ঘুষ : বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বাংলাদেশের ১৬কোটি মানুষের সকলের সমানভাবে প্রয়োজন। কিন্তু কতজন কত সন্তোষজনকভাবে পেয়েছে, পেয়ে কত সন্তোষজনকভাবে তা ব্যবহার করতে পারছে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি তা তারা নিজেরাই জানে। যারা এখনও পায়নি, পাওয়ার জন্য তাদের যে আকুতি তা তারা এবং সৃষ্টিকর্তাই জানেন। সে আকুতির তীব্রতা লিখে শেষ করা যাবেনা।

কেরোসিনের, মোমের, ইত্যাদির বাতির বিপরীতে বিদ্যুতের ব্যবহার এবং নানামুখী প্রয়োজন ও ব্যবহার যেমন বানিজ্যিক ও শিল্প কারখানার ব্যবহার মানুষকে তা(বিদ্যুৎ)পাওয়ার জন্য অদম্য করে তোলে বা তুলেছে। লাকড়ী বা অন্যভাবে রান্নার তূলনায় গ্যাসের ব্যবহার এককথায় আরামদায়ক ও রাজকীয়। পানি জীবনধারন, জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য্য। কিন্তু অস্বাভাবিক জনসংখ্যার দেশে এগুলোর সবকিছুরই আকাল।(প্রচুর পানি থাকলেও ওয়াসা, ইত্যাদি কর্তৃক processed ব্যবহার্য্য বা পানীয় জলের অভাব)।

এগুলোর সবকিছুর ঘাটতি হলেও মানুষের অর্থ ও পাওয়ার আকাংখার কোন ঘাটতি নেই। ফলে যে চূলার মাসিক বিল ২০০-৩০০টাকা ছিল, সে চুলার সংযোগের জন্য গ্রামের মানুষ ১-২লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে। এঘুষের বিপরীতে তারা সংযোগ পেয়েছে, ব্যবহার করছে, বৈধ হয়নি, মাসে মাসে চাঁদা নিচ্ছে। এভাবে বছরে কয়েকহাজার কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হচ্ছে ও গ্যাস বিক্রী হচ্ছে, যার মূল্য সরকারের ঘরে যাচ্ছেনা। কিন্তু তারপরও মানুষ খুশী। কেননা কোন উচ্চবাচ্য করলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, উল্টো জেল জরিমানাসহ ঘুষের টাকা শেষ। আরামদায়ক ও বিলাসবহুল উপায়ে রান্না শেষ। এসবকিছুর মূলে অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যা। বাংলাদেশে কয়েকলাখ লোক পাওয়া যাবে যারা একটি ম্যাচের কাঠি অথবা চুলার নষ্ট সুইচের অসুবিধার জন্য সারাক্ষন গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখে।

ছোট বেলায় রূপকথার গল্প বা কিসসায় শুনেছি, দৈত্যকে কাটলে এর প্রতি ফোঁটা রক্তে আরও একটি করে দৈত্যের সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস এই utilities-এর যে ঘাটতি ও অস্বাভাবিক চাহিদা, তা পূরনের জন্য সেবা দাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে যে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়, তাতে রূপকথার গল্পের মত হাজার হাজার লাখ লাখ দৈত্যরূপ দুর্নীতির জন্ম হয়। রূপকথার নায়ক জিতে, কিন্তু বাস্তবের দৈত্য নিধনের পরিবর্তে অস্বাভাবিক অতিরিক্ত জনসংখ্যারূপ নায়ক তথা আমরা লাখ লাখ কোটি কোটি দৈত্যের সৃষ্টি করছি।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী সংখ্যক লোকসংখ্যার দেশ চীন ও ভারত। এদুটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুসারে আমাদের দেশের জনসংখ্যা হওয়ার কথা যথাক্রমে ২.১৪কোটি ও ৫.৭০কোটি। যদি ৫.৭০কোটিও হত তাহলে চিন্তা করুনতো আমাদের দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির চাহিদা ও অবস্থা কি হত?

Related posts