চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ

সরকারী চাকুরীতে অন্যত্র বদলীর আবেদনে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করতে চায়না। সুপারিশ করলেও proper substitute-এর শর্তে। সুপারিশ করতে না চাওয়ার পিছনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল এই যে, অভিজ্ঞ আবেদনকারীকে কর্তৃপক্ষ বা দেশের স্বার্থে তথায় প্রয়োজন। কিন্তু এ আবেদনকারীই একসময়ে তদবীর করে বা স্বাভাবিকভাবে বদলী হয় এবং একসময় অবসরও গ্রহন করে। এতে প্রমানিত হয় যে, কারও জন্যই পৃথিবীর কোন কিছুই অচল হয়ে যায়না বা থেমে থাকেনা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের একজন সহকারী প্রকৌশলীর কারিগরী দায়িত্ব আর সচিবের অকারিগরী দায়িত্ব আকাশ পাতাল ব্যবধান। একজন সহকারী প্রকৌশলীকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনে যে কারিগরীজ্ঞান বা মেধার প্রয়োজন হয়, একজন সচিবের অকারিগরী দায়িত্ব পালনে তার কোটিভাগের একভাগের মেধারও  প্রয়োজন হয় না।

সচিবসহ অনেক প্রশাসনিক পদে extension প্রদান করা অধঃস্তনদেরকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করাই নহে, এতে বহু অনিয়ম-দুর্নীতির সৃষ্টি করে। স্ত্রীর নামে কয়েকলাখ বা এক-দেড়কোটি টাকার প্লট অন্যায়ভাবে নিলেও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদার আমলে অনেক জলাধার-পানি/বণ্যাপ্রবাহ এলাকা ভরাট বন্ধ ছিল। ১৯৮৭সাল থেকে ২০১৪সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত যে জলাধার-পানি/বণ্যাপ্রবাহ এলাকা অক্ষুন্ন ছিল, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের এমনই গুন যে, ২০১৪সালের মার্চ-এপ্রিল থেকে পরবর্তী কয়েকমাসে তার বহুগুন জলাধার-পানি/বণ্যাপ্রবাহ এলাকা ১০০০%(শতকরা এক হাজার ভাগ) অবৈধভাবে ভরাট করে কয়েকলাখ কোটি টাকার পরিবেশ ধ্বংস করা হয়।

প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে ড: সাদত হুসেইন একটি টিভি live talkshow-তে বলেছেন যে, যাদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তাদেরকে গডফাদার(এখানে  যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তাকারী) বলেছিল যে, “এজন্য কি তোমাকে সেখানে বসানো হয়েছে?” আর এটাই স্বাভাবিক। নিয়োগকারী গডফাদারের অবৈধ স্বার্থ রক্ষার জন্যই সিংহভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়। এটা প্রায় সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

Related posts