মাননীয় এমপিদের অজ্ঞতা(ignorance), মূর্খতা (foolishness) প্রসঙ্গে।

অভিধানে অজ্ঞতা(ignorance) ও  মূর্খতার(foolishness) বহু অর্থ আছে। সাধারনভাবে অজ্ঞতা হচ্ছে কোন বিশেষ কিছু না জানা। যেমনঃ কোন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে কিছু না জানা মানে ডাক্তারের অজ্ঞতা এবং vice versa. সাধারনভাবে মূর্খতা হচ্ছে ২(দুই) প্রকার। প্রথমত লিখা পড়া না জানা লোককে মূর্খ বলে। আবার যা জানা দরকার বা জানা থাকা উচিত তা না জানা হচ্ছে মূর্খতা বা বোকামী। শিক্ষিত বা লিখা পড়া  জানা লোকের মধ্যেও অনেক মূর্খ বা বোকা লোক আছে বা থাকতে পারে। আবার অশিক্ষিত বা লিখা পড়া  না জানা লোকের মধ্যেও অনেক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান লোক আছে বা থাকতে পারে। একজন ডাক্তারের ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে কিছু না জানা স্বাভাবিক। তবে যদি তিনি জানেন তা তার বিশেষ গুন। না জানা বোকামী বা মূর্খতা নহে এবং vice versa.

একইভাবে আইনসহ সকল বিষয়ে উপরের যুক্তি সমানভাবে প্রযোজ্য। কোন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজ্ঞ, প্রভৃতি সবাই তাদের নিজস্ব বিষয়ের অতি ক্ষুদ্র অংশমাত্র জানেন। এ না জানাটা তাদের অজ্ঞতা হতে পারে, মূর্খতা নহে। আইনস্টাইন বলেছেন তিনি জ্ঞানের সাগরে একটি নূড়ি পাথর ছুঁড়েছেন মাত্র।

মাননীয় প্রধান বিচারপতি আমাদের দেশের মাননীয় এমপি(সাংসদ)দেরকে আইন বিষয়ে অজ্ঞ বলেছিলেন(সংবাদ পত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী)। এজন্য সংসদে ও মন্ত্রি সভার বৈঠকে আলোচনা-সমালোচনা হয়। এমপিরা আইন বিষয়ে অজ্ঞ এটা বলে প্রধান বিচারপতি কি অন্যায় করেছেন বা এমপিরা  আইন বিষয়ে অজ্ঞ-এতেই বা অন্যায় কি? কারন এমপি সাহেবরা সব কিছু জানবেন না এটাই স্বাভাবিক। আবার যখন কোন আইন প্রনয়ন করবেন, তখন এমপিদেরকে অবশ্যই particular সে বিষয়ে জানতে হবে বা জ্ঞান থাকতে হবে। প্রধান বিচারপতি সেকথাই বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি(প্রধান বিচারপতি) এমপিদেরকে  মূর্খ বলেননি। যদিও আমাদের দেশের অনেক এমপির(সবাই নহেন) কার্য্যকলাপ মূর্খতার(অশিক্ষিত)পর্য্যায়ে পড়ে।

আমাদের দেশের অনেক এমপি আছেন তারা যদি কিছু আইন সম্পর্কে জানতেন, বা জানার চেষ্টা করতেন, তাহলে নিজেরা অনেক লাভবান হতেন, দেশও অনেক লাভবান হত। তাদের যাদের বিরুদ্ধে নানা অবৈধ তদবীর, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, কাবিখা, কাবিটা, ইত্যাদির নানা অভিযোগ আছে এবং সেসকল অভিযোগ যদি সত্যি হয়ে থাকে এবং সেসকল খাত থেকে যে পরিমান অবৈধ অর্থ তারা(যারা এসব করেন, যদি সত্যিই করে থাকেন) উপার্জন করেন, সামান্য আইন জানলে বৈধ উপায়ে তার চেয়ে বেশী অর্থ-সম্পদ উপার্জন সম্ভব এবং দেশের জন্য বহু বহু গুন অর্থ-সম্পদ উপার্জন সম্ভব।

Related posts