশে পরিনত করতে পারত।

গত শতকের নব্বইয়ের দশকের প্রথমে প্লট-ফ্ল্যাটে কালোটাকা বিনিয়োগের সুবিধা, শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন, মানুষের ‘ঢাকা মোহ’, ইত্যাদি কারনে সকল আকারে প্রকারে নিরাপদ ও সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ হিসাবে মানুষ স্থলভাগ থেকে ৫-১০ কিলোমিটার বা তারও বেশী দুরত্বের ৩০-৪০ফুট গভীর “সমুদ্রে” “প্লট” কিনতে থাকে। প্লটের কেন, আবাসিক প্রকল্পেরই কোন চিহ্ন ছিলনা। এতবড় অনিয়মের তথা “ভুল” হওয়া সত্বেও ১২০০Real estate এবং private  land developer-এর ব্যবসা চলছে তো(can go wrong), এখনও চলছে, ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে(will go wrong).

এসবের সৃষ্ট ঢাকার যানজট, জলজট, জনজট, ইত্যাদির ফলে ২০-৩০মিনিটের ভ্রমনে ৪-৫ঘন্টা লাগছে। তারপরও চলছে তো। এবং চলবে তো। ইস্টার্ন হাউজিং বনশ্রী ও আফতাবনগর প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা করার পরও বহু হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। নিজের প্রয়োজন ব্যতীত ক্রেতা/প্লট গ্রহীতাদের স্বার্থে ন্যুনতম রাস্তা, ফুটপাথ, ড্রেন নির্মান/পাকা করেনি। ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও স্যুয়্যারেজ লাইন নির্মান করেনি। আফতাবনগরের ৫০%এর উপরে ছিল প্রাকৃতিক জলাধার, পানি প্রবাহ, যার সবটুকুই ভরাট করে ফেলেছে।

এখানেই শেষ নহে, সরকারী ৪২.১১একর খাস যায়গা আত্মসাৎ করেছে। বিনিময়ের কথা বললেও সে বিনিময়কৃত ভূমি কোথায়? ইস্টার্ন হাউজিং-এর স্বার্থে বিনিময় হয়ে থাকলে, ইস্টার্ন হাউজিং ডেভেলপ করে যে মানে বিক্রী করেছে, সে মানের সমপরিমান জমি সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে। ইস্টার্ন হাউজিং ২০১৪সালে প্রতিকাঠা ৫০-৬০লাখ টাকা করে এম ব্লকের প্লট বিক্রী করেছে। সে হিসাবে ৪২.১১একরের মূল্য প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা। ইহা ছাড়াও রাস্তা ও ইউটিলিটির(মোট ভূমির ৩০%) জন্য রাস্তা বাদে আরও ২০% ভূমি, যার পরিমান প্রায় ৪০০একর, অক্ষুন্ন থাকার কথা যা আবশ্যিকভাবে অবিক্রয়যোগ্য, কিন্তু তারা বিক্রী করে ফেলেছে।বর্তমান বাজারমূল্যে টাকার অংকে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা।

১৯৮৭সাল থেকে ইস্টার্ন হাউজিং বনশ্রী ও আফতাবনগর প্রকল্পে এরূপ Wrong (অন্যায়) কাজ চালিয়ে আসছে, এখনও Wrong (অন্যায়) কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে নাতো।

Related posts