Private Land developer-দের দুর্নীতি ও নির্মমতা, নিষঠুরতা।

নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে, ২-৪-৬ বা ততোধিক আইন অমান্য করে টাকা রোজগার করতে গিয়ে কতিপয় Land developer-এর দুর্নীতি নির্মমতা, নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে।ঢাকা শহরে বসবাসরত, প্রতিনিয়ত যাতায়াতরত কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য যে বিশুদ্ধ বাতাসের প্রয়োজন সে বাতাস নির্মল করার জন্য, জীববৈচিত্রের জন্য ঢাকার চারিদিকের প্রাকৃতিক জলাধার অক্ষুন্ন থাকা দরকার। প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট হওয়ায় বাতাসে ভাসমান ধূলাবালি, গাড়ীর কালো ধোঁয়ার দূষিত পদার্থ শোষনের(absorption)জন্য যে পানি দরকার তা আর নেই বললেই চলে। ঢাকা শহরের বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার জন্য যে suction force দরকার, এসব প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট করে ফেলায় সে suction force আর নেই। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, জলাবদ্ধতার কারনে যানজট, জনজটসহ কোটি কোটি মানুষের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

কতিপয় Land developer-এর দুর্নীতি নিয়ে লিখতে গেলে শত পৃষ্ঠার গ্রন্থ রচিত হবে। এরা হাজার হাজার দুর্নীতির স্রষ্টা।২০১২এর পরের চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও তার পূর্বে কোন Land developer প্রতি কাঠা(৭২০ বর্গফুট) ভূমি ৫০(পঞ্ছাশ)হাজার টাকার বেশী দামে কিনেনি। সিংহভাগ Land developer নানা রকম পকেট/ট্র্যাপ সৃষ্টি করে, অল্পমূল্যে, কখনও কখনও বিনামূল্যে ভূমি দখল করেছে। এটা সাধারন লোক থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও জানেন। দ্রস্টব্য-বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীকিছু ভূমিখেকো আছে প্রতিবাদ করলে তারা পেছনে লাগে। নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০১:১১, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকে জলাশয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভূমি দখল করছে। কিছু ভূমিখেকো লোক আছে, যারা ১০ বিঘা জমি কিনে ২০ বিঘা দখল করে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাঁদের পেছনে লাগে।ভূমি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী প্রারম্ভিক বক্তৃতায় এ কথা বলেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘শক্ত’ হওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। ‘ভূমিখেকো’দের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরা এতই শক্তিশালী—এদের মিডিয়া আছে, পত্রিকা আছে। কেউ প্রতিবাদ করলে, তাঁকে চোর বানিয়ে ছাড়ে। দুঃখজনক, এই মিডিয়া আমরাই দিয়েছি।’ …………….নৌ পরিবহন মন্ত্রী জনাব শাহজাহান খান এদেরকে রাজাকারের সাথে তূলনা করেছেন।

২০১২ বা তার পূর্বে ড্রেজারের মাটি/বালি প্রতি ঘনফুটের মূল্য ছিল এক টাকা বা তারও কম।(বর্তমানে দাম বেড়ে প্রতি ঘনফুটের মূল্য ৪-৫টাকা হয়ে গেছে)। ১কাঠা বা ৭২০ বর্গফুটের সংলগ্ন রাস্তাসহ ১০০০বর্গফুট ধরলে, এই ভূমি ১০ফুট গভীর ধরলে ১কাঠা বা সংলগ্ন রাস্তাসহ ১০০০বর্গফুটX১০ফুট গভীরXপ্রতি ঘনফুটের মূল্য ১টাকা= ১০,০০০টাকা। Compaction, settling, mapping, sizing, কোম্পানীর/ ডেভেলপারের স্টাফদের বেতন-ভাতা, ইত্যাদি বাবদ আরও ৪০,০০০টাকা। অর্থাৎ ১কাঠা ভূমি বাসোপযোগী করতে ১লাখ টাকার বেশী কখনও ব্যয় হয়না। কিন্তু বিক্রী করছে প্রতি কাঠা ২০-৩০-৪০লাখ থেকে শুরু করে দেড়কোটি টাকা পর্যন্ত। প্রতি কাঠায় মুনাফা ১৯০০%-২৯০০%-৩৯০০% থেকে শুরু করে ১৪৯০০% পর্যন্ত।

১লাখ টাকা ক্রয় ও প্রস্তুতি মূল্যের বিপরীতে দেড়কোটি টাকায় বিক্রয় করলেও দলিলে মূল্য দেখানো হচ্ছে কাঠাপ্রতি ২-৩লাখ টাকা বা তারও কম। এতে রেজিস্ট্রেসন ফি, ইনকাম ট্যাক্সসহ হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে কালো টাকার মালীকরা অতি সহজে কালো টাকা অদৃশ্য(unseen)বা গোপন(hide) করে ফেলছে।

রাজউক(উত্তরা, ঝিলমিল, পূর্বাচল), সেনা আবাসনে(জলসিঁড়ি)রাস্তা, ইউটিলিটি সার্ভিস, লেক, জলাধার, জলাশয়, বন্যা প্রবাহ, পানি প্রবাহ,ইত্যাদির জন্য মোট ভূমির ৫০%-৬০% রিজার্ভ বা অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। অপরদিকে Private land developer-রা লেক, জলাধার, জলাশয়, বন্যা প্রবাহ, পানি প্রবাহ,ইত্যাদির জন্য কোন ভূমি রিজার্ভ বা অক্ষুন্ন রাখেনি। এমনকি আইন মোতাবেক আবশ্যিক(mandatory)২০% ভূমি(রাস্তাসহ ৩০%) ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য রাখার কথা তার সিকিভাগ তথা ৫% ভুমিও রিজার্ভ বা অক্ষুন্ন রাখেনি। কোন কোন Private land developer-এর প্রকল্পে এই ২০% ভূমির পরিমান(যা সম্পূর্ন অবিক্রয়যোগ্য) হবে প্রায় ১(এক)হাজার একর বা তারও বেশী, যা তারা বিক্রী করে ফেলেছে। তাদের দর অনুযায়ী এই ১(এক)হাজার একর জমির মূল্য কাঠা প্রতি গড় মূল্য ৫০লাখ টাকা হিসাবে প্রায় ৩০,০০০কোটি টাকা(ত্রিশ হাজার কোটি টাকা)বা তারও বেশী।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, স্যুয়্যারেজ, নিরাপত্তা, ইত্যাদি বাবদ এরা( Private land developer-রা) ক্রেতার নিকট থেকে যে টাকা(মোট কয়েক হাজার কোটি টাকা) নেয়, তার এক দশমাংশ টাকাও তারা ব্যয় না করে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাৎ করে। শুধু তাই নহে কোন কোন ডেভেলপার রাস্তা-ড্রেন-ব্রীজ-কালভার্ট-স্যুয়্যারেজ, ইত্যাদির টাকা, যার পরিমান কয়েক হাজার কোটি টাকা, পূরো আত্মসাৎ করে।  ক্রেতারা এব্যপারে কিছুই বলেনা বা বলার সাহস পায়না। তার কারন ক্রেতারা রাজার অধীনে প্রজা হয়ে যায়, ডেভেলপারদের স্থানীয় মাস্তান বাহিনী থাকে, উপরন্তু ক্রেতাদের সবচাইতে বড় দুর্বলতা কম রেজিস্ট্রেসন ফি, কালো টাকা, (বৈধ হলেও আয়কর ফাঁকি দেওয়া, যা কালো টাকা), ইত্যাদি।

এখানেই শেষ নহে।এদের অনেকেই বহু একর, এমনকি শত শত একর খাস জমি দখল/আত্মসাৎ করেছে, যার মূল্য তাদের দর অনুযায়ী হাজার হাজার কোটি টাকা। যে সলল পানির ধারক জলাধার তারা ভরাট করেছে বা এখনও করছে, তা দেখলে যেকোন সাধারন মানুষের প্রান কাঁদবে, মর্ম স্পর্শ করবে। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকার মালীক হয়েও ঢাকাবাসী/যাতায়াতকারী কোটি কোটি লোকের জীবনের ক্ষতি করে, জীব বৈচিত্র ধ্বংস করে তারা(Private land developer-রা) যা করছে, এক কথায় তা নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা।

Related posts