রাজউকের দুর্নীতির ফাঁদ

আমরা ইতিমধ্যে রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির মান ও পরিমান নিরুপন করতে গিয়ে দেখিয়েছি যে, বিদ্যুতের মিটার রিডারদের(যারা দুর্নীতি করে) দুর্নীতির চেয়েও রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি ও দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা কয়েক হাজার গুন বেশী। তাদের(রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের)দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা মানে দুর্নীতির ফাঁদ তৈরী করা।

খোদ রাজউকের চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে তৈরী করা প্রতিবেদনেই দেখা যায় যে, পুরানা পল্টন, সিদ্ধেশ্বরী, মগবাজার এলাকার ৪-৫টি ভবন নির্মানে ৬-১৮তলার অনুমোদন কারচুপিতে অতিরিক্ত প্রায় ১৪৩কোটি ২০লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা ভবন মালীক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নহে, ঢাকা সিটিতে বড় ধরনের কারচুপির এরূপ কয়েক হাজার ভবন পওয়া যাবে, যেগুলোতে অনুমোদন ও নির্মান কারচুপিতে অতিরিক্ত প্রায় ১০হাজার কোটি টাকার(প্রকৃত পরিমান যদিও অনেক অনেক বেশী) আর্থিক সুবিধা ভবন মালীক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। ১০হাজার কোটি টাকার ১০%=১হাজার কোটি টাকা। এ ১হাজার কোটি টাকায় রাজউকের যাকে যাকে প্রয়োজন তাকে তাকে গোলাম বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

নক্সা অনুমোদনে এবং নক্সার বাইরে নির্মান কাজ বন্ধ বা স্থগিত রাজউক সহজেই করতে পারে। কিন্তু ইচ্ছা করেই তারা সেটা করেনা। কারন একবার নির্মিত হয়ে গেলে, রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ঘুষ বা অতিরিক্ত নির্মানের আর্থিক সুবিধার ভাগ/পার্সেন্টেজ/কমিশন চাওয়া লাগবেনা, ভবন মালীক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানই তা দিতে এগিয়ে আসবে। এভাবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষের ফাঁদ তৈরী করে।

Related posts