দেশের আইন শৃংখলা ও অবহেলিত বিচার বিভাগ।

দুর্নীতি, জনসংখ্যা, মাদক-এ তিনটি দেশের প্রধান সমস্যা। এ তিনটি রাজনৈতিক হানাহানি, খুন, ধর্ষনসহ অন্যসব অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। ফলে আইন শৃংখলার অবনতি ঘটছে। আইন শৃংখলার উন্নতির জন্য প্রয়োজন অপরাধের দ্রুত বিচার। দ্রুত বিচারের জন্য প্রয়োজন বিচার বিভাগের উন্নয়ন। অথচ বিগত বছর সমুহে অনেক উন্নয়ন হলেও বিচার বিভাগের তূলনামূলক তেমন উন্নয়ন হয়নি।

৩৫০বোতল ফেন্সিডিলের জন্য ৭বছর বিচারশেষে  যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। শিশু ধর্ষনের দায়ে ১৭বছর বিচারশেষে  যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। এসব বিচারে ৭-১৭বছর লাগবে কেন? লাখ-কোটি টাকার ইয়াবার জন্য কয়েক সপ্তাহে বা মাসে হাজার হাজার লোকের মৃত্যুদন্ড হয়না কেন? কারন বিচারকের সংখ্যা কম এবং এজন্য নিম্ন আদালতের সৃষ্ট দুর্নীতি।

১৬কোটি মানুষের প্রতিজনের জন্য প্রতিবছর বাজেটে গড়ে প্রায় ১২,৫০০ টাকা ব্যয় করা হয়(বছরে গড়ে ২লাখ কোটি টাকার বাজেট হিসাবে)। তার ১০০ভাগের একভাগ অর্থাৎ জনপ্রতি ১২৫টাকা বা মোট ২০০০কোটি টাকা ব্যয় করলে(প্রতিবছর নহে) বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিচার বিভাগে পরিনত করা যায়। বর্তমানের চেয়ে আইন শৃংখলার বহু বহু গুন বেশী উন্নতি করা যায়। ২০০০কোটি টাকার বহু বহু গুন বেশী রাজস্ব বৃদ্ধি করা যায়।

১। আরও ১০০জন বিচারপতি নিয়োগ করলে তাঁদের সকল বেতন-ভাতাসহ প্রতিজনের মাসিক গড় ১.৫লাখ টাকা হিসাবে(সরকারী বাসা না থাকলে বাড়ী ভাড়া ভাতাসহ)  বছরে প্রায় ১৮কোটি টাকা, ধরি, ২০ কোটি টাকা।

২। সহকারীজজ-জেলাজজ পর্যন্ত ১০০০বিচারকের পদ বাড়িয়ে নিয়োগ করলে তাদের সকল বেতন-ভাতাসহ প্রতিজনের গড় মাসিক ১লাখ টাকা হিসাবে(সরকারী বাসা না থাকলে বাড়ী ভাড়া ভাতাসহ) বছরে প্রায় ১২০কোটি টাকা।

৩। বিচারপতি ও বিচারকদের সাপোর্টিং স্টাফ ১০,০০০জন পদ বাড়িয়ে নিয়োগ করলে তাদের সকল বেতন-ভাতাসহ প্রতিজনের গড় মাসিক ০.৫লাখ টাকা হিসাবে(সরকারী বাসা না থাকলে বাড়ী ভাড়া ভাতাসহ)  বছরে প্রায় ৬০০কোটি টাকা।

৪।প্রতি বিচারপতি/বিচারকের গড়ে ৩০০০বর্গফুটের কোর্ট কক্ষ (সাপোর্টিং স্টাফসহ)X১১০০ বিচারপতি/বিচারকX৩০০০টাকা প্রতি বর্গফুটের নির্মান ব্যয়(নির্মানকারীদের মুনাফা ও ঘুষ দুর্নীতিসহ, ভূমি কোর্ট এলাকায় আছে বা উর্ধমুখী সম্প্রসারন করে)=৯৯০কোটি, ধরি, ১০০০কোটি টাকা। এটা প্রতিবছর লাগবেনা।

৫। ফার্নিচার, যানবাহন, কম্প্যুটার, স্টেশনারী, ইত্যাদি=১০০কোটি টাকা। এটা প্রতিবছর লাগবেনা।

৬। রেস্ট হাউজ/ডরমিটরী/একক আবাসন প্রতি বিচারকের জন্য ৩০০ বর্গফুটX১৫০০বিচারকX৩০০০টাকা প্রতি বর্গফুটের নির্মান ব্যয়(নির্মানকারীদের মুনাফা ও ঘুষ দুর্নীতিসহ, ভূমি কোর্ট এলাকায় আছে বা উর্ধমুখী সম্প্রসারন করে)=১৩৫কোটি টাকা। এটা প্রতিবছর লাগবেনা।

সর্বমোট=১৯৭৫কোটি টাকা, ধরি, ২০০০ কোটি টাকা।

সিংহভাগ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর সরকারী বাসা নেই, তারা বাড়ী ভাড়া ভাতা পান। বিচারকদেরও সিংহভাগের সরকারী বাসা নেই, তারা বাড়ী ভাড়া ভাতা পান। তবে অন্য  সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য রেস্ট হাউজ/ডরমিটরী/একক আবাসন থাকলেও বিচারকদের সিংহভাগের তা নেই। তাই স্বল্প মেয়াদী ব্যবস্থা হিসাবে বিচারকদের জন্য রেস্ট হাউজ/ডরমিটরী/একক আবাসনের ব্যবস্থা করলে তারা অনেক ভালো থাকবেন।

কোর্ট কক্ষ, রেস্ট হাউজ/ডরমিটরী/একক আবাসন, ফার্নিচার, যানবাহন, কম্প্যুটার, ইত্যাদি একবার হয়ে গেলে ২০-৩০-৫০বছর আর লাগবেনা। বেতন-ভাতা ও রক্ষনাবেক্ষন বাবদ বছরে ১০০০কোটি টাকা ব্যয় করলে ১১০০০ বিচারপতি/বিচারক/অফিসার/স্টাফ নিয়োগ করলে বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিচার বিভাগে পরিনত করা যায়। বর্তমানের চেয়ে আইন শৃংখলার বহু বহু গুন বেশী উন্নতি করা যায়। ২০০০কোটি টাকার বহু বহু গুন বেশী রাজস্ব বৃদ্ধি করা যায়।

যেভাবে এটা বাস্তবায়ন সম্ভবঃ-মাননীয় প্রধান বিচারপতি ইতিমধ্যে অনেক ভাল কাজ করেছেন, আরও করার চেষ্টা করছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললে খুব সহজেই কাজটি হয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে ২(দুই) হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্ধ দেওয়ার কথা বলবেন। সে টাকার প্রয়োজনীয় অংশ সেনাবাহিনীর ইন্জিনিয়ারিং কোরকে দিলে তারা অবকাঠামো নির্মান করবে। পূর্ত মন্ত্রনালয়কে দিলে সিংহভাগ চুরি হবে। বেতন-ভাতার টাকা আইন মন্ত্রনালয়কে দিলে তারা তা উচ্চ আদালত-নিম্ন আদালতকে ভাগ করে দিবে। এর মধ্যে ১১০০০ বিচারপতি/বিচারক/ অফিসার/স্টাফ নিয়োগের জন্য সেটআপ বৃদ্ধির বিষয়টি আইনমন্ত্রী সংসদে পেশ করবেন এবং সে মোতাবেক তা পাশ হবে।

বিচার বিভাগের উন্নয়ন তথা আইন শৃংখলার উন্নতির জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই।

Related posts